kalerkantho


দ্রুত ফাঁসি কার্যকর চাইল রূপার পরিবার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দ্রুত ফাঁসি কার্যকর চাইল রূপার পরিবার

রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসী। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ী গ্রামের মৃত জেলহক প্রামাণিকের মেয়ে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে গতকাল সোমবার। এদিকে সকাল থেকেই রূপার বাড়িতে দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াত করা হয়।

স্বল্প সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করে রায় ঘোষণা করায় আদালত ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রূপার মা হাসনাহেনা (৬০)। ওই সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে রূপাকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি দ্রুততম সময়ে কার্যকর দেখে যেতে চাই।’

রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান টাঙ্গাইলের আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এ রায়ে আমি ও আমার পরিবার সন্তুষ্ট। তবে আমরা শিগগিরই ওই রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’ তাঁর সঙ্গে আদালতে থাকা রূপার ছোট বোন পপি খাতুন অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘অল্প সময়ে রায় দেওয়ায় আমরা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ। আরো কৃতজ্ঞ মামলাটির বিচারিক কাজের সঙ্গে যাঁরা জড়িত আছেন তাঁদের কাছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আইনের সব প্রক্রিয়া শেষ করে আসামিদের ফাঁসি কার্যকর হলেই আমার মৃত বোনের আত্মা শান্তি পাবে এবং আমরা খুশি  হব।’ রায় শোনার অপেক্ষায় গতকাল সকাল থেকেই তাড়াশের আসানবাড়ী গ্রামে রূপার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা টিভির সামনে ভিড় জমায়। তারা এই রায় শুনে সন্তোষ প্রকাশ করে। রায় ঘোষণার পর সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়ায় রূপা হত্যা মামলার রায় অল্প সময়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট।’

রূপার স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, তারা চায় এই রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।

গতকাল সকালে রায় ঘোষণা করেন টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়া। এতে পাঁচ আসামির মধ্যে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য একজনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডসহ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত বছর ২৫ আগস্ট শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে রূপাকে গণধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। পরে বাসেই তাঁকে হত্যার পর তারা মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে মরদেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ ওই রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রূপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরের দিন পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে তাঁর ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে রূপার লাশ শনাক্ত করেন।


মন্তব্য