kalerkantho


জাপানে তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে

গবেষণায় অংশ নিতে জাপান যাচ্ছে সামসুল হক খান স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৫:৫৭



গবেষণায় অংশ নিতে জাপান যাচ্ছে সামসুল হক খান স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিতে চলতে নতুন নতুন তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার বিকল্প নেই। প্রথমারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণা করার সুযোগ করে দিতে গত ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সোমবার জাপানের  স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়  হিতোতসুবাসি ইউনিভার্সিটি জাপানের সাথে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত করে।

'ইনোভেশন ল্যাব এবং  একচেঞ্জ প্রোগ্রাম' ওপর এই  চুক্তির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলী স্কিল ডেভলপমেন্টে জাপানের ঐ  বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন  আইটি ট্রেনিং ও তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক  বিভিন্ন গবেষণায় সুযোগ পাবে।  পাশাপাশি জাপানের শিক্ষার্থীও বাংলাদেশের কালচার ও  বিভিন্ন বিষয়ে  স্টাডি করবে এবং  প্রতিষ্ঠানটিতে একটি ইনোভেশন ল্যাব প্রতিষ্ঠিত হবে।

চুক্তিটিতে স্বাক্ষরিত  করেন Mr. Seiichiro Yonekura (Ph.D)  প্রফেসর ইন্সটিটিউশন অফ ইনোভেশন রিসার্চ, হিতোতসুবাসি ইউনিভার্সিটি জাপান এবং  সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা।  এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাপানের একটি প্রতিনিধি দল। এবং দুই দেশের কোঅরডিনেটর ব্যাকবন লিমিটেড এর সিইও  মিঃ মাহিন মতিন।

প্রায় পনের হাজার শিক্ষার্থীর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে  এক একর জমির উপর সুবিশাল ক্যাম্পাসে সুশৃঙ্খল ভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।  লেখাপড়ার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্কাউটিং, ডিবেটিং, সাইন্স ক্লাব,  ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবস বিভিন্নসহ শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে জড়িত রয়েছে। ২০১৭ সালে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৮জন স্কাউট বাংলাদেশ স্কাঊটসের সর্বোচ্চ পদক  প্রেসিডেন্টস স্কাঊট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।      

হিতোতসুবাসি ইউনিভার্সিটি জাপান এর প্রফেসর Mr. Seiichiro Yonekura বলেন,বাংলাদেশ অনেক সম্ভাবনাময়। এদেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা অনেক প্রতিভা সম্পন্ন। তাদের উৎসাহ উদ্দীপনা দেখে আমি মুগ্ধ। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে দুই দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইডিয়া ও ইনোভেশন আদান প্রদানের একটি সুযোগ হল। আশাকরি তরুন শিক্ষার্থী এই  প্লাটফর্মটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্ঞান অর্জনের আরও বেশি সুযোগ পাবে।

গত সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কলেজ প্রাঙ্গনে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী  ফুল দিয়ে বরণ করেন জাপানের এই প্রতিনিধি দলকে।  প্রথম বারের মত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা ও  তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে জ্ঞান অর্জনের  এমন একটি সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরা অনেক আনন্দিত।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ  ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষার শিক্ষিত করে তোলা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমাদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি  সব সময়  প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি  বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহ দিয়ে থাকি। আজকের এই দিনটি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বিশেষ দিন আমাদের গৌরবের দিন। আমাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলীরা জাপানে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা কাজে সুযোগ পাবেন। দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও  আমাদের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করতে পারবেন বলে আশা করি।  প্রফেসর Mr. Seiichiro Yonekura আমাদের অ্যাডভাইসর হিসাবে কাজ করবেন।   আমাদের আইসিটি ল্যাব,  বিজ্ঞান ল্যাবের পাশাপাশি এই ইনোভেশন ল্যাব আমাদের শিক্ষার্থীদের আরও বেশি দক্ষ করে তুলবে।

চুক্তি সমন্নয়কারী ব্যকবন লিমিটেডের সিইও আব্দুল মাহিন শেখ বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের উপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। ইনোভেটিভ আইডিয়া ও তথ্য প্রযুক্তির  বিভিন্ন গবেষণার মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যপুস্তকের  জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ করতে পারে।  জাপানের হিতোতসুবাসি ইউনিভার্সিটির সাথে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের  এই ইনোভেশন ল্যাবের চুক্তি আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশে অপরিহার্য ভুমিকা পালন করবে বলে আমি আশাবাদী।

তিনি বলেন, এই আনন্দঘন বিশেষ মুহূর্তের সাথে নিজেকে যুক্ত করতে পেরে আমি অনেক বেশি আনন্দিত।  তিনি আরও বলেন, ব্যকবন লিমিটেড সারা দেশে ই এডুকেশন নিয়ে কাজ করে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচির বিষয়বস্তুকে সহজ ও সুন্দর করে উপস্থাপনের জন্য আমাদের রয়েছে ব্যাকবন এডু ট্যাব। যার মাধ্যমে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তিচ্চু শিক্ষার্থীরা  সঠিক দিক নির্দেশনা পেতে পারে।  ব্যকবন লিমিটেড সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল ভবিষ্যতেও থাকবে।

 


মন্তব্য