kalerkantho


বড় অভিনেতার চেয়েও বড় মনের মানুষ ছিলেন

আলমগীর, চিত্রনায়ক

২২ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



বড় অভিনেতার চেয়েও বড় মনের মানুষ ছিলেন

রাজ্জাক ভাই মারা গেছেন আর আমার অনুভূতি শেয়ার করতে হচ্ছে—এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? মানুষের বিচারবুদ্ধি দেখেও লজ্জা লাগে। কারো মধ্যে সামান্যতম মনুষত্ব নেই! আমি হাসপাতালে কোথায় পরিবারটিকে সমবেদনা জানাব, তা না একের পর এক ফোন আসছে। আর সবাই জানতে চাচ্ছে আমার কেমন লাগছে, তাঁর সঙ্গে কাজের স্মৃতিগুলো কী কী! এর উত্তর কিভাবে দিতে হয়? কী দিতে হয়!

আজ বাপ্পী-বাপ্পা আর সম্রাটের বাবা হারিয়ে যেমন লাগছে, আমারও ঠিক তেমন লাগছে (চোখে পানি)। বাবা হারানোর পর একজন সন্তানের কী অনুভূতি হয় তা যাঁরা বাবা হারিয়েছেন তাঁরা জানেন। খবরটি শুনে পাথর হয়ে গিয়েছিলাম। প্রায়ই সম্রাটের কাছে রাজ্জাক ভাইয়ের খোঁজ নিতাম। সম্রাট খুব হাস্যোজ্জ্বলভাবে বলত, ‘আব্বু ভালো আছে। শুধু অভিনয়ে ফেরার চিন্তা। এত বারণ করছি কিছুতেই মানাতে পারছি না। এবার এসে একটু শাসন করে দিবেন।’ আমি যেতেও চেয়েছিলাম কিছুদিনের মধ্যে। তা আর হলো না (চোখে পানি)।

রাজ্জাক ভাই শুধু আমাদের সহকর্মী ছিলেন না। একটি পরিবারের মতো আগলে রেখেছিলেন আমাদের। বাসায় ভালো কোনো রান্না হলেই আমাকে ডাকতেন। লক্ষ্মী ভাবিকে চলচ্চিত্র পরিবারের এমন কেউ নেই যিনি জ্বালাননি। ভাবিও সাক্ষাৎ লক্ষ্মী। সব সহ্য করে গেছেন। আজ হাসপাতালে এসে যখন ভাবির মুখটি দেখলাম, বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠল। আমি কিছু বলতে পারিনি। কী বলব! সম্রাট যখন আমার বুকে মাথা রেখে কাঁদছিল, তখন বুকটায় পাথর বেঁধে রেখেছিলাম। অনেক কষ্ট হচ্ছিল, তবুও ওকে বুঝতে দেইনি। বরং মাথায় হাতের পরশ বুলাতে বুলাতে সান্ত্বনা দিয়েছি। ওকে বলেছি, এখন থেকে আমরাই তোমার অভিভাবক। কোনো চিন্তা করো না। সম্রাট না হয় আমার কথায় আশ্বস্ত হয়েছে। কিন্তু আমি কার কথায় আশ্বস্ত হব? কে আমাকে শাসন করবেন? কে আমাকে কারণে অকারণে বাসায় ডাকবেন?

রাজ্জাক ভাইকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি যত বড় অভিনেতা তার চেয়ে বড় মনের মানুষ। আমি, ফারুক ভাই, পারভেজ ভাই—কাউকে তিনি কোনো দিন পর করে দেখেননি। আমাদের ছবি যখন মুক্তি পেয়েছে অভিনন্দন জানিয়েছেন, শুভ কামনা জানিয়েছেন। প্রশংসা করেছেন হৃদয় উজাড় করে। এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি তিনি আমার আপন ভাই নন। আজ আমি আমার বড় ভাই, বাবাকে হারালাম। আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুন। আমিন।


মন্তব্য