kalerkantho


রকমারি পণ্য নিয়ে বসন্ত মেলা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০২:২৭



রকমারি পণ্য নিয়ে বসন্ত মেলা

ছবি: কালের কণ্ঠ

গুণগতমানের সূতা, রং আর বাহারি ডিজাইনের নকশায় প্রতিটি তাঁতের ও জামদানি শাড়িতে রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। সৌন্দর্য্যে প্রতিটিই যেন শ্রেষ্ঠ। পিছিয়ে নেই নকশিকাঁথাগুলোও। সুঁই সুতার সূক্ষ্ম কাজে গ্রাম বাংলার রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাটজাত হস্তশিল্প, আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত মধু, বিভিন্ন ধরনের খাবার, হস্ত ও কুটির শিল্পজাত পণ্যও বিক্রি হচ্ছে।

এসব রকমারি দেশি পণ্য পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত রাজধানীর মতিঝিলের বিসিক ভবনে গতকাল ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের বসন্ত মেলায়। একই সঙ্গে জয়নুল আবেদিন প্রদর্শনকক্ষে কারুশিল্পীদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে চলছে কারুশিল্প প্রদর্শনী।

বিসিক নকশা কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের উৎপাদিত পণ্যের পরিচিতি ও ক্রেতা সংগ্রহে বিসিক এ মেলার আয়োজন করেছে। মেলায় অংশ নেয়া অধিকাংশই দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা উদ্যোক্তা। বিসিক নকশা কেন্দ্রে বস্নক, বাটিক প্রিন্টিং, স্ক্রিন প্রিন্টিং, পুতুল তৈরি, মৃত্ শিল্প, প্যাকেজিং, বাঁশ-বেতের কাজ, পাটজাত হস্তশিল্প, চামড়াজাত পণ্য, ধাতব শিল্প, বুনন শিল্প, ফ্যাশন ডিজাইন ও ক্রিত্তিম ফুল ইত্যাদি ১৩টি ট্রেডে এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৭৮২ জন উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের মধ্য থেকে মেলায় অংশগ্রহণ করেছে।

মেলায় অংশ নেয়া রাজধানীর ওয়ারী থেকে আসা ইরা ফ্যাশানের মালিক এলিনা রাহি ইরা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'মেলায় প্রথম দিনেই ক্রেতা আসছে। বড় বড় মেলায় অংশ নেয়া আমাদের মত উদ্যোক্তাদের পক্ষে অনেক সময় সম্ভব হয় না। আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি বিসিক আয়োজিত এসব মেলায় অংশ নিতে। এসব মেলায় আরো প্রচারের প্রয়োজন। এতে ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে। আমাদের মত স্বল্প পুঁজির উদ্যোক্তারা উপকৃত হব।'

বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলা ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিকের পরিচালক (নকশা ও বিপণন) মো. রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধান নকশাবিদ মনোয়ারা খাতুন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও মেলায় অংশগ্রহণকারী কারুশিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, কুটির ও হস্তশিল্প খাতের পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির জন্য মেলায় ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী আকর্ষণীয় নতুন নতুন ও মানসম্পন্ন পণ্যসামগ্রী উত্পাদনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে বিসিক থেকে কারুশিল্পীদের সম্ভাব্য সকল প্রকার সেবা-সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা যদি অর্থাভাবে শিল্প স্থাপন না করতে পারেন তাহলে বিসিকের নিজস্ব তহবিল ঋণ কর্মসূচির আওতায় এসব উদ্যোক্তাদেরকে ঋণ সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ক্রেতাদের কাছে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে কারুশিল্পরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, এখানে বিক্রি হওয়া পণ্যের দাম বাজারের তুলনায় কম। ক্রেতারা নিজস্ব পণ্যের প্রচারে গুণগতমানের পণ্য বিক্রি করেছে। ক্রেতা আকর্ষণে উৎপাদিত পণ্যের দাম কিছুটা কম রাখছে। জামদানি শাড়ি পাঁচ হাজার টাকায় এবং তাঁতের শাড়ি তিনশ থেকে আড়াই হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

নকশী কাঁথা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা দামে। খাঁটি ও উন্নতমানের মধু বিক্রি হচ্ছে বাজার মূল্যে চেয়ে ২০/৪০ টাকা কম দামে। হস্ত ও কুঠির শিল্পের পণ্যের চাচিদা রয়েছে। মেলায় ৫১টি স্টল আছে। মেলা চলবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


মন্তব্য