kalerkantho


রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে একাট্টা মিয়ানমারের বিরোধীরা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে একাট্টা মিয়ানমারের বিরোধীরা

ফাইল ছবি

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে একাট্টা হচ্ছে মিয়ানমারের প্রধান বিরোধী দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিসহ (ইউএসডিপি) কয়েকটি রাজনৈতিক দল। ইউএসডিপি গত মঙ্গলবার ইয়াঙ্গুনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, জাতীয়তা যাচাইকরণ কার্ড (এনভিসি) গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে অবাধে চলাফেরা করতে পারার সুযোগ দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত দেশটি নিয়েছে, তা মানবে না দলটি এবং এ বিষয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে চিঠি দেবে। দলটির দাবি, ভ্রমণ বিধি-নিষেধ তুলে নিয়ে রোহিঙ্গাদের অবাধে চলাফেরার সুযোগ দেওয়া হলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ইরাবতী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা নিপীড়নের দায়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর জেনারেল ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞা আরো বিস্তৃত করার  উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর শেষে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য সফরে যাচ্ছে। সেখানে তারা রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিন দেখবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও ফ্রি এশিয়ার (আরএফএ) অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী উইন মিয়াট আয়ে গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে এনভিসি গ্রহণ করলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ভেতরে অবাধে চলাফেরা করতে পারবে। এ ছাড়া এনভিসি ফরম পূরণ করার পাঁচ মাসের মধ্যে তাদের নাগরিকত্ব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এর প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে ইউএসডিপি বলেছে, এনভিসিধারীদের অবাধ চলাফেরা দেশের জন্য বিপজ্জনক হবে। দলের মুখপাত্র নান্দা হা মিয়াট বলেন, অন্য দলগুলোরও এ বিষয়ে একই মনোভাব রয়েছে। তাই তারা সম্মিলিতভাবেই সিদ্ধান্ত নেবেন। অবাধে চলাফেরার সুযোগের বিরুদ্ধে তিনি মিয়ানমারের পার্লামেন্টে প্রস্তাব তুলবেন।

আরএফএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ইউএসডিপিই নয়, ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফোর্সের মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও রোহিঙ্গাদের চলাফেরায় বিধি-নিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।

মিয়ানমারের ২০০৮ সালের সংবিধানের কথা উল্লেখ করে ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হ্যান শোয়ে বলেন, সেখানে শুধু নাগরিকদের চলাফেরাসহ পূর্ণ অধিকার দেওয়ার কথা বলা আছে। কিন্তু এনভিসিধারীদের অবাধ চলাফেরার সুযোগের কথা সংবিধানে নেই।

এনডিএফ চেয়ারম্যান খিন মং সোয়ে রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে বলেন, তারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়। তাই তাদের এমন সুবিধা দেওয়া ঠিক হবে না।

নিউ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান থেইন নিউন্ট বলেন, অবাধ চলাফেরার অধিকারের বিষয়টি এনভিসিধারীদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না।

রাখাইন নৃগোষ্ঠীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল আরাকান নেশনস পার্টির সেক্রেটারি তুন অং কিয়াও দাবি করেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নয়। তাদের অবাধ চলাফেরার অধিকারের বিরোধিতা করেন তিনিও।

এদিকে মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) মুখপাত্র মিয়ো নিউন্ট বলেন, নাগরিকত্ব আইনের আওতায় যোগ্যতা যাচাই করেই এনভিসি দেওয়া হবে। সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। যদি এনভিসিধারীদের এমন অধিকার দেওয়া না হয় তবে সংবিধান লঙ্ঘন হবে।

অন্যদিকে ইরাবতী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক জেনারেলদের ওপর ইইউর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা আরো বিস্তৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছে।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধিদলকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রাখাইন রাজ্য সফরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তিন দিনের সফরে প্রতিনিধিদলটি আগামীকাল শনিবার বাংলাদেশে আসছে। বাংলাদেশ আশা করছে, প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিন দেখে এ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করবে এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ প্রবল চাপে পড়েছে।

 

 


মন্তব্য