kalerkantho


বিপিজিএমইএর বাজেট প্রতিক্রিয়া

প্লাস্টিক ব্যাগ ও মোড়কে ৫% সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার দাবি

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



প্লাস্টিক ব্যাগ ও মোড়কে ৫% সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার দাবি

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)। সংগঠনটি মনে করে বাজেটের কয়েকটি পদক্ষেপ এ শিল্পের জন্য ইতিবাচক। তবে আরো কিছু প্রস্তাব বিবেচনায় নিলে প্লাস্টিকসহ অন্যান্য রপ্তানি খাত উপকৃত হবে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্লাস্টিকের তৈজসপত্র এবং আহরিত বর্জ্য থেকে রি-সাইক্লিং করে দানা উৎপাদনকারী প্লাস্টিকের প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। ১৫০ টাকা পর্যন্ত দামের প্লাস্টিক ও রাবারের হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকার ওপর থেকে মূসক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিক খাতের মৌলিক কাঁচামাল কোটেড ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে  এসব পণ্যের দাম কমতে পারে, এতে নিম্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হবে।

প্লাস্টিক খাতের বেশ কিছু তৈরি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে, স্থানীয় ওষুধশিল্পের প্যাকেজিং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের আমদানীকৃত কাঁচামালের শুল্ক তৈরি পণ্যের আমদানির ওপর ধার্যকৃত সমহারে ৫ শতাংশে নামিয়ে না এনে ১৫ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে, যা শুল্কনীতির পরিপন্থী, ফিলার ও মাস্টারব্যাচ প্লাস্টিক খাতের মৌলিক কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়বে। ফলে  শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা এগুলো পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করছি। প্রস্তাবিত বাজেটে সব ধরনের প্লাস্টিক ব্যাগ (ওভেন প্লাস্টিক ব্যাগসহ) ও মোড়ক সামগ্রীর ওপর নতুনভাবে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বিকাশমান প্লাস্টিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমে যাবে। অন্যদিকে সব ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে মোড়ক সামগ্রী (র‌্যাপিং) অত্যাবশ্যকীয়। ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়বে, ফলে মোড়কীকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাধারণ ভোক্তাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ পড়বে। বিষয়টি বিবেচনায় এনে ৫% সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান মো. জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, প্লাস্টিকশিল্পের মূলধনী যন্ত্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য উপাদান অন্য শিল্প খাতের মতো রেয়াতি হারে আমদানি শুল্ক, মূসক, সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতির এসআরওতে অন্তর্ভুক্ত না করায় শিল্পায়ন প্রক্রিয়া দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি বলেন, রপ্তানি খাতে উৎসে কর ০.৭০ থেকে ১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। আমরা উৎসে কর ০.৫০ শতাংশে নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সব রপ্তানি খাতে করপোরেট করহার সমতায়ন না করে বিদ্যমান বৈষম্য বহাল রাখা হয়েছে, যা করনীতির পরিপন্থী। আমরা সব রপ্তানি খাতের করপোরেট করহার সমান ১০% হারে ধার্য করার প্রস্তাব করছি।

 


মন্তব্য