kalerkantho


রুশ গোল বন্যায় শুরু

নোমান মোহাম্মদ, মস্কো থেকে   

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রুশ গোল বন্যায় শুরু

রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম গোল। উচ্ছ্বাস ইউরি গাজিনস্কির। হতবাক হয়ে তা দেখছেন সৌদি আরব গোলরক্ষক। ছবি : এএফপি

উৎসবের উঠোন সাজিয়ে অপেক্ষায় ছিল রাশিয়া। বাকি বিশ্বের জন্য। আতিথেয়তায়-আয়োজনে, ঔজ্জ্বল্যে-চাকচিক্যে সবার চোখ ধাঁধিয়ে গেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তবু রুশদের আশঙ্কা—মাঠের ফুটবলের দীনতা না এসব কিছু ছাপিয়ে যায়!

সেটি হয়নি। অন্তত কাল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে হয়নি। সৌদি আরবের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বিস্ফোরক জয় পেয়েছে রাশিয়া। তাতে ফুটবল-বসন্তের পর্দা ওঠার দিনের রোশনাই আরো বেড়েছে বৈকি!

স্বাগতিকরা বাড়তি সুবিধা পায় সব সময়; সব খেলায়। ২০০২ বিশ্বকাপ ফুটবলে দক্ষিণ কোরিয়া যেমন সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। এবারের রাশিয়াকে নিয়ে প্রত্যাশার ঘুড়ি তত ওপরে উড়ছে না সত্যি। সেটি তুলনামূলক সহজ ‘এ’ গ্রুপে পড়ার পরও। উরুগুয়ে, মিসর ও সৌদি আরবের এই গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে যেতে পারবে তো তারা! প্রথম ম্যাচের রাজসিক পারফরম্যান্সের পর রাশিয়া এখন সে আশা করতেই পারে।

ম্যাচ শুরুর আগেই লুঝনিকি স্টেডিয়ামে লাল-সাদা ঢেউ। সৌদি আরবের সবুজের উপস্থিতি নগণ্য। সেই লাল-সাদা ঢেউয়ে প্রথম নাচন ওঠে ১২তম মিনিটে। রাশিয়ার কর্নার ক্লিয়ার করতে পারেনি সৌদি রক্ষণভাগ। এরপর আলেক্সান্দার গোলোভিনের দ্বিতীয় পোস্টে ক্রসে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত প্লেসিং হেডে গোল ইউরি গাজিনিস্কির। এই গোলের প্রজাপতির রংমাখা উচ্ছ্বাস মিলিয়ে যাওয়ার আগেই স্বাগতিক ক্যাম্পে দুঃস্বপ্নের শুয়ো পোকার ওড়োউড়ি। রুশদের সেরা খেলোয়াড় আলান জাগোভ যে ২৪তম মিনিটে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে বেরিয়ে যান মাঠ থেকে। তাতে একটু থমকেছে রাশিয়া। তবে দ্রুতই আবার গুছিয়েও নিয়েছে নিজেদের। যার ফলস্বরূপ প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই এগিয়ে যায় ২-০ গোলে। এবার দ্রুতগতিতে ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে আসে রাশিয়া; এর পর বল পাঠায় বাঁ প্রান্তে। সেখানে দেনিস চেরিশেভের দিকে এগিয়ে আসছিলেন দুজন ডিফেন্ডার। পায়ের দারুণ কাজে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন তিনি।

৪৫ মিনিট শেষে রুশ কোচ স্তানিস্লাভ চেরচেসোভের খুশি হওয়ারই কথা। আর ৯০ মিনিট শেষে তো রীতিমতো আনন্দের বিস্ফোরণ। এই দ্বিতীয়ার্ধে যে আরো তিন গোল দিয়েছে রাশিয়া। বদলি হিসেবে নেমে ৮৯ সেকেন্ডের মাথায়ই আরতিম জিউবার লক্ষ্যভেদ; এটিও গোলোভিনের ক্রসে। ২০০২ আসরে পোল্যান্ডের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মার্সিন জিভলাকভের গোলের পর বদলি হিসেবে নেমে যা দ্রুততম। শেষ দুটো গোল ইনজুরি সময়ে। আর দুটোই চোখ ধাঁধানো। পেনাল্টি এরিয়ার মাথায় বল পেয়ে চেরিশেভ এক টাচে বল নিয়ন্ত্রণে নিলেন; এর পর পায়ের বাইরের দিকের অংশের শটে অসাধারণ গোল। আর ৯৪তম মিনিটে আলেক্সান্দার গোলোভিনের গোলটিও লুঝনিকির ৮০ হাজার দর্শক মনে রাখবে অনেক দিন।

অনেক দিন মনে রাখার মতো এক বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি তো এরই মধ্যে দিয়ে রেখেছে রাশিয়া। আর মাঠের ফুটবলেও যে পিছিয়ে থাকবে না মোটেও, তা জানিয়ে দিল প্রথম দিনই। এই ফুটবল বসন্তে না রুশ ফুটবলের বিপ্লবই হয়ে যায়!

ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের দেশে অমন কিছু হলে তা কি যথার্থই না হবে!



মন্তব্য