kalerkantho


স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রথম আফ্রিকান সুপারহিরো 'ব্ল্যাক প্যান্থার'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৯:৪৫



স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রথম আফ্রিকান সুপারহিরো 'ব্ল্যাক প্যান্থার'

পর্দায় আসছে মারভেল কমিকসের নতুন চমক ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’। ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সসহ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেতে যাচ্ছে এই সুপাহিরো ছবি। এই প্রথম মারভেল আফ্রিকান সুপারহিরো নিয়ে ছবি মুক্তি দিতে যাচ্ছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রায়ান কুগলার। এ ছবিতে ব্ল্যাক প্যান্থারের ভূমিকায় আছেন চ্যাডউইক বোসম্যান। এছাড়াও, অন্যান্য চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন মাইকেল বি জরডান, লুপিতা নিয়োংও, আ্যান্ডি সার্কসসহ আরও অনেকে।

ব্ল্যাক প্যান্থার নামের এ আফ্রিকান সুপারহিরোকে প্রথম দেখা গিয়েছিল ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার ছবির পার্শ্বচরিত্রে। ছবির প্রযোজক কেভিন ফেইজ জানান, এখানে তাকে ক্যাপ্টেন আমেরিকা ও আয়রন ম্যানের মধ্যে ঝগড়া থামাতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ব্ল্যাক প্যান্থারের অস্তিত্ব মারভেলের কমিক বইতে আগেই ছিল।

১৯৬৬ সালে ফ্যান্টাস্টিক ফোরের ৫২তম ইস্যুতে এসেছিলেন এ সুপারহিরো। এরপর মারভেলের অন্যান্য কমিকেও তাকে দেখা যায়। দ্য অ্যাভেঞ্জার্সের পঞ্চম ইস্যু শুধু তাকে নিয়েই প্রকাশ করা হয় এবং জাঙ্গল অ্যাকশন সিরিজেও তাকে দেখা যায়। এবার ব্ল্যাক প্যান্থার রীতিমতো ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। গত ২৯ জানুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্ল্যাক প্যান্থারের প্রিমিয়ার শো দেখানো হয়।

প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সুপারহিরোকে আমেরিকানরা কীভাবে গ্রহণ করবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল নির্মাতাদের মধ্যে। কিন্তু ছবিটি দর্শকরা ভালোভাবেই গ্রহণ করেছে। কমিক বই থেকে সৃষ্ট ছবি যেন দিন দিন জনপ্রিয় থেকে আরো জনপ্রিয় হচ্ছে তার আরো একটি বড় উদাহরণ ব্ল্যাক প্যান্থারের টিজার। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৮৯ মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে টিজারটি। এর পাশাপাশি টুইটারেও দেখা গেছে ব্যাপক সাড়া। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৯০০০ বার টুইটারে ব্ল্যাক প্যান্থারের নাম উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, চলচ্চিত্র বিশ্লেষণ সংস্থা রটেন টম্যাটোসের জরিপে ব্ল্যাক প্যান্থার’ পেয়েছে শতভাগ ভালোর খ্যাতি। চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, মার্ভেল কমিকসের এই চরিত্রটি একই শিরোনামে বড় পর্দায় এসে রোমাঞ্চকর অনুভূতির এক নতুন উচ্চতা সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, গল্পের কিছু চরিত্রকে পুষ্টতা দিয়ে দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ছবিটি 'বিস্ময় জাগিয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে চমৎকার অনুভূতি ও বিচক্ষণতা।' এন্টারটেনমেন্ট উইলির মতে, এই চলচ্চিত্রটি 'খুব সূক্ষ্মভাবে গর্ব, আত্মপরিচয় এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার জয়গান গেয়েছে।'  ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’-কে মার্ভেল মুভিগুলোর মধ্যে সেরা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইন্ডিওয়ার।

বিজনেস ইনসাইডারের মতে, গত বছরের ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’-এর মতো এ বছর একটি ভালো ছবি পেলেন দর্শকরা। আর সেটি হলো, ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’। এমন ছবিটির জন্য বহু দশক অপেক্ষা করে থাকতে হয় বলে মন্তব্য করেছে পত্রিকাটি। ইউএস টুডে বলেছে, বহু বছরের উপনিবেশের ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে। আফ্রিকার বিচ্ছিন্নতার কারণগুলো এমন এক সময় খোঁজা হলো যখন সেখানকার দেশগুলো নিজেদের মধ্যে বিভেদের দেয়াল ভাঙ্গার পরিবর্তে তা গড়ে তুলতে ব্যস্ত রয়েছে।

ডেইলি বিস্ট লিখেছে, 'কালো মানুষদের জন্যে এটি একটি প্রেমপত্র।' রটেন টম্যাটোসের অভিমত, 'বৈচিত্র্যের প্রতি দীর্ঘদিনের যে অবজ্ঞা তা যেন শোধরানো হলো।'  উল্লেখ্য, ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ চলচ্চিত্রটিতে অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি আফ্রিকার গৌবরকেও তুলে ধরা হয়েছে।


মন্তব্য