kalerkantho


নিউ মার্কেট-গাবতলী

‘দেড়টা-দুইটা বাজুক দেখবেন যানজট কাকে বলে’

শওকত আলী   

১১ জুন, ২০১৮ ১৯:১২



‘দেড়টা-দুইটা বাজুক দেখবেন যানজট কাকে বলে’

নিউ মার্কেট ফুটওভার ব্রিজের নিচ থেকে গতকাল রবিবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে বাসে ওঠার পরই রাস্তার ভোগান্তি চিন্তা করে একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। প্রচণ্ড যানজটে কয়েক দিন ধরে নগরীর রাজপথ থেকে গলি-উপগলি পর্যন্ত সর্বত্র স্থবির হয়ে থাকছে। যানজটে স্থবির নগরে মিরপুর রোড ধরে গন্তব্য গাবতলীতে পৌঁছতে না জানি সন্ধ্যা হয়ে যায়! ভাগ্য ভালো বলতে হবে, মাত্র ৩৬ মিনিটেই বাসটি গাবতলীতে পৌঁছে গেছে।

যানজটের দুর্বিষহ ভোগান্তি ও নেপথ্য কারণগুলো সরেজমিনে দেখতে গতকাল গুলিস্তান-ধামরাই রুটের বাসটির যাত্রী হন কালের কণ্ঠ’র এই প্রতিবেদক। নিউ মার্কেট থেকে মাত্র এক মিনিটে বাসটি ঢাকা কলেজ পার হয়ে সায়েন্স ল্যাবের সিগন্যালে থেমে যায়। এক মিনিটের মধ্যেই সিগন্যাল ছেড়ে দিল। গাড়ির জটের কারণে সেখান থেকে সিটি কলেজের সামনে পর্যন্ত পৌঁছতে বাসটির আরো এক মিনিট সময় লাগল। এখানে দ্রুতই যাত্রী ওঠানামা শেষে বাসটি আবার চলতে শুরু করল। পরবর্তী স্টপেজ ল্যাবএইডের সামনে এসে থামল। ল্যাবএইড থেকে ধানমণ্ডি মাঠের কোনা পর্যন্ত রাস্তায় যানজটের আলামত না দেখে স্বস্তি বোধ হলেও রাস্তার বিপরীত পাশে গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল থেকে সিটি কলেজ পর্যন্ত সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

কলাবাগান ও সংশ্লিষ্ট অংশে টুকটাক যানজট লেগে থাকাটা নিত্যদিনের চিত্র। তার রেশ ৩২ নম্বর হয়ে একেবারে ২৭ নম্বর পর্যন্ত চলতে থাকে। হঠাৎ এই রাস্তাটুকু ফাঁকা পেয়ে মনটা আনন্দে ভরে গেল। কারণ ল্যাবএইড থেকে যাত্রা শুরু করে ধানমণ্ডি মাঠের কোনা, কলাবাগান ও ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে থেমে যাত্রী ওঠানামা করানোর পরও ঢিমেতালে চলা বাসটি মাত্র ৮-৯ মিনিটে ২৭ নম্বরের সিগন্যাল পেরিয়ে গেল। তার পরও কি ভয় কাটে। কারণ এর পরের ভোগান্তি তো শুরু হয় কলেজগেট থেকে শ্যামলী হয়ে কল্যাণপুর পর্যন্ত। তবে ভাগ্যটা নেহায়েতই ভালো ছিল। নয়তো এমন ঢিমেতালে চলেও এত দ্রুত এই জায়গাগুলো পার হওয়া সম্ভব ছিল না।

পাশের সিটে বসা ছিলেন মাঝবয়সী আলমগীর হোসেন। জানা গেল, তিনি সপ্তাহে দু-তিন দিন এই রাস্তায় যাতায়াত করেন। যানজট প্রসঙ্গে কথা উঠতেই বললেন, ‘নিত্য দিন যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হয়। গাড়ি তো চলেই না। এখন তো দুপুর সাড়ে ১২টা বাজে। দেড়টা থেকে ২টা বাজতে দিন। তারপর দেখবেন যানজট কাকে বলে, রাস্তায় আর গাড়ি চলতে পারে কি না।’

এরপরের রাস্তাটুকু ভালোই ছিল। শুধু টেকনিক্যালে ৫-৬ মিনিটের মতো স্থবির হয়েছিল গাড়িগুলো। এরপর দ্রুতই গাবতলী পৌঁছে যাওয়া যায়। গাবতলী পৌঁছার পর দেখা গেল ঘড়িতে সময় ১২টা বেজে ৪১ মিনিট। অর্থাৎ নিউ মার্কেট থেকে গাবতলীতে পৌঁছতে মাত্র ৩৬ মিনিট সময় লেগেছে। যানজটের কবলে পড়লে এই ভ্রমণ কয় ঘণ্টা স্থায়ী হতো তা বলা মুশকিল।

এদিকে গাবতলীতেও রাস্তার ওপর দূরপাল্লার বাসগুলোর খুব একটা জটলা লক্ষ করা যায়নি। যে কারণে শহরতলীর গাড়িগুলো কোনো বাধা ছাড়াই বেরিয়ে যাচ্ছিল।

এর একটু পরই আবার গাবতলী থেকে যমুনা ফিউচার পার্কের উদ্দেশে অছিম পরিবহনের একটি বাসে পুনরায় যাত্রা শুরু ১২টা ৫০ মিনিটে। টেকনিক্যাল পার হতেই প্রায় ১০ মিনিট লেগে গেল। মিরপুরের ভেতর দিয়ে বাসটি যাবে। ভাবতেই আবারও মনের মধ্যে ভয় ঢুকল। কিন্তু বাংলা কলেজের সামনে দিয়ে বাসটি সনি সিনেমা হল, মিরপুর-১, মিরপুর-২ হয়ে কম সময়েই মিরপুর ১০ নম্বরে পৌঁছে যায়। তবে এরপর একটু ঝক্কি পোহাতেই হলো। মেট্রো রেলের কাজের কারণে মিরপুর-১০ থেকে ১২ নম্বরে যেতেই প্রায় আধ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এর পরের পথটুকু আবার সেই একই রকম জটহীন। যে কারণে ডিওএইচ চত্বর, ইসিবি চত্বর দিয়ে বেরিয়ে ফ্লাইওভার দিয়ে দ্রুতই এয়াপোর্ট রোডে পড়ে। এরপর আবার ফ্লাইওভার হয়ে বিশ্বরোড। সেখান থেকে বসুন্ধরা গেট। সময় তখন ২টা বেজে ৮ মিনিট। অর্থাৎ গাবতলী থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক বা বসুন্ধরা পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা ১৮ মিনিট।


মন্তব্য