kalerkantho


বিশ্বকাপ ফ্রান্সেরই জেতা উচিত

কাকা লিখছেন কালের কণ্ঠে   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বিশ্বকাপ ফ্রান্সেরই জেতা উচিত

প্রত্যাশিতভাবেই ফাইনালে উঠে গেল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। এক কথায় দারুণ এক অর্জন। তাঁর অধিনায়কত্বে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স শুধু বিশ্বকাপের ফাইনালেই ওঠেনি, চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল। এবার কোচ হিসেবেও ফ্রান্সকে ফাইনালে তুলে নিলেন তিনি। অভিনন্দন দিদিয়ের। এখন প্রশ্ন হলো রবিবার ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিততে পারবে কী পারবে না। আমার দৃষ্টিতে এবার তাঁর দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ারও সম্ভাবনা খুব জোরালো। রাশিয়ায় টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকে ফ্রান্স ধীরে ধীরে ফর্মের চূড়ায় উঠেছে। এবং ছন্দটা ঠিক তখনই ধরেছে, যখন সেটি খুব দরকারও ছিল। একটা দল হিসেবে খেলছে তারা। সত্যি কথা বললে ফ্রান্সই হলো এই বিশ্বকাপের একমাত্র দল যারা দল হিসেবে একদম যথার্থ খেলাটিই খেলেছে।

আন্তর্জাতিক ফুটবল এবং বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা দেশম এবং তাঁর খেলোয়াড়দের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪-র ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে ওরা অনেক কিছু শিখেছে। যেখানে ওরা কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরেছিল। এরপর দুই বছর আগে নিজেদের মাটিতে ইউরোর শিরোপা জিততে না পারার হতাশও ছিল তাদের। এই দুই অভিজ্ঞতা থেকে ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপে খেলছে একেবারে হিসাব কষা ফুটবল।

যে ফুটবল খেলার পথে তাদের ডিফেন্সের যে ভূমিকা, সেটিকে আবারও কৃতিত্ব দিতেই হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্বকাপ ফাইনাল

নিশ্চিত করার পথে ওদের ডিফেন্সই আসলে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। উরুগুয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে যেমনটি হয়েছিল, বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি হলো সেট পিস থেকে। এবার আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের দারুণ কর্নার থেকে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী গোলটি করল স্যামুয়েল উমতিতি। আর নিজেদের গোলসীমা সামলানোর কথা বললে বার্সেলোনার এই সেন্টার ব্যাকের সঙ্গে রাফায়েল ভারান, বেঞ্জামিন পাভার্দ ও লুকাস হার্নান্দেজরা মিলে করেছে ব্যতিক্রমী এক ডিফেন্সিভ প্রদর্শনী। সেন্ট পিটার্সবার্গে বক্সের ভেতর বেশ কয়েকবার বল গেলেও তারা মারুয়ান ফেলাইনি ও রোমেলু লুকাকুকে শান্ত রাখতে পেরেছে। আমি নিশ্চিত যে ‘লা ব্লুজ’দের চূড়ান্ত সাফল্যের পথ যদি খোলে, তাহলে সেটিও খুলবে তাদের ডিফেন্স থেকেই। সেই সঙ্গে ওদের গোলরক্ষক হুগো লরির কথাও না বললেই নয়। টোবি অল্ডারভেইরল্ড ও অ্যাক্সেল উইটসেলকে দুর্দান্ত সেভে গোলবঞ্চিত করেছে সে। অবশ্য ওদিকে থিবো কর্তোয়াও পাভার্দ ও তোলিসোর দুটি ‘ওয়ান অন ওয়ান’ প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছে দারুণ দক্ষতার সঙ্গে।

ফ্রান্স ফুটবলের জন্য গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অন্যতম মূল্যবান চরিত্র হয়ে আছেন দিদিয়ের দেশম। ফুটবলার হিসেবে যেমন, তেমনি কোচ হিসেবেও তাঁকে সাফল্য-ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। গ্রিয়েজমান, এমবাপ্পে ও উমতিতির মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে এই বিশ্বকাপে দারুণ কাজ করেছেন তিনি। সেমিফাইনালে বেলজিয়ান ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝামাঝি জায়গায় গ্রিয়েজমান অবস্থান নিতেই ফ্রান্সের আক্রমণ গতি পেয়েছে। যেখান থেকে এমবাপ্পেরও প্রভাব খাটানোর শুরু। হয়তো ওর গতির ঝলক তেমন দেখা যায়নি তবে দলের আক্রমণে সে দারুণ সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছে। ওর দেওয়া সেই পাসটির কথা বলতেই হয়, যেটি পাভার্দের পায়ে যেতেই সামনে ছিল শুধু কর্তোয়া। ফ্রান্সের এই রাইট ব্যাকও আক্রমণে নতুন এক ধারা যোগ করেছে। ওর করা একটি সেন্টার বক্সের ভেতরেই খুঁজে পেয়েছিল অলিভিয়ের জিরদের মাথা। আর গ্রিয়েজমানের বাঁ পা তো ছিলই। আর সেই কর্নারটি তো আছেই, যেটি থেকে উমতিতি গোল করল। এই জয় দলীয় পারফরম্যান্সের ফসল। দল হিসেবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে একেবারে যথার্থ খেলাটিই খেলেছে ফ্রান্স। পারফরম্যান্স ও দলীয় শক্তি বিবেচনায় আমার বিবেচনায় এবারের বিশ্বকাপ আসলে জেতা উচিত ফ্রান্সেরই।

এবার আমার নিজের দেশ ব্রাজিল সম্পর্কেও কিছু কথা বলতে হয়। বিশেষ করে যখন আমরা টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার আশা করতে শুরু করেছিলাম, তখনই দলটা বাজেভাবে হেরেছে। ওই দিন পুরো দলই ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয়ত নেইমারের কাছে আমরা আরো বেশি কিছু আশা করেছিলাম। যেহেতু দলের মূল খেলোয়াড়ই সে। জানি না, পায়ের চোটের সমস্যাটা ও পুরো কাটিয়ে উঠতে পেরেছিল কিনা। তবে আমার মনে হয়েছে ও নিজের পুরোটা দিয়ে খেলতে পারেনি। ওর বয়স এখনো কম। আরেকটি বিশ্বকাপও খেলবে। কিন্তু ওকে দায়িত্ব নেওয়া শিখতে হবে। আগামী বিশ্বকাপে ওর প্রতিভাই হবে ব্রাজিলের মূল শক্তি। এর আগে ওকে অনেক কিছু শিখতেও হবে। মাঠের ব্যাপারই শুধু নয়, শিখতে হবে মাঠের বাইরে সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ অন্যান্য বিষয় সামলানোও। ম্যাচের সময় ওর আবেগও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ও একটু বেশিই ঝুঁকি নিয়ে ফেলে। যার ফলে হলুদ কার্ড দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ওর নিজের দক্ষতা ও টেকনিক্যাল শক্তির জায়গাটা কাজে লাগানো উচিত। কোচ তিতে দারুণ কাজ করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যেও নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন। তাঁকে কোচ হিসেবে রেখে দিয়ে ব্রাজিল যদি এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করে, চার বছর পরের বিশ্বকাপে আমরা সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেও যেতে পারি।

 

 



মন্তব্য