kalerkantho


হেড অব এন্টারপ্রাইজ বিজনেস, রবি আজিয়াটা লিমিটেড

কাজকে ভালোবাসতে হবে

কেউ গানের জনপ্রিয় তারকা, কেউ বা অভিনয়ে মাতান দর্শক। কারো ক্ষেত্র আবার মডেলিং। এসব পরিচয়ের বাইরে তাঁরা চাকরিজীবী। কয়েকজন তারকা কর্মজীবীর গল্প শোনাচ্ছেন মাহতাব হোসেন ও আতিফ আতাউর

নোবেল, জনপ্রিয় মডেল   

১৪ জুন, ২০১৮ ১০:২৭



কাজকে ভালোবাসতে হবে

মডেলিংয়ের পরিচিত মুখ নোবেল। মডেলিংয়ের পাশাপাশি করপোরেট জগতে চাকরি করছেন ২০ বছরের বেশি সময় ধরে। বর্তমানে টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা লিমিটেডে কর্মরত আছেন হেড অব এন্টারপ্রাইজ বিজনেস হিসেবে। শুরুটা এনজিএইচ গ্রুপ দিয়ে। এরপর কোটস বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন ১৪ বছর। চার বছর কাজ করেছেন এয়ারটেলে। ২০১৪ সালে যোগ দেন রবিতে। এখানে কী দায়িত্ব পালন করেন? ‘রবির সঙ্গে অন্যান্য কম্পানির টেলিফোন কানেকশন নিয়ে কাজ করতে হয়। কোনো একটি গ্রুপে হয়তো কয়েক হাজার কর্মী কাজ করেন। তাঁদের জন্য টেলিফোন কানেকশনের কাজ করতে হবে। আমার বড় একটি টিম আছে, তাদের নিয়ে যাই। কম্পানিটির কতজন কর্মী আছে, তাদের কতটুকু ইন্টারনেট প্রয়োজন, সেই অফিসে নেটওয়ার্ক কাজ করবে কি না, এগুলোর দিকনির্দেশনা দিতে হয়। ফোন দিয়ে শুধু কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে ডিজিটাল মার্কেটিং, ফোনের সাহায্যে শপিং, ফোনে খেলা দেখার বন্দোবস্ত করে দেওয়ার মতো আধুনিক সেবা নিয়েও কাজ করতে হয় আমাদের।’

পেশাগত জীবনের সঙ্গে শোবিজজীবনের তাল মেলান কিভাবে? ‘চাকরির আগে থেকেই মডেলিং করি। যদিও এখন চাকরিই আমার প্রধান পেশা। সঙ্গে মডেলিং ও টুকটাক অভিনয় করি। পরিচালকরাও জানেন আমার চাকরির কথা। এ কারণে ছুটির দিনে তাঁরা শুটিংয়ের বন্দোবস্ত করেন। শোবিজে এখন খুব বেশি কাজ করি না। সপ্তাহের এক ছুটির দিনে শুটিং করলে পরের সপ্তাহে বিশ্রাম নিই। কারণ চাকরির জন্যও তো এনার্জি লেভেলটা ঠিক রাখতে হবে।’ বললেন নোবেল।

তারকা পরিচিতিটা কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক হয় কি না জানতে চাইল তিনি বলেন, ‘তারকা পরিচিতি পেশাগত জীবনে নানাভাবে সহায়তা করে। দেখা গেল আমার টিমের কর্মীরা কোনো বড় একটি অফিসের এমডির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছে। কিন্তু কোনো কারণে তারা সাক্ষাৎ করতে পারছে না। তখন আমাকে নিয়ে যায়। কাজটা তখন সহজ হয়ে যায়।’ বলেন নোবেল।

এমনও হয়েছে, কোনো অফিসে তিনি যাওয়ায় তাঁকে দেখে অবাক হয়েছেন সেখানকার কর্মীরা। হাত বাড়িয়ে জানতে চেয়েছেন, তিনি রবির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর কি না? হেসে জবাব দিয়েছেন, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর নন, রবির একজন কর্মকর্তা তিনি। তবে পরিচয়টা যে কাজের ক্ষেত্রে সব সময় সহায়ক হয়, তা-ও নয়। অনেক সময় মৃদু বিড়ম্বনারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ‘অনেকেই ছবি তুলতে চায়। এগিয়ে এসে কথা বলতে চায়। এতে কাজে ব্যাঘাত ঘটে। সময়ও অপচয় হয়। তবে আমি বিরক্ত হই না। ভালোভাবেই নিই বিষয়টা।’ বলেন নোবেল।

মুঠোফোন কম্পানিতে যাঁরা পেশাগত জীবন গড়তে চান, তাঁদের জন্যও পরামর্শ দিলেন তিনি—‘কাজটা ভালোভাবে জেনে, বুঝে তবেই এ পেশায় আসতে হবে। শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। কাজকে ভালোবাসতে হবে।’


মন্তব্য