kalerkantho


৬০ শতাংশ সড়কই ‘অচল’

আহমেদ উল হক রানা, পাবনা    

১৮ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



৬০ শতাংশ সড়কই ‘অচল’

পাবনা-ভাঙ্গুড়া সড়কটি প্রায় পরিত্যক্ত। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার বেশির ভাগ সড়ক-মহাসড়কই খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েই চলেছে। চলাচলের অনুপযুক্ত এসব সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে যানবাহন। জেলার সড়ক-মহাসড়কগুলোর শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে স্বীকার করছেন খোদ সড়ক বিভাগের কর্তাব্যক্তিরাও।

সড়ক বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় তাদের আওতায় সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে ৫২১ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ১৫৯ দশমিক ৬১ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ১৬৩ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ১৯৮ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার।

পাবনা জেলা সদর থেকে চাটমোহর উপজেলার দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। আগে যেতে সময় লাগতো ৪০ মিনিট। বর্তমানে রাস্তা ভাঙার কারণে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা। গাড়িও মাঝেমধ্যে নষ্ট হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে। মাঝেমধ্যে ঘটে দুর্ঘটনা। এমন বেহাল পাবনার বেশির ভাগ সড়ক-মহাসড়কের। কোথাও ছোট, কোথাও বড় গর্ত, আবার কোথাও সড়কের এক পাশ থেকে আরেক পাশ সবটাই ভেঙে একাকার। এর মধ্যেই চলছে বাস, ট্রাক, অটোরিকশাসহ সব যানবাহন।

পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ রায় কালের কণ্ঠকে জানান, সড়ক বিভাগের রাস্তাগুলোর মধ্যে জাতীয় মহাসড়কসহ বেশ কিছু আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের ৬০ শতাংশের বেশি ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক ও মহাসড়কগুলোকে চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি সড়কের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। যত দ্রুত সম্ভব শতকরা ১০০ ভাগ ওয়েল ফিনিশড করা না গেলেও জনগণের চলাচলের উপযোগী করে তোলার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, জেলা সদরের বাইরে আটঘরিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, ঈশ্বরদী, বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগরসহ অনেক স্থানে সড়ক আছে বেহালে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিয়াড়পাড়া রেলগেট থেকে ভেড়ামারা বাজার, ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা, বাসস্ট্যান্ড থেকে ভেড়ামারা রাস্তা একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাবনা শহরের বেলতলা সড়ক, পিআই (পাবনা-ঈশ্বরদী) সড়ক, মোজাহিদ ক্লাব, শালগাড়িয়া মেরিল সড়কসহ প্রায় সব রাস্তারই খারাপ অবস্থা। ভোকেশনাল কলেজ থেকে সাদীপুর ঘাট পর্যন্ত রাস্তাটির ওপরের কার্পেট উঠে পরিণত হয়েছে মাটির রাস্তায়। অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের পাশাপাশি সাম্প্রতিককালে সংস্কারের নামে সেখানে খোয়া ফেলানোতে এই সড়কে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, পাবনায় এলজিইডির মোট সড়ক রয়েছে এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৮০০ কিলোমিটার রয়েছে গ্রামীণ সড়ক। গ্রামীণ এই সড়কগুলো এলজিইডি তৈরি করে দিলেও তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের। প্রায় আট থেকে ১৫ বছর আগে তৈরি করা এসব রাস্তার প্রায় পুরোটাই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।

রাস্তাগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে এই কর্মকর্তা জানালেন, গত বছরের অতিবৃষ্টিতে এসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাম্প্রতিককালে জাতীয় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে অনেকে এসব ছোট সড়কে চলাচল করছে। ফলে রাস্তাগুলোর ওপর বেশি চাপ পড়ে নষ্ট হচ্ছে। চাটমোহরের স্থায়ী বাসিন্দা লতিফুর রহমান ও শাহীন রহমানসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বল জানা যায়, উপজেলার প্রায় প্রতিটি সড়কই চলাচলের অনুপযোগী। এর মধ্যে চাটমোহর বাসস্ট্যান্ড থেকে হরিপুর, ভাদরা বাইপাস থেকে চাটমোহর হয়ে ছাইকোলা পর্যন্ত সড়ক, তেনাছিঁড়া থেকে কাটাখালি পর্যন্ত সড়কগুলোতে চলাচল করতে গিয়ে মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।

চাটমোহরের উপজেলা প্রকৌশলী এম শহিদুল ইসলাম জানালেন, উপজেলায় এলজিইডির ৭০০ কিলোমিটার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে। চার বছর পর পর এসব রাস্তা সংস্কারের কথা থাকলেও অনেক সময় সঠিক সময়ে প্রকল্প অনুমোদন না পাওয়ায় তা সংস্কার করা সম্ভব হয় না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মেরামত ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান এই প্রকৌশলী। যাত্রীদের অভিযোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবে সড়ক ও মহাসড়কগুলোর এই বেহাল হয়েছে।


মন্তব্য