kalerkantho


'সিসিটিভির আওতায় এখন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ২২ কিলোমিটার'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ জুন, ২০১৮ ২২:২১



'সিসিটিভির আওতায় এখন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ২২ কিলোমিটার'

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ মিজান শাফিউর রহমান জানিয়েছেন, সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার হতে নবীনগর জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার এলাকা এখন নিয়ন্ত্রিত হবে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে। 

আজ বুধবার দুপুরে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার হতে নবীনগর জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার এলাকায় স্থাপিত সিসিটিভি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় কালের কণ্ঠকে তিনি এ কথা জানান।

এই প্রকল্প সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সম্পূর্ণ ভূগর্ভস্থ অপটিক্যাল ফাইবার দ্বারা স্থাপিত। এই প্রকল্পে ১৩টি নিজস্ব পুল স্থাপন করে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ক্যামেরা নিজস্ব পাওয়ার ব্যাকআপ দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় লোডশেডিংয়ের সময় বন্ধ থাকার কোনো আশঙ্কা নেই।এ ই প্রকল্প সিকিউরিটি সার্ভিলেন্স যেমন- ট্রাফিক মনিটরিং, অবৈধ পার্কিং, সড়ক দুর্ঘটনা, সড়কে যেকোনো সহিংসতাসহ অপরাধ সনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, নিরাপত্তার ব্যাপারে নজরদারিসহ নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করে যানবাহনের নম্বর প্লেট, রাস্তায় ট্রাফিক কাউন্টিং, যানবাহনের গতির বিষয়ে তথ্য পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। ভবিষ্যতে এনআইডির সাথে একীভূত করে ফেস ডিটেকশন করা যাবে। অপটিক্যাল ফাইবার কোনো কারণে বিচ্ছিন্ন হলেও ক্যামেরার ‘ডাটা ক্যামেরা’র ভিতরে তিন দিন পর্যন্ত সংরক্ষ করা যাবে। ক্যামেরা কোনো ভাবে বিচ্ছিন্ন হলে কন্ট্রোল রুমে সয়ংক্রিয়ভাবে এলার্ম আসবে। 

এই প্রকল্পের সুবিধা সমূহের ব্যাপারে তিনি বলেন, জাতীয় দিবসসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্য সমূহে দেশি-বিদেশি ভিআইপিগণ জাতীয় সফর করে থাকেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমিনবাজার হতে নবীনগর জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার মহাসড়কে ভিভিআইপিগণের গমনাগমনকালে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদান করা সম্ভব হবে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ঢাকা জেলার আমিনবাজার হতে নবীনগর পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পার্শ্বে ছোট-বড় বহু তৈরি পোশাক কারখানাসহ সাভার ট্যানারি শিল্পনগরী এলাকা রয়েছে। তৈরি পোশাক কারখানা এবং সাভার ট্যানারি শিল্পের বিভিন্ন প্রকার শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঢাকা-আরিচা এবং নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে দিনে গড়ে প্রায় ২০ জন ভিআইপি গমণাগমণ করেন। তাদের গমনাগমনকালে এই সিসিটিভি প্রকল্পের মাধ্যমে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদান করা সম্ভব হবে। 

তিনি আরো বলেন, আশুলিয়ায় ডিইপিজেডে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক কাজ করে। কর্মরত এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রকার অরাজকতাসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ প্রকল্পের মাথ্যমে ঢাকা-আরিচা অথবা নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে রোড ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই রোধ করা সম্ভব হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনের নম্বর প্লেট দেখে চোরাই গাড়ি উদ্ধার, সড়ক দুর্ঘটনাসহ  মহাসড়ক কেন্দ্রিক বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সনাক্ত ও দমন করা সম্ভব হবে। যানবাহনের গতির বিষয়ে তথ্য পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। ভবিষ্যতে এনআইডির সাথে একীভূত করে ফেস ডিটেকশন করা যাবে।

পুলিশ সুপার বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমিনবাজার হতে নবীনগর জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পার্শ্বে অবস্থিত ফিলিং স্টেশন সমূহের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা সম্ভব হবে। মহাসড়ক কেন্দ্রিক বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা, যেমন- গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও ও গাড়ি ভাঙচুরের সাথে জড়িতদের সনাক্তসহ গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।  ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ প্রকল্প। সাভার থানা এলাকায় ও আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে সহায়তা করবে। মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তৈরি পোশাক কারখানা ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের মানি স্কর্ট-এ নিরাপত্তা বিধানে সহায়তা করবে। 


মন্তব্য