kalerkantho

অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অফলাইন

হ্যান্ডশেক
এই শীতে হ্যান্ডশেক করার জন্য কেউ বাঁ হাত আগায় দিলে ধইরেন না কইলাম! লাস্ট কবে হাত ধুইছে কে জানে!

রোহিত হাসান কিসলু

নতুন বইয়ের প্রচ্ছদ দেখা অনেকটা নতুন বউয়ের মুখ দেখার মতো। দেখি দেখি করে সবাই উতলা হয়, দেখা হয়ে গেলে আস্তে আস্তে আকর্ষণ কমতে থাকে। যার বই সে-ই শুধু এটা নিয়ে পড়ে থাকে। কথা হলো, নতুন বউয়ের মুখ দেখে অনেকেই টাকা-পয়সা দেয়। দাওয়াত করে খাওয়ায়। প্রচ্ছদ দেখে বাহবা ছাড়া কেউ কিছু দেয় না।
সোহেল নওরোজ

পরিবর্তন
দিনে তিনটা করে রংবেরঙের সেলফি দেওয়া আপুটা যখন হঠাত্ করে প্রোপিকে পুতুলের ছবি দেওয়া শুরু করে, তখন বুঝতে হবে, বেচারি কষ্টে আছে। একটা জালেম প্রেমিকের হাতে পড়েছে।

তানভীর মেহেদী

মাসের খরচ
নায়িকার বাবা : তুই জানিস আমার মেয়ের এক মাসের হাতখরচ তোর পুরো মাসের বেতনের চেয়েও বেশি?

নায়ক : চৌধুরী সাহেব, দরকার হলে প্রতি মাসে আমি কিডনি বিক্রি করে আপনার মেয়ের হাতখরচের টাকা জোগাড় করব।

নায়কের মা : বাবা, তোর কিডনি কিন্তু দুইটা।

নায়ক : নিজের কিডনি না, মা। আমি অন্যদের কিডনি বিক্রি করে টাকা ইনকাম করব।

অনামিকা মণ্ডল

পরামর্শ
জীবনে ‘স্মার্ট’ হওয়াটা খুব জরুরি। ‘ক্ষ্যাত’ হলে বিপদ। কোনো রাজ্যের রানিও যদি স্মার্ট না হয়ে ‘ক্ষ্যাত’ হন, তাহলে তিনি আর রানি থাকেন না। হয়ে যান ‘রোগ’। তা-ও মানুষের রোগ না, মোরগের রোগ। ‘রানিক্ষেত’।

ইকবাল খন্দকার

শাস্তি
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নেবেন নাকি যশোর থেকে নওয়াপাড়া সড়কপথে আপডাউন, টানা এক মাস?

—যাবজ্জীবনই দেন, স্যার।

অনুপম হোসাইন পূর্ণম

ঠাণ্ডা
ফ্রিজে থেকে ঠাণ্ডা পানি বের করে বাইরে রাখলাম, বরফ হয়ে গেল!

হসামিউল আজিজ সিয়াম

আসল পরীক্ষার্থী
সে-ই তো আসল বিসিএস পরীক্ষার্থী, যে টঘঐঅচচণ-কেও জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা মনে করে।

অনামিকা মণ্ডল

ডিটেকটিভ
প্রেমিকার চেয়ে বড় ডিটেকটিভ আর কেউ নেই!

রাফিউজ্জামান সিফাত

বেকার এসি
এসি : স্যার, আমাকে একটা কাজ দেন! পুরা বেকার হয়ে আছি!

গৃহকর্তা : আমার শইল গরম কইরা দিতে পারবা?

এসি : আপনি আমাকে ভুল ভাবছেন! আমি ওই ক্যারেক্টারের না!

রোহিত হাসান কিসলু

ইনভাইট
আমার বন্ধু তৌহিদ জব পেয়েছে মাসখানেক হলো। একদিন আলাপের সময় বললাম, ‘দারুণ জব পাইছস। অন্তত এই গরিবরে ভালো-মন্দ একবেলা খাওয়া।’

তৌহিদ পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করতে করতে বলল, ‘দোস্ত, পকেটের অবস্থা খুব খারাপ। তবে কথা দিচ্ছি, প্রথম মাসের বেতন পেলে তোকে ইনভাইট করব।’

বন্ধু কথা রেখেছে। আজ সকালে ওর ‘শতরঙা’ পেজে লাইক দেওয়ার জন্য ইনভাইট করেছে!
সোহাগ মাহমুদ

জববার
যে বারে আপনি জব পেয়েছেন সেদিন জববার!

আরকানুল ইসলাম

সৃজনশীল অঙ্কের ধরন
যদি xß = I, yß = U = ট এবং xy = 5ve হয়, তাহলে (x+y)ß- এর মান নির্ণয় করো।

সমাধান : আমরা জানি, (x+y)ß = (x)ß + 2.x.y + (y)ß

= I + 2.5ve + U

= I + love + U

= I love u

মনোয়ার হোসেন বাদল

লাভ-লস
মানুষকে ভালোবাসলে loss হয় না love হয়।

হজগলুল হায়দার

গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে
বনানীর এক মাঠে, একটা গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে এসেছি। বিশাল ব্যাপারস্যাপার। সারা দিন সেখানে হলুদের অনুষ্ঠান চলবে। গায়েহলুদের অনুষ্ঠানের নতুন ট্রেন্ড এটা। দুপুর ১২টা থেকে শুরু। সারা দিন চলবে।

ঘুরেফিরে দেখছি, আর ভালোই লাগছে কনসেপ্ট। সেখানে আবার নিউ চমক, ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে প্রিন্ট করে দেওয়া হচ্ছে। মেয়েরা ভিড় করে ছবি তুলছে আর প্রিন্ট নিচ্ছে। আমি একবার গিয়ে রিকোয়েস্ট করে পাসপোর্ট সাইজের ছবি তুললাম। একটু পরে সেই প্রিন্ট আনতে গিয়ে বললাম, থাইল্যান্ডের ভিসার সাইজে ছবি তুলে দেবেন, প্লিজ!

উনি বিরক্ত চোখে বললেন—আচ্ছা, দাঁড়ান এই সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের পিছে।

হাসি হাসি মুখ করে তুললাম। একটু পরে সেই প্রিন্ট আনতে গিয়ে ওনাকে সাইডে ডেকে বললাম—‘শোনেন, আজকে যার অনুষ্ঠান তার বাবা আমাকে পাঠিয়েছে, বলেছে একটা ডিভি-১-এর ফরম্যাটে ছবি তুলে দিতে। জানেন তো কেমনে তুলতে হয়? দুই কান সমান দেখা যেতে হবে।’

ছবি তোলা শেষ করে ফুচকা কর্নারে ফুচকা খাচ্ছি। দূর থেকে দেখি, সেই ফটোগ্রাফার তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি হাত তুলে বললাম—ওয়েট, আস্তেসি। বেচারা সঙ্গে সঙ্গে গাছের পেছনে লুকিয়ে গেলেন। বুঝলাম না। আমি তো নতুন ছবি তুলতাম না, শুধু বলতাম আগের ছবিগুলো স্ট্যাম্প সাইজেও প্রিন্ট করে দিতে।

আরিফ আর হোসাইন

ব্রেকআপ
মেয়ে : জান, আমি একটু মোটা হয়ে গেছি, তাই না?

ছেলে : হুম, একটু মোটা হয়ে গেছ।

মেয়ে : ওহ, আমি মোটা? যাও, তুমি অন্য কোনো স্লিম মেয়ে খুঁজে নাও, ব্রেকআপ।

মেয়ে : জান, আমি একটু মোটা হয়ে গেছি, তাই না?

ছেলে : না, জান! তুমি একটুও মোটা হও নাই।

মেয়ে : তুমি এভাবেই আমাকে মিথ্যা বলো, তাই না! তোমাকে বিশ্বাস করাই ঠিক হয়নি, ব্রেকআপ।

মেয়ে : জান, আমি একটু মোটা হয়ে গেছি, তাই না?

ছেলে : আমি জানি না, জান।

মেয়ে : তুমি জানোই না আমি মোটা হয়েছি কি না! আমাকে তো দেখোই না, খালি অন্য মেয়েদের দিকে তাকায়া থাকো, তাই না? ব্রেকআপ।

রিয়াজ আহমেদ সজল

ঢাকার জ্যাম
কয়েক মাস আগের ঘটনা। সাভারে একটা টেক্সটাইল মিলে ইন্টার্নি ঠিক করতে ঢাকা গিয়েছি। সঙ্গে সহপাঠী বান্ধবী ও তার সদা অনুগত স্বামী। কাজ শেষে সন্ধ্যায় উঠে পড়লাম সাভার টু মোহাম্মদপুরের একটা সিটিং নামধারী বাসে। গন্তব্য, বান্ধবীর শ্বশুরবাড়ি। উদ্দেশ্য, মেস খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত কিছুদিন থাকার ব্যবস্থা করা। আমি পেছনে একটা সিট দেখে বসে পড়লাম। সামনের দিকে ওরা পাশাপাশি বসে গল্পে মেতেছে। ঘটনার শুরু তখনই। হঠাত্ পেটটা মোচড় দিয়ে উঠল। মনে পড়ে গেল দুপুরে বান্ধবীর নিষেধ সত্ত্বেও ৮০ টাকার চিকেন বিরিয়ানি খাওয়ার কথা। ভাবতে ভাবতে আরো একবার ঝাঁকুনি মারল পেট। প্রচণ্ড ভিড়ে বান্ধবীকে এখন আর দেখাও যাচ্ছে না। পাশের জনকে জিজ্ঞাস করলাম—‘ভাই, আর ১০ মিনিটে গাড়ি মোহাম্মদপুর যাবে না?’

লোকটি উত্তরে কপাল কুঁচকে বিরক্তির নিঃশ্বাস ফেলল। বাধ্য হয়ে ফোন করলাম বান্ধবীকে—‘দোস্ত, আমি আর আটকাতে পারচ্ছি না।’

বান্ধবী : কী বলিস, বুঝি না। মেসেঞ্জারে আয়।

মেসেঞ্জারে গিয়ে লিখলাম, ‘দোস্ত, পেটের গণ্ডগোল শুরু হয়ে গেছে। আটকে রাখা কঠিন। আর কতক্ষণ?’

বান্ধবী : দোস্ত, সামনের জ্যাম ক্লিয়ার হলেই আর মাত্র ২০ মিনিট। প্লিজ! একটু সহ্য কর।’

আমি : আর কিছুক্ষণ গেলে আমার জ্যাম বাসেই ক্লিয়ার হয়ে যাবে। তোরা থাক, আমি নামলাম। আমি পরের বাসে যাব।’

তাড়াতাড়ি করে ফোনটা পকেটে ঢুকিয়েই নেমে পড়লাম। সামনের একটা বড় মার্কেট দেখে জোরে হাঁটা শুরু করলাম। এক দোকানিকে বললাম, ‘ভাই, টয়লেটটা কোন দিকে?’

দোকানি : সিঁড়ি দিয়ে উঠে ডান দিকে।

খুঁজে পেয়েই মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে দ্রুত ঢুকে পড়লাম। দুর্ভাগ্য, টয়লেটের সিটকিনিটা নষ্ট। যা-ই হোক, এক হাতে ধরে থেকে সামলে নিলাম। কিন্তু আসল সমস্যাটা দেখা দিল তখন, যখন লক্ষ করলাম পানির টেপের প্যাঁচটি ঘুরছে না। বুঝতে বাকি রইল না, আমি পরিত্যক্ত টয়লেটে অবস্থান করছি। টেনশনের একপর্যায়ে পাশের টয়লেটে বাতি জ্বলে উঠল। কোনো এক আগন্তুকের উপস্থিতি বুঝতে পারলাম। বাধ্য হয়ে প্রতিবেশী মানুষটার কাছে নিজের অবস্থান থেকেই সহযোগিতা চাইলাম। তিনি সাহায্য করলেন। শেষমেশ মান-সম্মান রক্ষা করে বের হলাম। কিন্তু আগন্তুককে ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ হলো না। কারণ ততক্ষণে তিনি চলে গেছেন।

রাস্তায় বের হয়ে একই নামের গাড়ি দেখে উঠে পড়লাম। ওমা, একি! সেই একই সিটে বান্ধবী আর ওর বর বসে আছে। অতঃপর বুঝতে পারলাম, এটা আগের বাসটিই। জ্যামে আগের অবস্থানেই বিদ্যমান।

মো. আতিক উজ জামান


মন্তব্য