kalerkantho


কোটা সংস্কার আন্দোলন

আতঙ্ক কাটছে প্রজ্ঞাপনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



আতঙ্ক কাটছে প্রজ্ঞাপনের দাবি

সংবাদ সম্মেলন থেকে কোটা বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল থেকে কয়েকজন ছাত্রীকে বের করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। কবি সুফিয়া কামাল হলের ওই ছাত্রীদের রাতের আঁধারে বের করার প্রতিবাদে সবাই এগিয়ে আসায় শিক্ষার্থীদের মনোবল বেড়েছে। হল প্রশাসন, ছাত্রলীগও নমনীয় হয়েছে। কাউকে কিছু বলা হচ্ছে না। কেউ কেউ হল ছেড়ে চলে যাওয়ার পর এখন ফিরছে। তবে ‘অজ্ঞাতনামা মামলায়’ কোনো শিক্ষার্থীকে যেন হয়রানি না করা হয় সেই বিষয়ে জোর দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী চলতি মাসের মধ্যেই কোটার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। তা করা না হলে শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলনে যাবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, অল্প কিছু গণমাধ্যম এ আন্দোলনকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যে মিথ্যা সংবাদ ছড়াচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের বিরোধী অবস্থান এবং আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া কয়েকজন ছাত্রীকে ১৯ এপ্রিল রাতে হল থেকে বের করে  দেওয়ার ঘটনায় অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ হল ছেড়েও চলে যায়। ওই ছাত্রীদের বের করার বিপক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসায়  মনোবল ফিরে পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। বাম ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগও দাবি করা হয়েছে।

কয়েকটি হলের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হল থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়ে আতঙ্ক দেখা দিলেও সেটি এখন কেটেছে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও আন্দোলনকারীদের কিছু বলা হচ্ছে না। তবে উপাচার্যের বাসভবনে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা মামলায় হয়রানির আশঙ্কা করছে তারা।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ছাত্রলীগ দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কিছুই বলছে না। তবে এ সংগঠনের এক সহসভাপতি হাকিম চত্বরে বসে আন্দোলনকারীদের নানা কটূক্তি করছেন বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছে। এর আগেও তিনি কোটা আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দেখে নেওয়াসহ নানা হুমকি-ধমকিও দিয়েছেন।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এক যুগ্ম আহ্বায়ক নাম না প্রকাশের শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন আর কাউকে হল থেকে বের করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে না।  তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত কোটার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা কোটা সম্পূর্ণ বাতিল চাইনি, সংস্কার চেয়েছি।’ তিনি জানান, ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির এক সহসভাপতি বর্তমানে আন্দোলনকারীদের নিয়ে কটূক্তি করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিরূপ মন্তব্য করে চলেছেন। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।

এই মাসের মধ্যে প্রজ্ঞাপনের দাবি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী চলতি মাসের মধ্যেই কোটার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। তা করা না হলে শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলনে যাবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে তারা। গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই দাবি জানান যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল হক নূর। এ সময় আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন, বিন ইয়ামিন প্রমুখ বক্তব্য দেন। 

নূরুল হক নূর বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক কোটা সংস্কারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। এই মাসের মধ্যে সেই ঘোষণার প্রজ্ঞাপন জারি করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’ তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছে। দেশের গণমাধ্যম শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি সঠিকভাবে তুলে ধরলেও কিছু গণমাধ্যম এই আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে মিথ্যা ও বানোয়াট খবর প্রচার করছে।

নূর বলেন, ‘আন্দোলন চলাকালে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালায়। কিন্তু পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো রকম তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যমূলকভাবে পাঁচটি অজ্ঞাতনামা মামলা দেয়। এতে শিক্ষার্থীরা হয়রানির আশঙ্কা করছে। এ ছাড়া ১৬ এপ্রিল আন্দোলনের তিন যুগ্ম আহ্বায়ককে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়া, সুফিয়া কামাল হল থেকে মেয়েদের বের করে দেওয়ায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে ভয়ের জন্ম দিয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগামী ৩০ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ছাত্র-শিক্ষক মতবিনিময় ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।’

রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা গেজেট আকারে প্রকাশ হোক। আমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে চাই। কোটা সংস্কারের জন্য অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু অল্প কিছু গণমাধ্যম আমাদের আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।’

 

 


মন্তব্য