kalerkantho


পঞ্চগড় ১ আসন

পুরনোদের ভিড়ে নতুন মুখের উঁকিঝুঁকি

সাইফুল আলম বাবু, পঞ্চগড়    

২৭ আগস্ট, ২০১৭ ১০:২৪



পুরনোদের ভিড়ে নতুন মুখের উঁকিঝুঁকি

পঞ্চগড়ের দুটি সংসদীয় আসনের একটি হলো পঞ্চগড় ১ আসন। এটি জাতীয় সংসদের ১ নম্বর আসন।

আগামী সংসদ নির্বাচনে কারা প্রার্থী হতে পারেন- স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এখনই আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

এ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলের নেতাসহ মনোনয়ন চাইছেন চারজন। একসময় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক, বর্তমানে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির একজন মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। আগামী নির্বাচনে জোট বা মহাজোটের সমীকরণ সামনে রেখে প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিতে প্রকাশ্যে কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশী নেই। বিএনপি ছাড়াও জোটভুক্ত সংগঠনের দুজন প্রার্থিতা চাইতে পারেন। তবে নিজেদের বলে পরিচিত আসনটিতে বিএনপির দলীয় প্রার্থী এক প্রকার চূড়ান্ত হয়ে আছে বলে নেতাকর্মীরা মনে করছে।

জানা গেছে, এ আসনটি পঞ্চগড় সদর, আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। গত নবম সংসদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মজাহারুল হক প্রধান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোটের বয়কটের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিয়ে প্রত্যাহার করে নেয়। তবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) সে সময় এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্বাচনে দলটির তখনকার কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানের কাছে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেক পরাজিত হন। নাজমুল হক প্রধান বর্তমানে বিভক্ত জাসদের (আম্বিয়া-প্রধান) সাধারণ সম্পাদক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ, ১৪ দলীয় জোট ও একসময়ের মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি থেকে আসনটিতে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেক। এর বাইরে সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিভাগীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক নাঈমুজ্জামান মুক্তা আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

জানা গেছে, জাসদের (আম্বিয়া-প্রধান) সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান সরকারি নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বোধন, সভা-সেমিনারে অংশ গ্রহণ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন। তুলনামূলক ছোট দল হলেও গত জেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে প্রার্থী দিয়েছিল দলটি।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছে, গত সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তে নাজমুল হক প্রধান মনোবল শক্ত রেখে ও কোমর বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ জন্য স্বল্পসংখ্যক নেতাকর্মীর জাসদের এ প্রার্থীর কাছে প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী হেরে যান। জাসদ ভাগ হলেও দুই পক্ষই জোটভুক্ত আছে ১৪ দলের সঙ্গে। জাতীয় রাজনীতির প্রয়োজনীয় সময়গুলোতে সমানতালে সক্রিয় থাকছে দলটি আম্বিয়া-প্রধান অংশটি। জোট-রাজনীতির কারণে আওয়ামী লীগের ওপর মহলের কমবেশি সবার সঙ্গেই আছে জাসদের এ অংশের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানের সুসম্পর্ক।

জাসদের (আম্বিয়া-প্রধান) নেতাকর্মীরা মনে করছে, গুরুত্বপূর্ণ আগামী সংসদ নির্বাচনটি জোটভুক্তভাবেই হবে। এ জন্য আসনটি নাজমুল হক প্রধানকেই ছেড়ে দেওয়া হবে বলে বদ্ধমূল ধারণা তাঁদের।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আসন্ন নির্বাচন স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির জন্য খুবই চ্যালেঞ্জের। এ জন্য নির্বাচন জোটগতভাবে হবে বলে মনে করি। আর জোটগতভাবে নির্বাচন হলে জাসদের কাছে থাকা এ আসন আবার জাসদকেই ছেড়ে দেওয়া হবে- এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। ' তবে সময়ই সব কিছু বলে দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান উঠোন বৈঠক, কর্মিসভা ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের সময়ে করা উন্নয়নমূলকসহ নানা ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরছেন তিনি। তাঁর অনুসারীদের ধারণা, সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ায় দলীয়ভাবে তিনি মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন।

এ প্রসঙ্গে মজাহারুল হক প্রধান বলেন, 'নেত্রীর নির্দেশে গত নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেও সেটা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম। নির্বাচন করে আমি হারিনি। বলা যায়, আমার মনোনয়ন এক প্রকার বহাল আছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় নেতারাও মাঠে কাজ করতে আমাকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। সে হিসেবে ভোটের প্রস্তুতিমূলক নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি। '

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, প্রথমে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও পরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আনোয়ার সাদাত সম্রাট। নেতাকর্মীদের মতে, নিজের কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তাঁর প্রয়াত পিতা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের স্বচ্ছ ব্যক্তি ইমেজই তাঁকে ভোটের মাঠে জয় এনে দেয়। পরে দলের কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সমান ভোট পাওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন।

তুলনামূলক বয়সে তরুণ আনোয়ার সাদাত সম্রাট জনপ্রিয়তা ধরে রাখার প্রচেষ্টায় সক্রিয়। সরকারের নানা উন্নয়নমূলক ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ড দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ জনসাধারণের সামনে তুলে ধরছেন। জেলা আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, 'পরপর দুই বার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে ভোটের রাজনীতির পরীক্ষায় আমি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছি। নেতাকর্মীদের সমর্থন থাকাতেই দলীয় পদ পেয়েছি। একই সঙ্গে দলে বর্তমানে তরুণদের রাজনীতিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রবণতা চলছে। এসব কিছু যোগ করলে আমার মনোনয়ন পাওয়ার যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে। এর পরও নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করব। '

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, আটোয়ারী উপজেলার বাসিন্দা ও দলের কেন্দ্রীয় বিভাগীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক নাঈমুজ্জামান মুক্তা এবার এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) পরিচালিত এটুআই (এক্সেস টু ইনফরমেশন) প্রকল্পে তিনি জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি একসময় ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর শাশুড়ি ফরিদা আখতার হীরা সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তাঁর স্ত্রী কাজী মৌসুমী সেনাবাহিনীর একজন পদস্থ কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটুআই প্রকল্পের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে নাঈমুজ্জামান মুক্তার বেশ সখ্য রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নানা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী সফরের সময় বন্যাদুর্গত দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ত্রাণ তত্পরতায় অংশ নেন তিনি। পঞ্চগড়ের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারাও নাঈমুজ্জামান মুক্তাকে সমীহ করেন। সরকারি আয়োজনে নানা কর্মসূচিতে তিনি অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন। গত আগস্টে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে 'বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী' গ্রন্থটি বিতরণ ও তা পাঠ পরবর্তী ‘লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করেন তিনি। নাঈমুজ্জামান মুক্তা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এলাকার তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নানাভাবে ভোটারদের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ রক্ষায় সক্রিয় আছেন। এ ছাড়া তিনি স্থানীয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন নানা সামাজিক ও অরাজনৈতিক কর্মসূচিতে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতাও গোপনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন ও উৎসাহ যোগাচ্ছেন।

মনোনয়ন প্রসঙ্গে নাঈমুজ্জামান মুক্তা দাবি করেন, '১৯৯৬ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি বিশেষ প্রকল্পে কাজ শুরু করে আজ অবধি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত আছি। ওয়ান ইলেভেনের সংকটকালে এইচটি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের মিডিয়া সেলে কাজ করেছি। এ জন্য পরে আমাকে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় উপকমিটির সহসম্পাদক রাখা হয়। ' তিনি বলেন, 'ওয়েবসাইটে স্থানীয় প্রায় ১৭ হাজার তরুণ আমার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে। এটুআই প্রকল্পসহ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছবার কাজ করছি। এসব বিবেচনায় যথোপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে আমি মনোনয়ন পাওয়ার যৌক্তিক প্রত্যাশা করি। '

জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেক বলেন, 'গত নির্বাচনে আসনটি আমাদের ছেড়ে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ না মেনে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা জাসদের হয়ে ভোট করায় আমি পরাজিত হই। এবার মহাজোট হিসেবে নির্বাচন হলে এখানে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আমিই একমাত্র দাবিদার ও হকদার। সে হিসেবে নির্বাচনে লড়তে মাঠে কাজ করছি। '

বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন চারজন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। এ ছাড়া জমিরউদ্দিনের ছেলে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রয়াত সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে বর্তমানে দলটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল খালেক মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, সাবেক স্পিকার ও তাঁর ছেলে বাদে যাঁরা মনোনয়নের প্রত্যাশা করছেন তাঁরা ততটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নন। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সাবেক স্পিকারই গত দুই নির্বাচনের আগের দুটি সংসদে নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। নবম সংসদ নির্বাচনে হেরে গেলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া বগুড়ার একটি আসনে উপনির্বাচনে জয়ী করে তাঁকে সংসদে ফিরিয়ে আনা হয়। এর আগেও এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য প্রয়াত মির্জা গোলাম হাফিজ জিতেছিলেন। এ জন্য আসনটি অন্য কারো কাছে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ ও সম্ভাবনা একেবারেই কম। এ হিসেবে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারই যে আসনটিতে বিএনপি জোটের মনোনয়ন পাচ্ছেন সেটি একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে আছে বলে নেতাকর্মীদের বদ্ধমূল ধারণা। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশে অন্য কোনো আসনে নির্বাচন করতে হলে বা বয়সের কারণে প্রবীণ এ নেতা মনোনয়ন না পেলে তাঁর ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদকে প্রার্থী করা হতে পারে।

জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ বলেন, 'এটা প্রায় শতভাগ নিশ্চিত যে বিএনপি নির্বাচনে গেলে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারই এ আসনে জোটের মনোনয়ন পাবেন। কিন্তু ম্যাডামের নির্দেশে (বিএনপি চেয়ারপারসন) তিনি দেশের অন্য কোনো আসনে নির্বাচন করলে বা বয়সের কারণে অনাগ্রহ দেখালে তাঁর পুত্র ব্যারিস্টার নওশাদ জমির নির্বাচন করবেন। এর বাইরে যে যত কিছুই বলুক তাতে কোনো প্রভাব পড়বে না। '

জাগপার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, 'জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের পঞ্চগড়ের দুটি আসনেই কাজ করতে বলেছেন। আমরা সে হিসেবে সংগঠন গুছিয়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে তত্পর হচ্ছি। তবে পঞ্চগড় ১ আসনটি আমাদের প্রথম পছন্দ। জোট রাজনীতিতে প্রয়াত পিতা শফিউল আলম প্রধানের অবদান ও ত্যাগ বিবেচনায় এ আসনে মনোনয়ন পাব বলে আশা করছি। '


মন্তব্য