kalerkantho


মোংলা বন্দরে প্রথম যুক্ত হলো বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মোংলা বন্দরে প্রথম যুক্ত হলো বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ

দেশের মোংলা বন্দরে প্রথমবারের মতো যুক্ত হলো তেল বা বর্জ্য অপসারণকারী ছোট জাহাজ। বন্দর প্রতিষ্ঠার ৬৮ বছর পর ‘পশুর ক্লিনার-০১’ নামক অত্যাধুনিক অয়েল স্পিল রেসপনস বা রিকভারি ভেসেলটি (নদ-নদীতে ছড়িয়ে পড়া ভাসমান তেল বা বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ) ক্রয় করা হয়। ২০১৪ সালে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলসংলগ্ন সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকারডুবির ঘটনার পর থেকেই মূলত তেল অপসারণকারী এই জাহাজটি ক্রয়ের উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সুন্দরবন ও পশুর চ্যানেল সুরক্ষায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ফিনল্যান্ড থেকে ক্রয়কৃত পশুর ক্লিনার-০১ নামক জাহাজটি গতকাল মঙ্গলবার মোংলা বন্দর জেটিতে ভিড়েছে। এ সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এ কে এম ফারুক হাসান জাহাজটি গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন এলাকায় ভবিষ্যেত যদি তেল পড়ে বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তবে এ জাহাজ দিয়ে তা অপসারণ করা সম্ভব হবে।

বন্দর চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘পশুর ক্লিনার-০১-এর মতো এ ধরনের ছোট জাহাজ দিয়ে সাধারণত ছোট নদী-খালে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণ করা সম্ভব হবে। কিন্তু পশুর চ্যানেলের মতো বড় ও প্রশস্ত  নদী ক্লিন করতে এ ধরনের অন্তত আরো তিন থেকে চারটি অয়েল স্পিল রিকভারি ভেসেলের প্রয়োজন। এ জন্য আমাদের আরো তিন-চারটি অয়েল স্পিল রিকভারি ভেসেল ক্রয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাকিগুলো ক্রয় করা গেলে সুন্দরবন ও বন্দরের দীর্ঘ পশুর চ্যানেলের সুরক্ষা পুরোপুরি নিশ্চিত হবে এবং সুন্দরবন ও পশুর নদীর পরিবেশ ভালো থাকবে।’

সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বন্দরে যেহেতু প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি জাহাজের অবস্থান ও আগমন ঘটে থাকে। সেসব জাহাজ ও বিভিন্ন ধরনের নৌযান থেকে পড়া তরল বর্জ্য অপসারণে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ক্রয়কৃত জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জাহাজটি সংযোজনের ফলে বঙ্গোপসাগর, সুন্দরবন ও পশুর চ্যানেলের পরিবেশ, জলজ-প্রাণিজ সম্পদসহ জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এটি দেরিতে ক্রয় করা হলেও এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর মোংলার সুন্দরবনের শ্যালা নদীর মৃগামারী এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ ৫৬ হাজার লিটার ফানের্স অয়েল নিয়ে ওটি সাউদার্ন স্টার-০৭ নামক একটি ট্যাংকারডুবির ঘটনা ঘটে। তখন বন্দরের নিজস্ব বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ না থাকায় ওই সময় সিঙ্গাপুর থেকে জাহাজ এনে সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণ করা হয়। মুলত তখনই বন্দরের নিজস্ব অয়েল স্পিল জাহাজ ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বন্দর ব্যবহারকারী ও মোংলা বন্দর শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মো. রফিক বলেন, যেহেতু মোংলা বন্দরের কর্মচাঞ্চল্যতা বেড়েছে বন্দরে যেকোনো সময় অয়েল স্পিল দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। এ সময় বন্দর এ ধরনের অয়েল স্পিল ক্লিনার জাহাজ কেনা একটি সময় উপযোগী পদক্ষেপ।


মন্তব্য