kalerkantho


‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১২ ঘণ্টায় নিহত ৫

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১২ ঘণ্টায় নিহত ৫

প্রতীকী ছবি

দেশের চার জেলায় ১২ ঘণ্টায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে পাঁচজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছে। গত সোমবার রাত পৌনে ৩টার পর থেকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টার মধ্যে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ঢাকার ধামরাইয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিন ডাকাত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক ছিনতাইকারী, রাজবাড়ীতে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক চরমপন্থী নিহত হয়েছে। আর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়েছে এক মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী। 

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

সাভার : ঢাকার সাভার উপজেলার ধামরাই-কালামপুর সড়কে কেলিয়া এলাকায় গতকাল বিকেল ৩টার দিকে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছে। র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত তিনজন ডাকাতদলের সদস্য। ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব-২-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ আলী বলেন, একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে কেলিয়ার একটি রাস্তা দিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার কথা এবং তাদের গাড়িটি ডাকাতদের কবলে পড়তে পারে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-২-এর একটি টহলদল দুপুরের পর ওই এলাকায় যায়। টহলদল যাওয়ার সময় কেলিয়া এলাকায় একটি রাস্তার মধ্যে তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পায়। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা গাড়ি থেকে নামলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তিরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। তখন র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে আক্রমণকারীদের তিনজন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর ডাকাতদলের বাকিরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য এসআই রাজ্জাক ও সোহেল আহত হন।

মেজর মোহাম্মদ আলী জানান, পরে খবর পেয়ে ধামরাই থানা পুলিশ গুলিবিদ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আর আহত র‌্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

র‌্যাব-২-এর উপ-অধিনায়ক জানান, নিহত ডাকাতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : জেলার আখাউড়ায় খোকন সূত্রধর নামে এক ছিনতাইকারীকে স্থানীয় লোকজন হাতেনাতে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর কথিত বন্দুকযুদ্ধে সে মারা গেছে। খোকন বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল গ্রামের রমেশ সূত্রধরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আখাউড়া থানা পুলিশের ভাষ্য, সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে খোকন সূত্রধরকে নিয়ে তার সহযোগীকে ধরতে গেলে পৌর এলাকার বাইপাসে তিতাস নদীর ধারে পুলিশের ওপর হামলা চালায় ওই সহযোগীরা। তখন আত্মরক্ষায় পুলিশ সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় খোকন গুলিবিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় তাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আখাউড়া থানার ওসি মো. মোশারফ হোসেন তরফদার বলেন, খোকন তার সহযোগীদের গুলিতে মারা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় এসআই কামাল হোসেন, এএসআই মো. নুরুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. শামীম আহত হন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি এবং রামদা ও ছোরা উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কম্পানির আখাউড়া বিক্রয়কেন্দ্রের সেলস ম্যানেজার মানিক দেব গত সোমবার সকালে লালবাজার এলাকার জনতা ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যান। ওই সময় মানিক দেবকে আঘাত করে প্রায় ১৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে খোকন। তখন স্থানীয় লোকজন খোকনকে আটক করে পুলিশে তুলে দেয়। আর হামলায় আহত মানিক দেবকে প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কম্পানি সূত্র জানায়, খোকন একসময় আখাউড়া বিক্রয়কেন্দ্রে চাকরি করত। তিন মাস আগে সেসহ আরো কয়েক কর্মচারী ওই কম্পানির কয়েক লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা করা হলে কয়েক দিন আগে জামিন পায় খোকন। আর সোমবার ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় কম্পানির সেলস সুপারভাইজর প্রীতম পাল বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ সেটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করে।

এদিকে পুলিশ খোকনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। খোকন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, খুন, অস্ত্র আইন ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানায়।   

রাজবাড়ী : জেলার সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের জৌকুড়া ফেরিঘাট এলাকায় সোমবার রাত ৩টার দিকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সাইদুল ওরফে আমির সরদার (৩২) নামে এক চরমপন্থী নেতা নিহত হয়েছে। সাইদুল পাবনা জেলা সদরের চাচকিয়া গ্রামের তাহামুদ্দিন ওরফে তানু সরদারের ছেলে।

বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাকিব খান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জিয়ারুল ইসলাম ও কনস্টেবল পঙ্কজ মণ্ডল আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহতদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাকিব খানকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনা নিয়ে গতকাল সকাল ১১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি। তিনি বলেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার ধাওয়াপড়া জৌকুড়া বালুর ঘাট এলাকার পদ্মা নদীর পারে চরমপন্থীরা গোপন বৈঠক করছে, এ খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। ওই সময় চরমপন্থীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা ২১ রাউন্ড গুলি করে। এর একপর্যায়ে চরমপন্থীরা পিছু হটলে সেখানে আহত অবস্থায় এমবিআরএম বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার সাইদুলকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি এসএলআর, একটি বিদেশি দোনলা বন্দুক, ৩২ রাউন্ড গুলি, ২৩টি কার্তুজ, একটি ছোড়া, কার্তুজের ছয়টি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের সময় পুলিশ পিস্তলের ছয় রাউন্ড গুলি এবং শটগানের ১৬টি কার্তুজ ছোড়ে বলে জানান পুলিশ সুপার।

সাইদুলের বিরুদ্ধে পাবনায় হত্যা, অস্ত্র, অপহরণসহ সাতটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

ওই ব্রিফিংয়ের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল করিম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) ফজলুল করিম, সদর থানার ওসি তারিক কামাল, পুলিশ পরিদর্শক জিল্লর রহমান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি কামাল হোসেন ভুইয়া, পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইও ওয়ান জহুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

রাজবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, দুর্ধর্ষ চরমপন্থী নেতা সাইদুল। তার নেতৃত্বে পদ্মা নদীতে মানুষকে অপহরণের পর জিম্মি করা, ট্রলারে চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপকর্ম হয়ে আসছিল।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তারেক আনাম বলেন, নিহত সাইদুলের শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাকসুদুল ইসলাম লিখন (৩০) নামের এক মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন তিন পুলিশ সদস্য। গতকাল ভোর পৌনে ৫টার দিকে ফতুল্লার পাগলা নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল ভোরে পাগলা নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে পাঁচ থেকে ছয়জনের এক দল সন্ত্রাসী। আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে লিখন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে ধরতে গেলে ধস্তাধস্তিতে এসআই মো. আব্দুর সাফিউল আলম, এএসআই তাজুল ইসলাম তারেক ও কনস্টেবল রোকনুজ্জামান ওরফে রোমান আহত হয়। তখন লিখনের অন্য সঙ্গীরা পালিয়ে যায়।

ওসি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি এবং ৪২০ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।


মন্তব্য