kalerkantho


ট্রাফিক পরিদর্শক দেলোয়ার নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে

খরচ চালাতে হিমশিম পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ট্রাফিক পরিদর্শক দেলোয়ার নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে

ফাইল ছবি

রাজধানীর পলাশী এলাকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাসের চাপায় আহত ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেনের অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই ট্রাফিক কর্মকর্তাকে গত বুধবার রাতে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। পা থেঁতলে যাওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তার ফুসফুসে পানি জমেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে দেলোয়ারের পরিবার। পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, তাঁর চিকিৎসা যেন সরকারি খরচে হয়। প্রয়োজনে তাঁকে বিদেশে পাঠানোরও দাবি জানান তাঁরা।

অন্যদিকে এমন একটি ঘটনার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসচালক নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। যে বাসচালকের জন্য দেলোয়ারের এই অবস্থা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

জানতে চাইলে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাসচালককে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

দেলোয়ারের পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি ২৫ বছর আগে ট্রাফিক পুলিশে যোগ দেন। স্ত্রী ও চার মেয়ে নিয়ে তাঁর সংসার। সবচেয়ে ছোট মেয়েটির বয়স চার মাস। অন্যরা স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করছে।

দেলোয়ারের পায়ের ওপর বাস তুলে দেওয়ার পর তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। সেখান থেকে মঙ্গলবার নিয়ে যাওয়া হয় পান্থপথের স্পাইনাল অর্থোপেডিক হাসপাতালে। সেখানেও তাঁর অবস্থার অবনতি হলে গত বুধবার বিকেলে তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন সোমবার সকাল ৭টা থেকে রাজধানীর পলাশী এলাকায় দায়িত্ব পালন শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহন করা বাস (ঢাকা মেট্রো চ-০৮-০০৫৩) নীলক্ষেতের দিক থেকে উল্টোপথে পলাশী হয়ে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। পুলিশ বাধা দিলে বাসের চালক, হেলপার ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ান। ওই সময় কিছুটা দূরে ছিলেন পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন। ঘটনাটি চোখে পড়তেই তিনি সেখানে ছুটে যান। তাঁর সঙ্গেও তর্কে জড়ান বাসের লোকজন। এমনকি পুলিশের ইউনিফর্ম ধরেও টানাটানি করেন তাঁরা। এরই একপর্যায়ে চালক বাসটি চালিয়ে দেয়। এতে দেলোয়ারের বাম পা বাসের চাকার নিচে পড়ে থেঁতলে যায়।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করার কারণে তাঁদের অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। অন্যায়ভাবে দেলোয়ারের ওপর দিয়ে বাস চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে পারছেন না। এ অন্যায়ের কতটুকু বিচার পাওয়া যাবে সেটা সময় বলতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, পুলিশ আক্রান্ত হলে খুব কম ক্ষেত্রেই বিচার পাওয়ার নজির আছে। তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের নিরাপত্তার জন্য কাজ করেন। ট্রাফিক পুলিশ সারা দিন রোদবৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় দায়িত্ব পালন করে। উল্টোপথে বাস চালানোর ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিতে গিয়ে পরিদর্শক দেলোয়ারের বাসচাপায় আহত হওয়া খুবই দুঃখজনক।


মন্তব্য