kalerkantho


আকর্ষণীয় ক্যারিয়ারের হাতছানি মার্চেন্ডাইজিং

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ জুলাই, ২০১৮ ১৩:০০



আকর্ষণীয় ক্যারিয়ারের হাতছানি মার্চেন্ডাইজিং

গার্মেন্টখাতে বিশ্বজুড়ে সুনাম আছে বাংলাদেশের। কিছু ঘটনায় ক্ষত তৈরি হলেও এই শিল্পে বাংলাদেশ এক অপার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। তাই গার্মেন্ট বা বায়িং হাউজগুলোতে রয়েছে আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার গড়ার হাতছানি। এর মধ্যে একটি স্মার্ট পেশা মার্চেন্ডাইজিং। ভালো বেতন, বিদেশ ভ্রমণসহ নানা সুযোগ-সুবিধা মেলে মার্চেন্ডাইজারদের। দেশে অসংখ্য গার্মেন্ট ও বায়িং হাউজ গড়ে ওঠায় চাকরির বিস্তর সুযোগও রয়েছে। দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্বশীল থাকতে পারলে ভবিষ্যত নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল। 

গার্মেন্টখাতের মোটামুটি প্রতিটি বিভাগে কাজ করে বিপুল অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন মার্চেন্ডাইজারস ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি (এমআইএফটি) এবং বায়িং হাউস এশিয়ান গ্লোবাল সোর্সিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মাওলা মাসুদ। যারা মার্চেন্ডাইজিংয়ে আসতে আগ্রহী, তাদের জন্যে কিছু মৌলিক তথ্য সরবরাহ করেছেন তিনি। 

মার্চেন্ডাইজার ও মার্চেন্ডাইজিং 
এ পেশায় আসতে শিক্ষাজীবনে নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে পড়তেই এমন কোনো কথা নেই। যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই চলবে। আপনি চাইলেই এর পর মার্চেন্ডাইজিং পেশায় আসতে পারেন। অন্য কোনো উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করলে মন্দ নয়। গার্মেন্টের তৈরিকৃত পণ্য বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বিক্রিতে  তৃতীয় পক্ষের সহায়তা প্রয়োজন। আর সেই তৃতীয় পক্ষ হিসেবে গড়ে উঠেছে বায়িং হাউস। বলা যায়, ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে মার্চেন্ডাইজাররাই ভরসা হয়ে ওঠেন। কাজেই এই পেশা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণও বটে। ফ্যাক্টরি ও বায়িং হাউস- এই দুটি ক্ষেত্রে কাজ করেন মার্চেন্ডাইজাররা। বায়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ, পণ্যের নমুনা দেখানো, কী কী উপকরণে তৈরি হবে এবং মান বা টেকসই ইত্যাদি বিষয় ব্যাখ্যা করাই মার্চেন্ডাইজারদের অন্যতম কাজ।

তাহলে যেকোনো বিষয়ে স্নাতক করেই মার্চেন্ডাইজিংয়ে আসা যায়? বিশেষ কোনো বিষয়ে লেখাপড়া করলে বিশেষ সুবিধা মেলার সুযোগ আছে? গোলাম মাওলা জানালেন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বা টেক্সটাইলের যেকোনো বিষয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন এটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়াও স্নাতকোত্তর, বিবিএ, এমবিএ বা অন্যান্য যেকোনো উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের এগোনোর গতি দ্রুততর হবে। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতেই হবে। অন্য কোনো ভাষা জানা থাকলে আরো ভালো। কম্পিউটার সম্পর্কে মৌলিক ধারণা তো যেকোনো চাকরির জন্যেই দরকার। 

চাকরি প্রাপ্তির বিষয়ে তিনি জানালেন, একটু নজর দিলেই দেখবেন, পত্রিকায় সংশ্লিষ্ট চাকরির তেমন বিজ্ঞাপন নেই। তাই বলে যে চাকরি পাওয়া দুষ্কর তা নয়। আসলে দেশে যেসব অনলাইন জব পোর্টাল আছে তাদের মাধ্যমেই প্রার্থীদের সিভি চাওয়া হয়। তবে বেশিরভাগ নিয়োগ হয় ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও পরিচিতির মাধ্যমে। এটাই বাস্তবতা। অর্থাৎ, যদি মার্চেন্ডাইজার হতে চান তো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোর্স করা শেষে বিভিন্ন বায়িং হাউস, ফ্যাক্টরি ও মার্চেন্ডাইজিং পেশায় কর্মরতদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দেবেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে সরাসরি সিভি জমা দিয়ে রাখতে পারেন। সাধারণত ভাইভার মাধ্যমেই নিয়োগ দেওয়া হয়। অনেক সময় লিখিত পরীক্ষা হওয়াটাও স্বাভাবিক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাইভা নেয়া হয় ইংরেজিতে। 

যেভাবে হবেন মার্চেন্ডাইজার 
স্নাতক শেষে মার্চেন্ডাইজিংয়ের ওপর কোর্স করতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোর্সের ব্যবস্থা আছে। ছয় মাস থেকে এক বছরমেয়াদি কোর্স আছে। এক্ষেত্রে বলা যায়, বেশি পড়লে বেশি ভালো। কোর্স করা থাকলে চাকরি পাওয়ায় অনেক সুবিধা পাবেন।

কোর্সের মাধ্যমে ভবিষ্যতের মার্চেন্ডাইজারটা যা শেখেন- 
১. বায়ারদের সঙ্গে ইমেইলে যোগাযোগের আচার-পদ্ধতি,
২. রপ্তানি সংশ্লিষ্ট কাপড় ও অ্যাক্সেসরিজ পরিচিতি,
৩. পোশাক সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীদের বুকিং দেয়ার পদ্ধতি,
৪. কনজাম্পশন অ্যান্ড কস্টিং,
৫. রপ্তানি সংশ্লিষ্ট সকল পোশাকের মাপ শেখা,
৬. প্রডাকশন রিপোর্ট অ্যান্ড প্রডাকশন স্ট্যাটাস

আরো কিছু শেখার আছে। এগুলো সবই কোর্সে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে মার্চেন্ডাইজারস ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজিতে (এমআইএফটি) গড়ে তুলেছেন গোলাম মাওলা। জানালেন, এই প্রতিষ্ঠানে এক বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স শুরু হয় জানুয়ারি ও জুলাইয়ে। খরচ পড়ে ৫০ হাজার টাকা। ছয় মাস মেয়াদি এক্সিকিউটিভ কোর্সে খরচ পড়বে ২৫ হাজার। তাছাড়া চার মাসের সার্টিফিকেট কোর্সও আছে। এর খরচ ১৫ হাজার টাকা।

এ প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ও যোগাযোগ- 
মার্চেন্ডাইজারস ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি (এমআইএফটি)
হাউস-২০, তৃতীয় তলা, শাহ মখদুম এভিনিউ, উত্তরা, সেক্টর-১১, ঢাকা।
ফোন : ৫৫০৮৫২৩৯, ০১৬৭৬১৪২৬৩৩ 



মন্তব্য