kalerkantho


অর্ধেক রাস্তায় ভাগাড় বাকিটা ভাঙা

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



অর্ধেক রাস্তায় ভাগাড় বাকিটা ভাঙা

বনশ্রী সড়কের মেরাদিয়া এলাকা। ভাঙা সড়কের প্রায় পুরোটাই যেন ভাগাড়। ছবি : লুৎফর রহমান

সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সড়কে গিয়ে দেখা গেল ময়লার স্তূপ, ভাঙা রাস্তায় ধুলার ছড়াছড়ি আর সড়ক বাতির খুঁটি থাকলেও বাতি নেই। রাত-দিন মশার উত্পাত, আর সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার ভোগান্তির কথা জানাল এলাকাবাসী। তিন বছর হতে যাওয়া কাউন্সিলরের সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভের কথা জানাল সাধারণ মানুষ।

ডিএসসিসির ৩ নম্বর ওয়ার্ডটি আগে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড নামে পরিচিত ছিল। মেরাদিয়া এলাকা নিয়ে এই ওয়ার্ড গঠিত। এই ওয়ার্ডের একদিকে খিলগাঁও এলাকা এবং অন্যদিকে বনশ্রী। এখানে নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের বেশি বাস। রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা এখানে তেমন  নেই। তবে এই ওয়ার্ডের অন্যতম আকর্ষণ প্রায়  আড়াই শ বছরের প্রাচীন মেরাদিয়া হাট। প্রতি বুধবার এখনো হাটের কারণে মেরাদিয়ায় আসে বহু মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ডিএসসিসির ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সবচেয়ে বড় সমস্যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এ ওয়ার্ডের সব বর্জ্য এনে মেরাদিয়া হাটের সামনে প্রধান সড়কে রাখা হয়। ফলে শাকসবজি, ফলমূলসহ নানা ধরনের খুচরা পণ্যের বাজার হিসেবে বিখ্যাত হাটটিও এখন যেন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর পাশাপাশি বাজারে আসা হাজার হাজার মানুষের সবচেয়ে বড় ভোগান্তি এখন এই ময়লার স্তূপ।

বনশ্রী এইচ ব্লকের ৫ নম্বর রোডের বাসিন্দা মোতাহার হোসেন বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের শেষ সীমানা হওয়ায় এখানে নজর একটু কম। রাস্তার বিশাল জায়গাজুড়ে ময়লা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বৃষ্টি হলে এ আবর্জনায় পুরো সড়ক ঢেকে যায়।’

তিনি বলেন, ‘একসময় বনশ্রীসংলগ্ন মেরাদিয়া হাটটি ছিল পুরো ঢাকা শহরের কাঁচাবাজারের জন্য বিখ্যাত। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে নৌকাযোগে রামপুরা খাল দিয়ে মেরাদিয়া হাট এবং বর্তমান কারওয়ান বাজারে শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আসত। ঐতিহ্যবাহী হাটটির এখন আর আগের সেই জৌলুস নেই।’

মেরাদিয়া হাটের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, হাটের সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটিতে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি নৌকা দিয়ে নানা ধরনের কাঁচামাল আসে এ হাটে। এ কাঁচামালের উচ্ছিষ্ট অংশ খালে ফেলে দেওয়ায় সেখানে পানি পচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। দিন দিন এ আবর্জনার আকার বেড়েই চলছে। সপ্তাহের প্রতি বুধবার শাকসবজি, খাবারদাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্ছিষ্ট সংগ্রহে সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে খালই ময়লা ফেলার একমাত্র ভরসা।

এ ছাড়া মেরাদিয়া এলাকার বেশ কয়েকটি রাস্তা ভেঙে একাকার হয়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতে এসব রাস্তায় রিকশা বা মোটরসাইকেল দিয়ে যাতায়াতের সময় গর্তে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক স্থানে নেই সড়কবাতি। ফলে রাতের অন্ধকারে এসব রাস্তা দিয়ে অনেকেই চলাচল করে না।

বনশ্রী কাজীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা শাহেদুল ইসলাম বলেন, বনশ্রী প্রধান সড়ক থেকে দক্ষিণ বনশ্রী যেতে রাস্তার অবস্থা একেবারেই নাজুক। রাস্তা ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই ভাঙা রাস্তায় পানি জমে থাকে। যানবাহন চলাচলের সময় পানি লেগে পথচারীদের পোশাক নষ্ট হয়। রাস্তার পাশে ফুটপাত না থাকায় হাঁটাও যায় না ঠিকমতো। বাধ্য হয়ে রিকশা দিয়ে চলতে হয়। আর এ জন্য রিকশাচালকরাও যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়া আদায় করে।

দক্ষিণ বনশ্রীর কে ব্লকের বাসিন্দা মানসুর উদ্দিন রোমান বলেন, বনশ্রী মেরাদিয়া হাট থেকে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় একটি বড় রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। এ জন্য দীর্ঘ সময় ধরে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। রাস্তা কেটে রাখায় এটি ব্যবহারও করা যাচ্ছে না।

ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাস্তার কাজ আগে শুরু হলেও কিছুটা সময় বন্ধ ছিল। কাজের শুরুতে এখানে ফুটপাত করার পরিকল্পনা ছিল না। পরে তা যুক্ত করা হয়েছে। আবার রাস্তার কিছু অংশে অবৈধ দখল ছিল। এসব উচ্ছেদ করে ঠিকাদারকে কাজের পরিবেশ করে দিতে কিছুটা সময় লেগেছে। এখন আর সময়ক্ষেপণ হবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক বাসিন্দা জানান, কয়েক মাস আগে এই এলাকার কিছু সড়কে এলইডি বাতি লাগানো হয়েছে। কিন্তু সব সড়কে বাতি নেই। আর নতুন লাগানো এলইডি বাতিও এখন আর খুব একটা জ্বলে না।

মেরাদিয়া এলাকার আরেক সমস্যার নাম মশার উত্পাত। রামপুরা খালটি ময়লা-আবর্জনায় ভরা থাকায় এলাকার মশার ‘কারখানা’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশার উত্পত্তিস্থল ধ্বংস করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এ ছাড়া নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানোর বিষয়টিও খুব একটা চোখে পড়ে না।

ডিএসসিসির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মাকসুদ হোসেন মহসিন বলেন, “কাউন্সিলররা এখন ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সরদার’। কোনো কাজে তাঁদের (কাউন্সিলর) মনিটরিং নেই। ফলে কোথায় বাতি লাগিয়েছে, কয়টি লাগিয়েছে, আদৌ লাগিয়েছে কি না, কিছুই জানি না। এখন বসে বসে কাউন্সিলররা জনগণের বদনাম নিচ্ছি।”

 

 


মন্তব্য