kalerkantho


গাজীপুর সিটি নির্বাচন

প্রার্থীরা ফের আনুষ্ঠানিক প্রচারণায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর ও টঙ্গী প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০



প্রার্থীরা ফের আনুষ্ঠানিক প্রচারণায়

গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে গতকাল সোমবার। গত ১৫ মে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও আদালতের নির্দেশে আগামী ২৬ জুন নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়। পুরো রমজান মাস নির্বাচনী প্রচার বন্ধ থাকে। তবে প্রার্থীরা থেমে থাকেননি। ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে কৌশলে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে এসেছেন।

প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের জমজমাট প্রচারণায় দীর্ঘ এক মাস ১৩ দিন পর আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে গাজীপুর সিটি নির্বাচন। নির্বাচনে মেয়র পদে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম ও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার গতকাল আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর প্রথম দিনেই সরব হয়ে ওঠেন।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর সকালে সিটি করপোরেশনের গাছা এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কার্যালয়ের সামনে পথসভা ও মুক্তিযোদ্ধাদের দোয়া নিয়ে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার নিজ বাসভবনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের দোয়া নিয়ে জাহাঙ্গীরের প্রচারণা শুরু

গতকাল দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গাছা কমান্ড কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাকে সন্তান হিসেবে ভালোবেসে আজ পথসভার আয়োজন করেছেন। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের দোয়া নিয়ে প্রচারণা শুরুর সুযোগ করে দেওয়ায় তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বিগত নির্বাচনে বিএনপি মিথ্যাচার ও প্রপাগান্ডা করেছে। মিথ্যাচার করে তারা নৌকা নয়, গাজীপুরবাসীকে পরাজিত করেছে। পাঁচ বছর গাজীপুরবাসীকে উন্নয়নবঞ্চিত রেখেছে। গাজীপুর সিটিকে ঢাকার পাশে অত্যাধুনিক শহর হিসেবে গড়তে চাই। আপনারা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। ঘরে ঘরে মা-বোনদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চান। সবার সহযোগিতা নিয়ে নৌকাকে বিজয়ী করতে চাই।’

মেয়রের চেয়ার পোলাপানের জন্য নয় : হাসান সরকার

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার গতকাল সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত নিজ বাসভবনে কাশিমপুর অঞ্চলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনী ও সাবেক কাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন সরকার গ্রেপ্তার হওয়ায় তাঁর অনুপস্থিতিতে নির্বাচনী ঝুঁকি মোকাবেলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ২০ দলীয় জোটের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় সহশ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার, সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক শিল্পপতি সোহরাব হোসেন, টঙ্গী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম শুক্কর, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দিন আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির রাজুসহ কাশিমপুর অঞ্চলের বিএনপি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

সভায় কাশিমপুর অঞ্চলের নেতারা বলেন, ‘শওকত চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে এলাকার নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় চক্রবর্তী ফাঁড়ির পুলিশ দিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। যারা ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের ঘরে বসিয়ে রাখতে চায় তারা বোকার রাজ্যে বাস করছে। এক শওকত গ্রেপ্তার হয়েছে, কিন্তু হাজারো শওকত প্রস্তুত রয়েছে।’

প্রচারে কাউন্সিলর প্রার্থীরা

মেয়র প্রার্থী ছাড়াও ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৯টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা সকাল থেকে প্রচারণা শুরু করেন। সকাল থেকেই কর্মী-সমর্থকরা নেমে পড়ে বৃষ্টিতে ছিঁড়ে নষ্ট বা বিবর্ণ হয়ে যাওয়া পছন্দের প্রার্থীর পোস্টার নতুন করে লাগানোয়। অনেক কর্মী-সমর্থক দল বেঁধে নেমে পড়ে গণসংযোগে। দুপুরের পর নগরের অলিগলি থেকে ভেসে আসতে থাকে মাইকের আওয়াজ ‘উন্নয়নের মার্কা নৌকা’, ‘গণতন্ত্রের মার্কা ধানের শীষ’ ইত্যাদি স্লোগান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচারণার মাত্রা বাড়তে থাকে। ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরু জানান, তিনি সকাল থেকে পুরোদমে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। তবে অনেক শ্রমিক ভোটার ঈদের ছুটিতে এখন গ্রামের বাড়িতে। এ জন্য কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনেক ভোটারকে পাচ্ছে না।

একই কথা জানিয়ে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শাহনাজ আক্তার বলেন, আগামী শনিবার থেকে অনেক শ্রমিক কাজে যোগ দেবে। আর প্রচারণাটাও তখন নতুন মাত্রা পাবে।

 



মন্তব্য