kalerkantho


নিলয় মোটরসের এমডি আব্দুল মুসাব্বির আহমেদ

ঢাকায় বিকল্প গণপরিবহন হতে পারে মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকায় বিকল্প গণপরিবহন হতে পারে মোটরসাইকেল

প্রতিযোগিতা করে বাজার দখল জরুরি বিষয় নয়, আমাদের মূল উদ্দেশ্য গ্রাহকদের খুশি করা। বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজার নিয়ে এমনটাই জানালেন নিলয় মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল মুসাব্বির আহমেদ।

বাংলাদেশে ভারতের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিরোর মোটরসাইকেল বাজারজাত করে নিলয় মোটরস লিমিটেড। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজার গত কয়েক বছরের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড়। নিলয়-হিরো সব সময় লক্ষ রাখে সুলভ মূল্যে কাস্টমারদের সবচেয়ে ভালো পণ্য দিতে এবং সহজলভ্য বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারতের অনেক ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল এখন বিক্রি হচ্ছে। ‘হিরো’ যদিও ভারতের একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, তবে এখন ‘হিরো’ ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ড হিসেবে পুরো বিশ্বে পরিচিত। বেশি ব্র্যান্ড থাকা মানেই বেশি প্রতিযোগিতা আর এই প্রতিযোগিতা কাস্টমারদের জন্য সব সময়ই ভালো। গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেলের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থা আমাদের জনসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। সরকার অনুমতি দিলে মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত পরিবহন থেকে গণপরিবহনে ব্যবহার করা যাবে। থাইল্যান্ডে মোটরসাইকেল ট্যাক্সি অনেক বছর ধরে প্রচলিত।

পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় আমাদের শুল্ক বেশি বলে আমাদের মোটরসাইকেলের দামও বেশি। এ জন্য যারা মোটরসাইকেল উৎপাদন করছে তাদের সরকারের আরো ভর্তুকি দেওয়া উচিত।

দেশে বাইক উৎপাদন ও স্পেয়ার পার্টস উৎপাদন নিয়ে তিনি বলেন, হিরো মটকর্প এখন গর্বের সঙ্গে এ দেশে প্রচলিত সব মডেলের মোটরসাইকেল বাংলাদেশেই উৎপাদন করছে। সামনে আমরা স্পেয়ার পার্টস উৎপাদন করার জন্যও কাজ করছি।

নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য জানাতে গিয়ে আব্দুল মুসাব্বির আহমেদ বলেন, হিরো মটকর্পই বাংলাদেশে সর্বপ্রথম মোটরসাইকেলে ৫ বছরের ওয়ারেন্টি প্রদান করে আসছে। অন্যসব ব্র্যান্ডের তুলনায় আমাদের ওয়ারেন্টির নিয়ম কাস্টমারদের জন্য সবচেয়ে সহজ ও লাভজনক। দ্বিতীয়ত, দেশজুড়ে নিলয়-হিরোর টাচ পয়েন্টের মাধ্যমে আমরা দক্ষতার সঙ্গে গ্রাহকদের সর্বত্তোম বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করে আসছি। আর আমাদের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো হিরোর জ্বালানি সাশ্রয়ী মোটরসাইকেল বাংলাদেশের উদ্যমী ও রোমাঞ্চপ্রিয় সচেতন ক্রেতাদের পছন্দ।

তাঁর মতে, ‘হিরো’ ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ড হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার এবং প্রশাসনের সহায়তায় গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের প্রথম সারির মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকার খুবই প্রগতিশীল তার পরও উৎপাদন নীতিমালা যদি আর একটু সহজ হতো তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ এবং বিদেশি ব্র্যান্ড এ দেশে আসা সহজতর হতো। ভবিষ্যতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে দেশীয় উৎপাদনের জন্য আরো পৃষ্ঠপোষকতা আশা করছি।

নয়াদিল্লিভিত্তিক ভারতের মোটরসাইকেল ও স্কুটার নির্মাতা কম্পানি হিরো মটকর্প লিমিটেড। এটি আগে হিরো হোন্ডা নামে পরিচিত ছিল। এটি শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় টু-হুইলার নির্মাতা কম্পানি। ভারতের টু-হুইলার বাজারে হিরোর মার্কেট শেয়ার ৪৬ শতাংশ। ২০০৬ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের শীর্ষ ২০০ রেসপেক্টেড কম্পানির তালিকায় ১০৮তম স্থান অর্জন করে হিরো হোন্ডা। ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হিসাবে কম্পানিটির বাজার মূলধন ৪.৮ বিলিয়ন ডলার।

আব্দুল মুসাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে নিলয় হিরোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সব মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার করার জন্য এবং নিরাপদে পথ চলার জন্য আহ্বান করছি।

 


মন্তব্য