kalerkantho


আইনমন্ত্রী বললেন

পাসপোর্ট না থাকলেও তারেককে ফেরানো সম্ভব

‘আবেদন করলেও নতুন পাসপোর্ট পাবেন না’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



পাসপোর্ট না থাকলেও তারেককে ফেরানো সম্ভব

ফাইল ছবি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাসপোর্ট না থাকলেও তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি। তিনি বলেন, বন্দিবিনিময় চুক্তি করার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাক্টের অধীনে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আইন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আরেক সংবাদ সম্মেলনে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান জানিয়েছেন, সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় দেশের আইন অনুযায়ী আবেদন করলেও তারেক রহমান নতুন পাসপোর্ট পাবেন না।

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য স্বেচ্ছায় পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। এর অর্থ, আপাতত বাংলাদেশের নাগরিক থাকতে চাই না। পাসপোর্ট জমা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অস্বীকার করেছেন। তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারবেন না এমন নয়। এই মুহূর্তে তিনি (তারেক রহমান) আর বাংলাদেশের নাগরিক নন। তিনি যুক্তরাজ্যের পাসপোর্ট নিয়ে সে দেশে চলাফেরা করছেন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অপরাধ করেছেন। তিনি সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। আপাতত তিনি ব্রিটিশ সরকারের ট্রাভেলস ডকুমেন্ট বহন করলেও অপরাধ সংঘটনের সময় তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। তাই তাঁকে মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাক্টের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। পাসপোর্ট না থাকলেও তাঁকে ফিরিয়ে আনা যায়। একজন অপরাধী এক জায়গায় অপরাধ করে অন্য জায়গায় চলে যায় বা যেতে পারে। এ কারণে ওই আসামিকে ধরে আনতে জাতিসংঘের অধীনে মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আইন করা হয়।’

তারেক রহমানের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে না। তবে কোনো গণমাধ্যম করে থাকলে তাদের বলব, আদালতের আদেশ প্রতিপালন করা সকলের কর্তব্য। কারণ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পর তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার করা আদালত অবমাননা।’

আগামীকাল ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এতে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল সকালে সাংবাদিকদের বলেছেন, তারেক রহমান এখন আর বাংলাদেশের নাগরিক নন। তিনি তাঁর নাগরিকত্ব বিসর্জন দিয়েছেন। তারেক রহমান যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়েই থাকেন তবে তিনি তাঁর পাসপোর্ট দেখান।

‘পাসপোর্ট পেতে ন্যাশনাল আইডি নিতে হবে’ : গতকাল পাসপোর্ট অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান বলেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে হলে ট্রাভেল পাস নিয়ে ফিরতে হবে। এসে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। 

মাসুদ রেজওয়ান আরো বলেন, ‘তারেক রহমানের এখন কোনো পাসপোর্ট নেই। তাঁর কাছে যে পাসপোর্ট ছিল সেটি ২০১৪ সালে উনি জমা দিয়েছেন। এরপর নতুন করে পাসপোর্টের জন্য আর কোনো আবেদন তিনি করেননি। পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তবে কিভাবে সেখানে অবস্থান করছেন সেটি যুক্তরাজ্যের সরকার জানে।’ তারেক রহমানের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাগরিকত্বের সঙ্গে পাসপোর্টের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশে সবার কি পাসপোর্ট আছে? না থাকলে তারা কি নাগরিকত্ব হারিয়েছে? তা তো না। নাগরিকত্ব একটা আলাদা জিনিস। তিনি যদি নিজে থেকে বলেন যে আমি নাগরিকত্ব সারেন্ডার করব, সেটা আলাদা কথা।’

আবেদন করলে তারেক রহমান পাসপোর্ট পাবেন কি না জানতে চাইলে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘আবেদন করলে আইন অনুযায়ী তিনি নতুন পাসপোর্ট পাবেন না। আইনে রয়েছে, আবেদনকারী দরখাস্ত পেশের তারিখ থেকে আগের পাঁচ বছরের ভেতরে যেকোনো সময় বাংলাদেশের যেকোনো আদালত দ্বারা নৈতিক স্খলনজনিত কারণে সাজাপ্রাপ্ত অথবা ন্যূনতম দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তিনি পাসপোর্ট পাবেন না।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন করে আবেদন করেছেন কি না এ তথ্য আমার কাছে নেই। আমি ডিটেইল চেক করেছি, অন্য কোনো পাসপোর্ট উনি নেননি। সুতরাং উনি লন্ডনে যে আছেন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছাড়া উনি অবস্থান করছেন। উনি যদি লন্ডন থেকে পাসপোর্টের আবেদন করেন, তিনি তা পাবেন না। আরেকটা বিষয় হলো, পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য তাঁর ন্যাশনাল আইডি নিতে হবে। ন্যাশনাল আইডি পেতে তাঁর বাংলাদেশে আসতে হবে।

 

 


মন্তব্য