kalerkantho


সব সূচকেই বড় অগ্রগতি জনতা ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



সব সূচকেই বড় অগ্রগতি জনতা ব্যাংকের

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম হলেও মুনাফা অর্জন এবং শ্রেণীকৃত ঋণের নিম্ন হারসহ বিভিন্ন আর্থিক সূচকের দিক থেকে শীর্ষস্থানে রয়েছে জনতা ব্যাংক লিমিটেড। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরভিত্তিক এই ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮০ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ৪৫ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। আমানতের পরিমাণ ৬৪ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। মোট জনবল ১২ হাজার ৩৯১ জন। একই তারিখে ব্যাংকের ক্যাপিটাল টু রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেট রেশিও (সিআরএআর) ১০.০২ শতাংশ। শ্রেণীকৃত ঋণের হার ১২.৭৪ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং এ প্লাস (অ+)।

গত বছর জনতা ব্যাংক এক হাজার ১৭১ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি, যা ২০১৬ সালের তুলনায় ১৬৭ কোটি টাকা বেশি। ওই বছর ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফার পরিমাণ ছিল এক হাজার চার কোটি টাকা। গত বছর ব্যাংকের ঋণের বিপরীতে অর্জিত সুদ-আমানতের বিপরীতে প্রদত্ত সুদ (নিট ইন্টারেস্ট মার্জিন) ৪৫৮ কোটি টাকা বেড়েছে, যা এযাবৎ রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো ব্যাংকের পক্ষেই অর্জন করা সম্ভব হয়নি বলে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান।

জানা গেছে, বর্তমানে জনতা ব্যাংকের ন্যূনতম মূলধন ও প্রভিশনে কোনো ঘাটতি নেই। প্রতিবছর সরকারের বাজেট থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে মূলধন জোগান দেওয়া হলেও ২০১৩ সালের পর জনতা ব্যাংককে মূলধন বাবদ সরকারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নিতে হয়নি। এরই মধ্যে মূলধন পর্যাপ্ততার হারকে আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ছাড়া মুনাফা বৃদ্ধি, সম্পদের গুণগত মান বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণ ও অবলোপিত ঋণের বিপরীতে নগদ আদায়সহ শ্রেণীকৃত ঋণের হারকে এক অঙ্কে নামিয়ে আনার মাধ্যমে ২০১৯ সালের মধ্যে ব্যাংকটিকে দেশের সব ব্যাংকের মধ্যে একটি অনন্য ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী।

গত বছর মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা বা ১৪.০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৬ সালে ছিল ৪০ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। একই সময়ে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা, যা বিগত বছরে ছিল ৬৪ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। গত বছর মোট আমানতের পরিমাণ ৭৬২ কোটি টাকা বা ১.১৯ শতাংশ বেড়েছে।

ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংক কয়েক বছর যাবৎ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তা খাতসহ গ্রামীণ অঞ্চলের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপের মাধ্যমে এ খাতে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির প্রয়াস অব্যাহত রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে ব্যাংকের সব শাখায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য হেল্প ডেস্ক স্থাপন করে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এরই মধ্যে জনতা ব্যাংক এসএমই খাতে মোট ১১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, যা ব্যাংকের মোট ঋণের ২৪.৪৩ শতাংশ।

গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা বা ১২.৭৪ শতাংশ, যা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৬ সালে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা বা ১৪.৭৩ শতাংশ। গত বছর শ্রেণীকৃত ঋণের বিপরীতে নগদে ৪৯২ কোটি টাকা এবং অবলোপিত ঋণের বিপরীতে নগদে ১১০ কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে। শ্রেণীকৃত ঋণ নগদ আদায়ের পাশাপাশি অধিকসংখ্যক শাখাকে শ্রেণিমুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী গত বছরের শেষ নাগাদ শ্রেণিমুক্ত শাখার সংখ্যা ১৩৪-এ উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারের ঘোষণার পাশাপাশি আমরা জনতা ব্যাংককেও ডিজিটাইজ করার সকল প্রকার কার্যক্রম শুরু করেছি। এ লক্ষ্য অর্জনে ইতিমধ্যে জনতা ব্যাংক কর্তৃক দেশের অভ্যন্তরে ৯০৮টি শাখা এবং বিদেশে চারটি শাখাসহ সকল শাখাকেই অনলাইন কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। বৈদেশিক রেমিট্যান্সসহ অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স দ্রুত প্রেরণের জন্য সকল শাখায় জেবি রেমিট্যান্স পেমেন্ট সিস্টেম ও জেবি পিনক্যাশ চালু রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ২৯টি ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত কিউ ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতায় এই ব্যাংকের এটিএম কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকের নিজস্ব এটিএমের সংখ্যা ৫৪। চলতি বছরের মধ্যে ব্যাংকের সব শাখায় আরটিজিএস (জবধষ ঞরসব ত্ড়েংং ঝবঃঃষবসবহঃ) চালু করার মাধ্যমে কাস্টমার-টু-কাস্টমার ফান্ড ট্রান্সফার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১০০টি শাখায় আরটিজিএস চালু করা হয়েছে। সরকারের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রগ্রামের আওতায় জনতা ব্যাংক কর্তৃক এরই মধ্যে ‘জনতা ব্যাংক গ্রিন কমিউনিকেশন’-এর মাধ্যমে অনলাইনে কৃষিঋণের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ শুরু করা হয়েছে। এই কার্যক্রম অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নাগরিক সেবায় ‘শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ব্যাংকিং লেনদেন ও সেবাগুলো অধিকতর নিরাপদ করতে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা উন্নীতকরণসহ সমসাময়িক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য এরই মধ্যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং চালুর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী ব্যাংকিং সেবার আওতায় এনে আরো উদ্ভাবনী ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রডাক্ট চালুর কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জনতা ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন লুনা সামসুদ্দোহা। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের আগে তিনি এই ব্যাংকেরই পরিচালক ছিলেন। তিনি রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক খাতের প্রথম নারী চেয়ারম্যান, যিনি দেশীয় সফটওয়্যার শিল্পের একজন সফল উদ্যোক্তা, বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজির (বিডাব্লিউআইটি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতে নারীদের অন্যতম পথিকৃৎ। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) নির্বাচনে জয়লাভ করে বেসিসের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। দীর্ঘদিন তিনি অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তথ্য-প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যাংকিং সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট অভিজ্ঞ ও দক্ষ। তিনি ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জনতা ব্যাংকে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণসহ প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

বর্তমানে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকা ১০ জন পরিচালক প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও মননশীল এবং পেশাগত ক্ষেত্রে স্বমহিমায় উজ্জ্বল।

ব্যাংকের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)  মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ একজন সুদক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যাংকার। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শাখাসহ জনতা ব্যাংকের সর্ববৃহৎ শাখার শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে ২৬ বছরের বেশি সময় ব্যাংকিং সেবা দিয়েছেন। ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য, ঋণ ব্যবস্থাপনাসহ সব বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি সততা ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংকের সেবা করে আসছেন বিধায় সরকার সিইও ও এমডি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পরিচালকদের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রণীত নীতিমালার আলোকেই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদের তদারকি ছাড়াও অডিট কমিটি, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটিও নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম তদারক করছে। ব্যাংকের বড় বড় ঋণের ঝুঁকি বিশ্লেষণ, প্রদত্ত ঋণের সদ্ব্যবহার হচ্ছে কি না, কিস্তি আদায়সহ সার্বিক বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে পর্ষদীয় অডিট কমিটি ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে মেমো উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। অডিট কমিটি ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি উপস্থাপিত প্রতিটি মেমোর বিষয়বস্তু, তথ্য-উপাত্ত, গুণাগুণ এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিয়ে থাকে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে। যে ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে অনুমোদনের জন্য পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া ডেলিগেশন অনুযায়ী যেসব ঋণ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন সেসব ক্ষেত্রে ডিউ ডিলিজেন্স, কেওয়াইসি নিশ্চিত করে ক্রেডিট কমিটির সুপারিশ সহকারে পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করা হয়। পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত পরিচালকরা ঋণপ্রাপ্তির যোগ্যতা অনুযায়ী বিচার-বিশ্লেষণ করে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। এ ছাড়া পরিচালনা পর্ষদ সব সময়ই ভালো ঋণগ্রহীতাদের ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে উৎসাহ দিয়ে থাকেন। অ্যাননটেক্স গ্রুপভুক্ত, সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোসহ বড় বড় ঋণগ্রহীতার ঋণ আদায়সহ সার্বিক বিষয়ে কমিটি গঠনপূর্বক নিয়মিত তদারকি করা হয় এবং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সার্বিক বিষয় তুলে ধরে অডিট কমিটি বরাবর উপস্থাপন করা হয়।

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সরকারি রাজস্ব আয়ে ভূমিকা রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে জনতা ব্যাংক দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে দায়বদ্ধ। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে মুনাফার বিষয়টি সম্পৃক্ত থাকলেও জনতা ব্যাংক ব্যাংকিং কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক দায়িত্বও পালন কর। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উেস আয়কর, ভ্যাট আদায়সহ সরকারের প্রায় সব কটি নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই ব্যাংক শুরু থেকেই সরাসরি অংশগ্রহণ করে আসছে এবং কোনো রকম সেবামাসুল ছাড়াই এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।

সরকারের নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় জনতা ব্যাংক সম্পাদিত কার্যক্রমের মধ্যে বয়স্ক ভাতা প্রদান, বিধবা ভাতা ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা প্রদান, প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদান, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মজুরি প্রদান, দরিদ্র মায়ের মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন প্রদান, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের বেতন প্রদান, বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা এবং বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেতন ও ভাতাদি প্রদান, ফুড প্রকিউরমেন্টে অগ্রিম প্রদান এবং বিভিন্ন ধরনের ইউটিলিটি বিল যেমন—টেলিফোন বিল, গ্যাস বিল, পৌরকর, ডিপিডিসি, ডেসকো, আরইবির বিদ্যুৎ বিল, ওয়াসা বিল আদায় উল্লেখযোগ্য।

জনতা ব্যাংক মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিবছর করপোরেট ট্যাক্স হিসেবে গড়ে ৩০০ কোটি টাকার বেশি এবং অন্যান্য উেস কর্তিত কর বা ভ্যাট ইত্যাদি বাবদ গড়ে ৮০০ কোটি টাকার বেশি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে সরকারি রাজস্ব আয়ে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করছে।

পুরস্কার

গত বছর জনতা ব্যাংক যেসব পুরস্কার পেয়েছে তার মধ্যে উদ্ভাবনী ব্যাংকিংয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ‘নাগরিক সেবায় সেরা উদ্ভাবন পুরস্কার’, ‘স্কুল ব্যাংকিং অ্যাওয়ার্ড’, ২০১৫-১৬ সালের জন্য ‘ট্যাক্স কার্ড সম্মাননা পুরস্কার’, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’, ICMAB থেকে ‘ICMAB Best Corporate Award’, ICAB ‘ICAB Best Presented Annual Report Award’, South Asian Federation of Accountants থেকে  ‘SAFA Best Presented Annual Report’ অন্যতম।


মন্তব্য