kalerkantho


অবাক পৃথিবী

স্বর্গলাভের মিসরীয় মিথ

প্রাচীন মিসরীয়দের বিশ্বাস, স্বর্গে যেতে পেরোতে হয় অনেক ধাপ। মমি-পিরামিড থেকে শুরু করে তাই চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। জানাচ্ছেন নাঈম সিনহা

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



স্বর্গলাভের মিসরীয় মিথ

দুয়াত

মৃত্যুর পর স্বর্গে যেতে হলে আত্মাকে দুয়াত নামের একটি ধাপ পার হতে হয়। মিসরীয়দের বিশ্বাস, দুয়াত আকাশে। সেখানে ১২টি মাঠে আছে নীলকান্তমণিগাছ, আগুনের হ্রদ ও লোহার দেয়াল। বলতে গেলে পরকালের পুরো মানচিত্র এঁকে রেখেছে মিসরীয়রা। যাত্রাপথে মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে বসে আছে অপদেবতা, দৈত্য ও দানব। আছে সাপ ও কুমিরের আক্রমণ। এই মাঠ অতিক্রম করতে ব্যর্থ হলে আত্মাকে বিস্মৃতির অনন্তকালে পড়ে থাকতে হবে বলেই বিশ্বাস তাদের।

দেহের ক্ষয় তো হাতছাড়া স্বর্গ

মিসরীয়দের মতে, আত্মার দুটি অংশ। একটি ‘বা’ (ব্যক্তিত্ব) অন্যটি ‘কা’ (শরীর)। দুয়াতে ‘কা’ লড়াই করে, আর ‘বা’ পৃথিবীতে উড়ে বেড়ায়। রাতে ফিরে ‘বা’ যদি ‘কা’-কে চিনতে না পারে তাহলে শক্তি পাবে না। তাই ফেরাউনদের মমি বানানো হতো। নির্দিষ্ট সময়ের আগে দেহ ক্ষয়ে গেলে আত্মা স্বর্গে গেলেও কাজ হবে না।

মৃতের ভোজনবিলাস

মরে গেলেও আত্মার ক্ষুধা লাগবে। ক্ষুধার্ত অবস্থায় দুয়াত পার হওয়া কষ্টের ব্যাপার। তাই রাজা বা ফেরাউনদের সমাধিতে পুরোহিতরা মৃতের একটি মূর্তি তৈরি করতেন। ওটার মুখে-চোখে ছিদ্র থাকত, যা দিয়ে সময়মতো খাবার দেওয়া হতো।

মুক্তির জন্য পিরামিড

মৃত্যুর পর দেহ থেকে আত্মা মুক্ত হওয়ার পরে তাকে পরপারের পথ খুঁজতে হয়। মিসরীয়দের দুয়াত যেহেতু আকাশে, তাই উঁচু পিরামিড না বানালে আত্মা দুয়াতে পৌঁছতে পারবে না। উঁচু উঁচু পিরামিডের রহস্য এটাই।

স্বর্গযাত্রার সহকারী

ফারাওদের কবরে একা থাকতে হতো না। পছন্দের মানুষকে হত্যা করে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারতেন! তাঁদের পছন্দের মানুষ বা পশুকে তাই সমাধিস্থলে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হতো। এক ফারাও কবরে সাতটা সিংহ নিয়ে গিয়েছিলেন। দিজের নামের একজন তো ৫৬৯ জনকে হত্যা করেছিলেন।

দেবতার সঙ্গে দ্বন্দ্ব

মিসরীয়দের বিশ্বাস, পৃথিবী ও আকাশে একটি জলাধার রয়েছে। সেই জলরাশি অতিক্রম করার পরই দুয়াত। সেখানে যেতে দেবতাদের খেয়া মাঝিকে রাজি করাতে হবে। তবে সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে পুরোহিতরা মাঝিকে হুমকি দেওয়ার পরামর্শ দেন সংগীতের মাধ্যমে।

১২ দুয়ার

দুয়াতের ১২ দরজার প্রত্যেক পাহারাদারকে করতে হবে সন্তুষ্ট। এই যাত্রায় ফেল করা মানে আত্মার বিনাশ। পুরোহিতরা লিখেছেন কিভাবে কোন পাহারাদারকে খুশি করতে হবে। এমনই একটি দরজায় থাকবে দুই নারী। তারা আত্মাকে চুমু খেতে চাইবে। তখন তাদের ইসি ও নেফতিহেস নামে ডাকতে হবে। তা না হলে আত্মার নাক-ঠোঁট কাটা যাবে।

অসিরিসের সমাধি

অবিনশ্বর হওয়ার আরেকটি শর্টকাট আছে। মিসরীয়দের বিশ্বাস, আকাশে রোসেতাও বলে একটি স্থান আছে। সেখানে অসিরিস দেবতার দেহ রাখা। সেখানে পৌঁছতে পারলেও অবিনশ্বর হওয়া যাবে। পুরোহিতদের মতে, সেখানে আজ পর্যন্ত কোনো আত্মা যেতে পারেনি।

সূত্র : ইজিপশিয়ান মিথস ডট নেট


মন্তব্য