kalerkantho


দুই হাজার শিক্ষক নেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মে, ২০১৮ ১২:২৬



দুই হাজার শিক্ষক নেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে সারা দেশে দুই হাজার ২০ জন শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আবেদন করা যাবে ১৬ মে পর্যন্ত। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আহমদ শুভ

দেশব্যাপী মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রকল্পের আওতায় ষষ্ঠ পর্যায়ে ৬৪ জেলার ৫০৫টি উপজেলা বা জোনে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এক হাজার ১০টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসায় নিয়োগ পাবেন দুই হাজার ২০ জন শিক্ষক। প্রকল্প চলাকালে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত অস্থায়ী ভিত্তিতে এসব নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের জন্য দ্বিনিশিক্ষা-কওমি নেসাবের শিক্ষক পদে নিয়োগ পাবেন এক হাজার ১০ জন। বাকি এক হাজার ১০ জন নিয়োগ পাবেন দ্বিনিশিক্ষা-আলিয়া নেসাবের শিক্ষক পদে। বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যাবে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের ওয়েবসাইটে (http://www.ifmonshik.gov.bd)।

আবেদনের যোগ্যতা  
কওমি নেসাবের প্রার্থীদের কমপক্ষে দাওরায়ে হাদিস পাস হতে হবে। আলিয়া নেসাবের জন্য হতে হবে কমপক্ষে ফাজিল পাস। যাঁরা দাওরা হাদিস বা ফাজিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তবে ফল প্রকাশ হয়নি তাঁরাও শর্তসাপেক্ষে আবেদনের সুযোগ পাবেন। তবে মৌখিক পরীক্ষার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ দেখাতে হবে। সনদপত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। কওমি নেসাবের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মকবুল বা তৃতীয় শ্রেণি এবং আলিয়া নেসাবের ক্ষেত্রে তৃতীয় বিভাগ, শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ থাকলে আবেদন করা যাবে না। প্রার্থীকে ইসলামী অনুশাসনের অনুসারী হতে হবে। ১৫ মে ২০১৮ তারিখে বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। প্রার্থীকে দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসার কারিকুলাম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব বিষয় পাঠদানে সক্ষম হতে হবে। উভয় নেসাবের হাফেজ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মেধাবী, উচ্চশিক্ষিত, প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠদানে সক্ষম, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক, বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী, দক্ষতাসম্পন্ন ও অভিজ্ঞরা অগ্রাধিকার পাবেন।

আবেদন যেভাবে
আবেদন করতে হবে নির্ধারিত ফরমে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট (http://www.islamicfoundation.gov.bd) এবং মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের ওয়েবসাইটে (http://www.ifmonshik.gov.bd) ফরম পাওয়া যাবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বা জেলা কার্যালয় থেকেও আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। আবেদনকারীকে ‘প্রকল্প পরিচালক, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (ষষ্ঠ পর্যায়) (প্রথম সংশোধনী)’ বরাবর সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে অনলাইনে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, পাবলিক সার্ভিস কমিশন শাখা, ঢাকার অনুকূলে প্রকল্পের নিয়োগ হিসাবে (হিসাব নম্বর ০১১০৭০২০০০৩৩২) ৩০০ টাকা জমা দিতে হবে এবং ব্যাংক কর্মকর্তার সিলমোহর, স্বাক্ষরসহ জমা ভাউচার আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। আরো লাগবে সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও চার টাকা মূল্যের ডাকটিকিটযুক্ত যোগাযোগের ঠিকানা লেখাসহ ৯.৫ বাই ৪.৫ ইঞ্চি সাইজের একটি ফেরত খাম। আবেদনের সঙ্গে আর কোনো সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে না। মৌখিক পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্য সব সনদের এক সেট সত্যায়িত ফটোকপি এবং আবেদনপত্রে উল্লিখিত সব সনদের মূলকপি সঙ্গে নিতে হবে। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা একাধিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। পূরণকৃত আবেদনপত্র, ব্যাংকের জমা ভাউচার, ফেরত খাম ও দুই কপি ছবিসহ ডাকযোগে বা সরাসরি পাঠাতে হবে “প্রকল্প পরিচালক, ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প’, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবন, প্লট-ই-৪/এ, সিভিক সেক্টর, আগারগাঁও, শেরেবাংলানগর, ঢাকা-১২০৭” ঠিকানায়। খামের ওপর পদের নাম, আবেদনকারীর নিজ জেলা, পূর্ণ স্থায়ী ঠিকানা, কোন জেলার কোন উপজেলায় চাকরি করতে ইচ্ছুক স্পষ্ট করে লিখতে হবে। নির্ধারিত ঠিকানায় আবেদনপত্র পৌঁছাতে হবে ১৬ মের মধ্যে।

পরীক্ষার প্রস্তুতি
মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের দ্বিনিশিক্ষার শিক্ষক নিয়োগের আগের ধাপের পরীক্ষা হয়েছে গত বছরের অক্টোবরে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন আসে। তবে ধর্মীয় শিক্ষা অংশ থেকে বেশি প্রশ্ন করা হয়।

লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হলে প্রার্থীর আগের পড়া বিষয়ের সিলেবাসের বিষয়গুলোতে জ্ঞান থাকতে হবে। আলিয়া নেসাবের শিক্ষার্থীদের মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড প্রণীত প্রথম থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্তে থাকতে হবে। আরবি ব্যাকরণ, শব্দার্থ, বিভিন্ন নিয়ম-কানুন বিষয়ে জোর দিতে হবে। সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ, গণিতের সূত্র এবং নিয়মাবলি দেখতে হবে। কওমি নেসাবের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ কওমি মাদরাসার নিয়ন্ত্রক বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের নির্ধারিত কিতাবগুলোতে দখল থাকতে হবে। কোরআন ও হাদিস, সিহাহ সিত্তাহর কিতাব, বিভিন্ন আইনশাস্ত্র, চিকিৎসাবিজ্ঞান, ইসলামী বিধিবিধান সম্পর্কে পড়তে হবে। সাধারণ জ্ঞানের জন্য বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামিক স্থাপনা, মুসলিম রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, আইন-কানুন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি জানতে হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিগত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে।

বেতন-ভাতা
নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মাসিক সম্মানীভাতা হিসেবে ১১৩০০ টাকা ও বছরে দুটি ইনসেনটিভ ভাতা দেওয়া হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি
মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সচিব জুবায়ের আহমদ জানান, শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের ১০০ নম্বরের মধ্যে মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে ৭০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। বাকি ১০ নম্বরের জন্য দুটি বড় প্রশ্ন আসবে, প্রতিটির জন্য বরাদ্দ থাকবে পাঁচ নম্বর। একই প্রশ্নে কওমি ও আলিয়া নেসাবের প্রার্থীদের পরীক্ষা হবে। পার্ট এ, বি, সি আকারে প্রশ্ন সাজানো হবে। কওমি নেসাবের প্রার্থীরা কওমি নেসাবের অংশ এবং আলিয়া নেসাবের প্রার্থীরা তাঁদের জন্য নির্ধারিত অংশের প্রশ্নের উত্তর দেবেন। লিখিত পরীক্ষায় পাস করতে হলে অর্ধেক নম্বর অর্থাৎ কমপক্ষে ৩৫ নম্বর পেতে হবে। মূল্যায়নের বাকি ৩০ নম্বরের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য ১০ নম্বর, ভাষাগত দক্ষতায় পাঁচ নম্বর ও মৌখিক পরীক্ষায় বরাদ্দ থাকবে ১৫ নম্বর। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে লিখিত পরীক্ষার স্থান, তারিখ ও সময়সূচি প্রার্থীর দেওয়া ফেরত খামের মাধ্যমে ডাকযোগে জানিয়ে দেওয়া হবে। 


মন্তব্য