kalerkantho


মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা

প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটন করুন

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা

নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ৪৯ জন নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে ২৫ জন বাংলাদেশি। বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমানটিতে ৭১ জন আরোহী ছিল। পাইলট-ক্রুসহ আরোহীদের ৩৬ জন বাংলাদেশি এবং ৩৫ জন নেপাল, চীন ও মালদ্বীপের নাগরিক। নেপালের স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা। তবে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ন্ত্রণকক্ষের ভুল বার্তার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। পাইলটের কোনো গাফিলতি ছিল না। পাইলট ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তিন মিনিটের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড তাদের হাতে রয়েছে। ‘নেপালি টাইমস’ও বলেছে, অডিও রেকর্ড শুনে মনে হয়, নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ভুল বার্তা দেওয়ার কারণে ককপিটে দ্বিধায় পড়েন পাইলট।

প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কিছু সময় লাগলেও জানা যাবে, এ আশাই আমরা করছি। বাংলাদেশের এত বড় বিমান দুর্ঘটনা সাম্প্রতিককালে ঘটেনি। দেশের জন্য এ এক বড় শোকের ঘটনা। এর আগে বাংলাদেশের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৮৪ সালে, ঢাকা বিমানবন্দরে। সেবার ৪৯ যাত্রী নিহত হয়েছিল। নেপালে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁরা নিহতদের আত্মার শান্তি ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগেও।

ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিশ্চয় যাচাই করে দেখতে হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী জানিয়েছেন, তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আনুষঙ্গিক বিভিন্ন ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ও নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসে হটলাইন চালু করা হয়েছে। ইউএস-বাংলাও একটি জরুরি ফোনলাইন চালু করেছে। আহতদের চিকিৎসা ও লাশ আনার দায়িত্ব তারা নিয়েছে। পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানো ও মানসিকভাবে সংহত রাখার জন্য একটি কমিটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিযুক্ত করা হয়েছে।

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও নেপাল সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা করি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্যও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশবাসীর সঙ্গে আমরাও তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই।


মন্তব্য