kalerkantho


আজিজ আহমেদ নতুন সেনাপ্রধান

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০



আজিজ আহমেদ নতুন সেনাপ্রধান

দেশের সেনাবাহিনীর ১৫তম প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ, পিএসসি, জি। একই সঙ্গে তাঁকে জেনারেল পদে পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ আগামী ২৫ জুন অপরাহ্ন থেকে কার্যকর হবে। ২৫ জুন বিকেলে বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে এবং ওই দিন থেকে তিনি এক বছরের জন্য অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে যাচ্ছেন। গতকাল এসব  বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।

জানা যায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদের জন্ম ১৯৬১ সালের ১ জানুয়ারি। তিনি ১৯৮১ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৩ সালের ১০ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্টিলারি কোরে কমিশন লাভ করেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্টিলারি ব্রিগেডের জিএসও-৩ (অপারেশন), একটি পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম), সেনা সদর প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের গ্রেড-২ স্টাফ এবং সেনা সদর, বেতন ও ভাতা পরিদপ্তরের গ্রেড-১ স্টাফ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একটি আর্টিলারি ইউনিটের অধিনায়ক, একটি বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, একটি বিজিবি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি স্বতন্ত্র এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেডসহ মোট দুটি আর্টিলারি ব্রিগেডের কমান্ডার এবং একটি পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডার হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কমান্ড সম্পন্ন করেছেন। তিনি বিজিবির মহাপরিচালক ছাড়াও আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকটিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল পদের দায়িত্বে রয়েছেন। গত মার্চে তাঁকে রেজিমেন্ট অব আর্টিলারি কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আজিজ আহমেদ ঢাকার মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে এসএসসি এবং নটর ডেম কলেজ থেকে ১৯৭৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (পাস), ১৯৯৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার অব ডিফেন্স স্টাডিজ (এমডিএস), ২০০৮ সালে এমএসসি টেকনিক্যাল) এবং ২০০৮ সালে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইন বাংলাদেশ থেকে মাস্টার্স ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) সম্পন্ন করেন। তিনি চট্টগ্রামের স্কুল অব আর্টিলারিতে ‘অফিসার্স গানারি স্টাফ কোর্স’ এবং ভারতের দেওলালিতে অবস্থিত স্কুল অব আর্টিলারি থেকে ‘লং গানারি স্টাফ কোর্স’ সম্পন্ন করেন। তিনি মিরপুরে অবস্থিত ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের একজন গ্র্যাজুয়েট। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অধীন ১৯৯৫-৯৬ সালে ইরাক-কুয়েতে সামরিক পর্যবেক্ষক এবং ২০০৫-২০০৬ সালে সুদানে জাতিসংঘ মিশনে ফোর্স কমান্ডারের সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর স্ত্রী বেগম দিলশাদ নাহার আজিজ একজন গৃহিণী। তাঁদের তিন পুত্রসন্তান রয়েছে।

২০১৫ সালের ১১ জুন সরকার তৎকালীন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হককে ২৫ জুন থেকে তিন বছরের জন্য সেনাবাহিনীপ্রধান নিয়োগ দেয় এবং ২৫ জুনই তিনি লে. জেনারেল থেকে জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়ার স্থলাভিষিক্ত হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে সেনাপ্রধান হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হলেও পরে কয়েকজনের ক্ষেত্রে মেয়াদ বৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। বহুল আলোচিত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ ২০০৫ সালের ১৫ জুন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তিন বছরের মেয়াদে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেও সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ‘জনস্বার্থে’ তাঁর মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়। এ ছাড়া ২০১২ সালের ৭ জুন সেনাবাহিনীর তৎকালীন কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়াকে সেনাপ্রধানের পদে নিয়োগপত্র দিয়ে ওই দিনই আগের সেনাপ্রধান জেনারেল আবদুল মুবীনের চাকরির মেয়াদ ২০১২ সালের ১৫ জুন থেকে আরো ১০ দিন বাড়ানো হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাড়ে সাত বছর সেনাপ্রধান ছিলেন এইচ এম এরশাদ।

সেনাপ্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয় না। জেনারেল মইনকে সেনাপ্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাঁর কয়েকজন জ্যেষ্ঠকে ডিঙিয়ে। আগের আওয়ামী লীগ সরকার আমলে অবসরকালীন ছুটিতে থাকা অবস্থায় জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমানকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে আজিজ আহমেদ ছাড়াও সেনাবাহিনীতে তিনজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রয়েছেন। তাঁরা হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহাফুজুর রহমান ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লে. জেনারেল মো. নাজিমুদ্দিন। আরেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ও এনডিসি কমান্ড্যান্ট চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী চাকরির মেয়াদ শেষে গত ৩১ মে অবসরে গেছেন।

এদিকে সম্প্রতি প্রণীত নতুন আইনে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানদের পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর করা হলেও এবারও তিন বছর মেয়াদে নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে নতুন বিমানবাহিনী প্রধানকেও তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গত বছর ৩১ জুলাই সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর নির্ধারণ করে এসংক্রান্ত আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় সরকার। পরে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তা সংসদে পাস হয়।

 

 

 



মন্তব্য