kalerkantho


ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটার

রাজধানী ও ১৫ জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব

আজও হতে পারে বৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানী ও ১৫ জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব

গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ ঝড়ে রাজধানীর অনেক এলাকায় গাছপালা উপড়ে গেছে। তার ছিঁড়ে অনেক এলাকা বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়ে। মহাখালী-গুলশান সড়কে গাছ পড়ে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সকাল থেকে আকাশ বলতে গেলে পরিষ্কার ছিল। রোদের প্রখরতাও ছিল বেশ। তবে আগের দিনের মতো গতকাল রবিবার বিকেল থেকে আকাশে মেঘ জমতে শুরু করে। চারদিকে অন্ধকার নেমে আসে। সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে রাজধানীতে শুরু হয় কালবৈশাখী। ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুরসহ দেশের অন্তত ১৫ জেলায় বয়ে গেছে কালবৈশাখী। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটার।

ঝড়ে রাজধানীর শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় গাছ উপড়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি স্থানে বিদ্যুতের খুঁটিও উপড়ে যায়। রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে তেজগাঁও, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, হাতিরঝিল, গুলিস্তানসহ কয়েকটি এলাকায় রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে  দীর্ঘ সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগে ভবনের ওপর থেকে দেয়াল ভেঙে পড়ে তিন নারী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া হতাহতের কোনো খবর মেলেনি।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিকের মতে, নববর্ষের প্রথম দিন থেকে হিসাব করলে গতকালের কালবৈশাখী ছিল সবচেয়ে তীব্র। ঢাকার স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, গতকালের ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটার। বজ্রমেঘ তৈরি হওয়ায় বাতাসের এই গতিবেগ ছিল। ঢাকা, যশোর, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়াসহ ১৫ জেলার ওপর দিয়ে একই গতিতে কালবৈশাখী বয়ে গেছে। প্রচণ্ড ঝড়ে গাছ ভেঙে সড়কের ওপর পড়েছে। বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এপ্রিলের এই সময়ে প্রতিবছরই কালবৈশাখী হয়। গতবারও তা-ই হয়েছে। বিশেষ করে বিকেল এবং সন্ধ্যার সময় কালবৈশাখী আসে। এ সময় সবাইকে সতর্ক থাকা উচিত।’

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকালের মতো আজ সোমবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়, বৃষ্টি, দমকাসহ ঝোড়ো বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর পাশাপাশি ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহসহ অন্যান্য বিভাগেও বৃষ্টি ও কালবৈশাখী হতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাজধানীতে পাঁচ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে মোংলায় ৪৯ মিলিমিটার। সাতক্ষীরায় ৩৪ মিলিমিটার ও সিলেটে ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, রাজধানীর পাঁচ-ছয়টি স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিটি এলাকায়ই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি উদ্ধারকাজে গেছে। ধানমণ্ডির আবাহনী মাঠের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে। তবে যাত্রীরা সবাই নিরাপদে নামতে পেরেছে। মোহাম্মদপুরে রাস্তার ওপর একটি বড় গাছ পড়েছে। বঙ্গভবনের সামনে একটি বড় গাছ পড়েছে। এ ছাড়া তেজগাঁওয়ে একটি বড় গাছ রাস্তার ওপর উপড়ে পড়েছে। তিনি আরো জানান, নিয়ন্ত্রণকক্ষে একের পর এক গাছ ভেঙে পড়ার খবর আসে। তবে স্থানীয় স্টেশন থেকে কয়েকটি স্থান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যাওয়ার আগেই স্থানীয় লোকজন গাছগুলো সরিয়ে ফেলে। ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর ও বঙ্গভবনের সামনেই কাজ করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

গতকাল সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগের আয়শা (৭০), তাঁর মেয়ে মাজেদা (৪৫) ও তাঁদের প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া সেলিনা (৪৫) আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের আত্মীয় রিতা আক্তার জানান, আহতরা গোলাপবাগ মনোয়ারা হাসপাতালের পেছনে আনসার আলীর টিনশেড বাড়ির ভাড়াটিয়া। সন্ধ্যায় ঝড়ের সময় পাশের জহিরুল হকের ছয়তলা বাড়ির ছাদের দেয়ালের একটি অংশ ভেঙে ওই টিনশেড বাড়ির ওপর পড়ে। এতে তিন নারী আহত হন।

রাতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ার কারণে তেওগাঁওয়ের ডাইভারশন সড়ক, বিজয় সরণিসহ আশপাশে তীব্র যানজট তৈরি হয়। মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, হাতিরঝিল, গুলিস্তানসসহ কয়েকটি এলাকা থেকে একই রকম খবর পাওয়া গেছে। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দারা জানান, ঝড়ে আসাদ এভিনিউর কয়েকটি বড় গাছ পড়ে গেছে। গ্রিন হেরাল্ড স্কুলের সামনে একটি বড় গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন সেটি সরালে যান চলাচল শুরু হয়। রাত সাড়ে ৯টা স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যা সোয়া ৬টা থেকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ নেই।

 


মন্তব্য