kalerkantho


সাধারণ থেকে রাজবধূ যাঁরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ মে, ২০১৮ ০০:০০



সাধারণ থেকে রাজবধূ যাঁরা

মেগান মার্কেলই প্রথম ‘আমজনতা’ নন, যিনি ব্রিটেনের রাজপরিবারে বিয়ে করেছেন। এর আগেও অনেকে বিয়ের মাধ্যমে রাজপরিবারের সদস্য হয়েছেন। এ রীতি শুরু হয় ১৯৩৬ সালে। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রের তালাকপ্রাপ্ত (ডিভোর্সি) নারী ওয়ালিস সিম্পসনকে বিয়ে করেন রাজা অষ্টম অ্যাডওয়ার্ড। এ জন্য সমালোচনার মুখে সিংহাসন ছাড়তে হয় তাঁকে। তবে বাইরের কাউকে বিয়ে করার ‘বৈধতা’ শুরু হয় ১৯৬০ সালে। ওই বছর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বোন প্রিন্সেস মার্গারেট বিয়ে করেন চিত্রগ্রাহক (ফটোগ্রাফার) অ্যান্টোনি আর্মস্ট্রং-জনসকে। আর সর্বশেষ উদাহরণ অভিনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী মেগান ও প্রিন্স হ্যারির বিয়ে। এর বাইরে আরো যেসব ‘আমজনতা’ রাজপরিবারে বিয়ে করেছেন, তাঁদের বিষয়ে সংক্ষেপে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।

ডায়ানা : ইংল্যান্ডের অভিজাত ‘স্পেন্সার ফ্যামিলি’তে ডায়ানার জন্ম ১৯৬১ সালে। ১৯৮১ সালে তিনি বিয়ে করেন প্রিন্স চার্লসকে। কিন্তু তাদের সংসার দেড় দশক পর (১৯৯৬) ভেঙে যায়। ‘পিপলস প্রিন্সেস’ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া ডায়ানা ১৯৯৭ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। 

কেট মিডলটন : ১৯৮২ সালে এ নারীর জন্ম একটি ধনাঢ্য পরিবারে। ইউনিভার্সিটি অব স্টুয়ার্ট অ্যানড্রিউসে পড়ার সময় তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় প্রিন্স উইলিয়ামের। এরপর ২০১১ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। কেট মিডলটন স্বেচ্ছাসেবী নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত। এ দম্পতির তিনটি সন্তান রয়েছে। রাজপরিবারের সদস্য হওয়ার পর মিডলটনের নাম হয়েছে ক্যাথেরিন, ডাচেস অব কেমব্রিজ।

কামিলা রোজমেরি : ১৯৪৭ সালে এক ধনাঢ্য পরিবারে জন্ম। ১৯৭৩ সালে তিনি বিয়ে করেন অ্যান্ড্রু পার্কার বোলস নামের এক সেনা কর্মকর্তাকে। কিন্তু বিয়ের আগে থেকেই প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাঁর। প্রিন্স চার্লসও বিবাহিত ছিলেন। শেষমেশ তাঁরা আগের সম্পর্ক অতীত করে দিয়ে ২০০৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

সোফি : বলা হয়, ব্রিটিশ রাজপরিবারে বিয়ে করেছেন—এমন ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে ‘সাধারণ’ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সোফি। এই নারীর বাবা ছিলেন একজন দোকানদার। কিন্তু কর্মজীবনে সফল এ জনসংযোগ কর্মকর্তা ১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কনিষ্ঠ ছেলে প্রিন্স অ্যাডওয়ার্ডকে।

সারাহ ফার্গুসন : পরে ‘ডাচেস অব ইয়র্ক’ পদবি পাওয়া সারাহ ফার্গুসনের জন্ম ১৯৫৫ সালে, লন্ডনে। দীর্ঘদিন প্রেম করার পর ১৯৮৬ সালে তিনি বিয়ে করেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের দ্বিতীয় সন্তান প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে। কিন্তু বিয়ের ১০ বছর পর তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে।

অ্যান্টোনি আর্মস্ট্রং : ওয়েলসের সাধারণ ঘরে ১৯৩০ সালে জন্ম আর্মস্ট্রংয়ের। ফটোগ্রাফিতে অল্প বয়সেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। এই জনপ্রিয়তার সূত্র ধরে ১৯৬০ সালে আর্মস্ট্রং বিয়ে করেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বোন প্রিন্সেস মার্গারেটকে। কিন্তু তাঁদের সংসার ১৮ বছর পর ভেঙে যায়।

ওয়ালিস সিম্পসন : যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর শহরের বাসিন্দা। ১৯৩৬ সালে তিনি বিয়ে করেন রাজা অষ্টম অ্যাডওয়ার্ডকে। এর আগে দুইবার বিয়ে করেছিলেন ওয়ালিস। ফলে অ্যাডওয়ার্ডের সঙ্গে তাঁর বিয়ে নিয়ে রাজপরিবার ভাঙনের উপক্রম হয়। শেষমেশ ভালোবাসার মানুষকে প্রাধান্য দিতে সিংহাসন ছাড়েন অ্যাডওয়ার্ড। সূত্র : এনবিসি নিউজ, র‌্যাংকার। 


মন্তব্য