kalerkantho


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দরকার ৪৬৫ কর্মী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ জুন, ২০১৮ ১২:১৯



স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দরকার ৪৬৫ কর্মী

স্বাস্থ্য সহকারী, পরিসংখ্যানবিদ, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর, ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্টসহ বিভিন্ন পদে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আবেদন করতে হবে অনলাইনে। শেষ সময় ৪ জুলাই বিকেল ৪টা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ফরহাদ হোসেন 

স্বাস্থ্য সহকারী পদে নেওয়া হবে ৩৬৯ জন। এ ছাড়া পরিসংখ্যানবিদ পদে ১৮ জন, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে ২ জন, কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান পদে ২ জন, স্টোরকিপার ২০ জন, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৩৭ জন, ডার্করুম সহকারী ১ জন, ওয়ার্ড মাস্টার ২ জন, ড্রাইভার ৮ জন ও ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট নেওয়া হবে ৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জনের দপ্তর ও অধীনস্থ দপ্তর, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, গাইবান্ধা এবং বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, চট্টগ্রামের জন্য এসব লোক নেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিটি ছাপা হয়েছে ১২ জুন ইত্তেফাকে। পাওয়া যাবে http://dghsr.teletalk.com.bd/doc/Advertisement.pdf লিংকে।

আবেদনের যোগ্যতা
পরিসংখ্যানবিদ পদে আবেদনের যোগ্যতা-পরিসংখ্যান, গণিত বা অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক। থাকতে হবে কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা। এইচএসসি হলেই আবেদন করা যাবে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে। কম্পিউটারে দক্ষতার ক্ষেত্রে ওয়ার্ড প্রসেসিং, ডাটা এন্ট্রি ও টাইপিংয়ে বাংলায় প্রতি মিনিটে ২৫ ও ইংরেজিতে ৩০ শব্দের গতি থাকতে হবে। কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান পদে রেফ্রিজারেশন বা এয়ারকন্ডিশনিং ট্রেডে এইচএসসি (ভোকেশনাল) পাস হতে হবে। স্টোরকিপার পদে এইচএসসি পাস হলেই আবেদন করা যাবে। অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে এইচএসসি পাস হতে হবে। থাকতে হবে কম্পিউটারে ওয়ার্ড প্রসেসিং, ডাটা এন্ট্রি ও টাইপিংয়ে বাংলায় প্রতি মিনিটে ২০ ও ইংরেজিতে ২০ শব্দের গতি। স্বাস্থ্য সহকারী পদে আবেদনের যোগ্যতা এইচএসসি। ডার্করুম সহকারী ও ওয়ার্ড মাস্টার পদেও চাওয়া হয়েছে একই শিক্ষাগত যোগ্যতা। জেএসসি পাস হলেই আবেদন করা যাবে ড্রাইভার পদে। তবে থাকতে হবে হালকা বা ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ দুই বছরের অভিজ্ঞতা। এসএসসি পাস হলেই আবেদন করা যাবে ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট পদে।

১ মে ২০১৮ তারিখে সাধারণ প্রার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ১৮ ও সর্বোচ্চ ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর। কোন পদের জন্য কোন জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন, তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে। জেলা কোটা অনুসারে জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা আবেদন করতে পারবেন। নিয়োগ কর্তৃপক্ষ জানায়, সব শর্ত পূরণ করা হলে আবেদনকারীকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আবেদনে কোনো রকমের ত্রুটি থাকলে তা বাতিল হবে।

আবেদন যেভাবে
আবেদন করতে হবে অনলাইনে। http://www.dghsr.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটের মাধমে অনলাইনে আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে ১৪ জুন থেকে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৪ জুলাই বিকেল ৪টা। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার সময় থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রের যথাস্থানে ৩০০ বাই ৩০০ পিক্সেলের ছবি এবং ৩০০ বাই ৮০ পিক্সেলের স্বাক্ষর স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। অনলাইনে জমা দেওয়া আবেদনের একটি কপি প্রিন্ট ও ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করে করতে হবে। আবেদন সাবমিট করার পর ইউজার আইডি ব্যবহার করে টেলিটক প্রিপেইড মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট পদের জন্য মোট ৫৬ টাকা এবং অন্য সব পদের জন্য ১১২ টাকা আবেদন ফি পরিশোধ করতে হবে।

যা যা লাগবে
ওয়েবসাইটে (http://www.dghsr.teletalk.com.bd অথবা http://www.dghs.gov.bd) জানা যাবে প্রবেশপত্র প্রাপ্তির দরকারি সব তথ্য। এ ছাড়া প্রার্থীর দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসেও জানানো হবে। এসএমএসে প্রেরিত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে রোল নম্বর, পদের নাম, ছবি, পরীক্ষার তারিখ, সময় ও পরীক্ষাকেন্দ্রের তথ্যসহ প্রবেশপত্র ডাউনলোড দিয়ে রঙিন প্রিন্ট করে নেওয়া যাবে। প্রবেশপত্রটি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সঙ্গে রাখতে হবে। সব পদের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় বসার আগে জমা দিতে হবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের কপি, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা সনদ, প্রতিবন্ধী কোটার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী সনদ প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার দিন সব সনদের মূল কপি সঙ্গে রাখতে হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগ সূত্রে ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগবিধি অনুসারে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা হয়ে থাকে। পদ অনুসারে করা হয় প্রশ্নপত্র। লিখিত পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। প্রতিটি বিষয়ে বরাদ্দ থাকে ২০ নম্বর। প্রতিটি প্রশ্নের মান থাকে ১ নম্বর। টেকনিক্যাল পদের জন্য বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন থাকে। কম্পিউটার অপারেটর পদের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য বসতে হবে টাইপিং টেস্ট বা ব্যাবহারিক পরীক্ষায়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ডাকা হবে মৌখিক পরীক্ষার জন্য।

পরীক্ষার প্রস্তুতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পদের বিপরীতে চাওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুসারে প্রশ্ন করা হবে। স্নাতক ও এইচএসসি পাস যোগ্যতা চাওয়া সব পদে শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু করে এইচএসসির বাংলা, ইংরেজি, গণিত বই থেকেই বেশি প্রশ্ন করা হয়। সপ্তম-অষ্টম শ্রেণির নতুন ও পুরনো সিলেবাসের পাটিগণিত ও বীজগণিত বইও দেখতে হবে।

ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নে স্বাস্থ্য সহকারী পদে কর্মরত মো. এমদাদ উল্লাহ জানান, স্বাস্থ্য সহকারী পদে বেশি প্রশ্ন করা হয় অষ্টম-দশম শ্রেণির বই থেকে। এসব বইয়ের বাংলা অংশ থেকে ব্যাকরণের সন্ধি, কারক, সমাস, এককথায় প্রকাশ, ণত্ব বিধান, ষত্ব বিধানসহ বেশ কিছু টপিক থেকে প্রশ্ন আসে। সাহিত্য অংশ থেকে গদ্য ও পদ্য থেকে প্রশ্ন করা হয়।

ইংরেজিতে ট্রান্সলেশন, টেনস, ভার্ব, প্রিপজিশন, সিনোনিম, অ্যান্টোনিম ইত্যাদি বিষয়ে ভালো দখল থাকতে হবে। গণিতে ভালো করতে হলে পাটিগণিতের সরল, সুদকষা, শতকরা, ঐকিক নিয়ম এবং বীজগণিতের সূত্র, সেট, উৎপাদক বিষয়ে ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। প্রশ্ন আসে জ্যামিতি অংশ থেকেও।

সাধারণ জ্ঞানের মধ্যে থাকে রসায়ন, জীববিজ্ঞানের প্রশ্নসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুর তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন। স্বাস্থ্য সহকারী পদে এসব বিষয়ে জোর দিলে পরীক্ষায় ভালো করা যাবে।

স্বাস্থ্য সহকারী পদের বিগত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন দেখতে হবে। এতে পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রস্তুতিমূলক বই পাওয়া যায়। সহায়ক হতে পারে এসব বই। বাজারে সাধারণ জ্ঞানের বেশ কিছু বই পাওয়া যায়। ভালো মানের একটি-দুটি বই থেকে প্রস্তুতি নিতে পারেন। এসএসসি পাস চাওয়া বা টেকনিক্যাল পদগুলোর জন্যও নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্য বই ও ট্রেডসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। প্রস্তুতি নেওয়া যাবে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির বই পড়ে। অষ্টম শ্রেণি পাস চাওয়া পদের জন্য পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির বইগুলো পড়তে হবে। কারিগরি বা বৃত্তিমূলক পদগুলোর বিষয়ে ভালো অভিজ্ঞতা রাখতে আপডেট থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট কাজের বিষয়ে।

বেতন-ভাতা
পরিসংখ্যানবিদ ও সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে ১০২০০-২৪৬৮০ টাকা, কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান পদে ৯৭০০-২৩৪৯০ ও স্টোরকিপার, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, স্বাস্থ্য সহকারী, ডার্করুম সহকারী, ওয়ার্ড মাস্টার, ড্রাইভার পদে ৯৩০০-২২৪৯০ টাকা স্কেলে বেতন পাওয়া যাবে। ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট পদের বেতনক্রম হলো ৮৫০০-২০৫৭০ টাকা। 



মন্তব্য