kalerkantho


‘কিছু দুঃখ সবারই থাকে’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুন, ২০১৮ ১৬:৫৬



‘কিছু দুঃখ সবারই থাকে’

রাজিব ডিগ্রিতে পড়ে। তার পাশপাশি সে প্রতিদিন সকালে হকারি করে। হকারি শেষ করে সে একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে সেলসম্যানের কাজ করে। তারপর থাকে পড়াশোনা। জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য দিনরাত উদয়স্ত পরিশ্রম করে যায় রাজিব।

একদিন সকালে সে পেপার বিলি করতে গিয়ে দেখে একটি বাসার ছাদে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই মেয়েটিকে সে এর আগেও অনেকবার ছাদে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে। কিন্তু আজ মেয়েটি কার্ণিশে দাড়িয়ে আছে। যেনো ঝাপিয়ে পড়বে এমন ভাব। রাজিব চমকে উঠে। আরে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে নাকি। নীচ থেকে ডাকে। কিন্তু মেয়েটি শুনে না। রাজিব বাধ্য হয়ে ছাদে ছুটে যায়। কার্ণিশ থেকে মেয়েটিকে টেনে তোলে। মেয়েটি কোন কথা না বলে যেনো কিছুই হয়নি এমনভাবে তার ঘরে চলে যায়।

পরদিন রাজিবের সাথে আবারো মেয়েটির দেখা হয়। মেয়েটির নাম নীলা। তার বাবা মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। তার মা আরেক বিয়ে করেছে। বাবাও আরেক বিয়ে করেছে। নীলা তার সৎ বাবা আর মায়ের সাথে থাকে। তার সৎ বাবা মানুষ ভালো না। নানা রকম আজেবাজে লোক আসে তাদের বাসায়। এদেরে একজনের দ্বারা শিশুকালে নিপীড়নের শিকার হয়েছিল নীলা।

মা’কে বলেছিল সে সাথে সাথেই। কিন্তু মা কিছুই করেননি। তার ওপর নীলার জন্মদাতা পিতা কিছুদিন আগে মারা গেছে। সব মিলিয়ে নীলা খুবি ডিপ্রেসড থাকে। তাই সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। তার জীবনে এতো কষ্ট তার আর সহ্য হয় না।

রাজীব নীলাকে বলে সে নীলার কষ্টের গল্প জানে না, কিন্তু দুঃখতো সব মানুষের জীবনেই আছে। সে নীলাকে একটা দিন দেবার জন্য বলে সে দেখাবে মানুষ কিভাবে কষ্টের মধ্যেও সংগ্রাম করে আছে। হাসিমুখে। বিহারী ক্যাম্পের ১০০ স্কয়ারফিটে রাজিবের জীবন। সেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। সংসারে সে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। বাবা অসুস্থ আর মা টেইলারির কাজ করে। একটা বোন মানসিক প্রতিবন্ধ্বী। একটা ভাই ছোট। এদের সবার অন্নসংস্থান রাজিবকেই করতে হয়।

এতো দু:খ কষ্টের মধ্যে দিয়ে তবুও তারা বেচে থাকে। তার স্বপড়ব সে একদিন বড় হয়ে এদের জীবন আলোয় ভরিয়ে দেবে। এই এক আশা-ই তাকে তার জীবনের সব কষ্ট সহ্য করার আশ্চর্য্য ক্ষমতা দেয়।

নীলা তার জীবনের আশা  খুঁজতে থাকে...এবং পেয়ে যায় শেষমেষ.।  নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন - সাবিলা নূর, তাওসিফ প্রমুখ।

শিহাব শাহিনের রচনা ও পরিচালনায় নাটকটি জিটিভির ঈদ আয়োজনে ঈদের ৪র্থদিন রাত ৯টা ৩০মিনিটে প্রচার হবে।

 



মন্তব্য