kalerkantho


দেশি গয়না বিদেশি প্রসাধনীতে আগ্রহ

ফারজানা লাবনী   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



দেশি গয়না বিদেশি প্রসাধনীতে আগ্রহ

দুয়ারে ঈদ, শেষ সময়ের কেনাকাটায় সবাই ব্যস্ত। জামা কাপড় জুতার পাশাপাশি গয়না ও প্রসাধনী কিনছেন নারীরা। সোনা, রুপা, মুক্তা, পাট, পুঁথি, পিতল, কাঠ, ইমিটেশন, মাটির তৈরি সব ধরনের গয়নাই কম-বেশি ঈদ উপলক্ষে বিক্রি হচ্ছে। এসব গয়নার প্রতিটিতে রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। অন্যান্য উৎসবের মতো ঈদেও বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর চাহিদা বেশি। ঈদে নেওয়া পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিক, লিপ লাইনার, লিপ গোস, আইলাইনার, আই শ্যাডো, নানা ধরনের ফাউন্ডেশন, নেইলপলিশ, বাসারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী কিনছেন ক্রেতারা। সরজমিন বায়তুল মোক্কারম, নিউ মার্কেট, গাউসিয়া, চাঁদনী চক, বসুন্ধরা সিটি, মেট্রোশপিং মল, রাপা প্লাজা, ফার্মগেট এলাকা, আড়ংয়ের বিভিন্ন শাখা, মিরপুর ১০ নম্বর ঘুরে ঈদ বাজারের এমন দৃশ্য দেখা যায়।

ঈদ সামনে রেখে পদ্মাবতী, চোকার, রেশমি বিভিন্ন নামের গয়না বিক্রি হচ্ছে। এসবের দাম ২০০ টাকা থেকে ২০০০ বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গোল্ড প্লেটেড হাল ফ্যাশনের এসব গয়নার দাম আরো বেশি। ফ্যাশন সচেতনরা বেশি দামেও এসব কিনছে। সোনা, রুপা, মুক্তা, পিতল, পুঁথি, ইমিটেশন, মাটি, কাঠ, পাট দিয়ে তৈরি গলার মালা, হার, চেইন, চুরি, হাতের ব্রেসলেট, বালা, আংটি, চুলের কাঁটা, পায়ের নূপুরসহ বিভিন্ন ধরনের গয়না বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের অধিকাংশ কিশোরী-তরুণী। কেউ কিনছেন নিজের জন্য আবার অন্যকে উপহার দিতেও গয়না নিচ্ছেন। উচ্চবিত্তের ক্রেতারা দাম বেশি দিয়ে হলেও সোনা, রুপা, মুক্তার গয়না বেশি কিনছেন।

মধ্যবিত্ত ক্রেতারা বরাবরের মতো গোল্ড পেটেড ইমিটেশনের গয়না বেছে নিচ্ছেন। নিম্নবিত্ত শ্রেণি গয়না কিনতে ফেরিওয়ালা ও ফুটপাতে যাচ্ছে। বড় বড় শপিং মলের নামিদামি জুয়েলারির দোকানে সাজিয়ে রাখা সোনা, রুপা, মুক্তাসহ বিভিন্ন ধরনের গয়নায় রয়েছে আধুনিকতার ছাপ। ঈদ উপলক্ষে আড়ংয়ে স্বর্ণের গয়না কিনতে আসা গৃহিণী মোনতাসা আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আড়ংয়ের স্বর্ণের গয়নার ডিজাইন আধুনিক। ঈদ উপলক্ষে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে যেকোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া যায়।’ মধ্যবিত্ত শ্রেণির পছন্দের তালিকায় ইমিটেশনের পরেই রয়েছে গোল্ডপ্লেটেড রুপার গয়না। রকমারি ডিজাইনের এসব গয়নার সৌর্ন্দয একটি অন্যটির চেয়ে কম নয়। মুক্তার গয়নাও বিক্রি হচ্ছে। আসল ও নকল উভয় ধরনের মুক্তার প্রতি ঝুঁকছে ক্রেতারা। ১০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকার সোনা, মুক্তা ও রুপার গয়না বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে ইমিটেশনের গয়নার চাহিদা বেশি। এসব গয়নার দাম সোনা, মুক্তা, রুপার গয়নার তুলনায় কম হলেও ডিজাইনে রয়েছে বৈচিত্র্য। নিউ মার্কেটে ইমিটেশনের গয়না কেনার পর শিক্ষার্থী পপি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইমিটেশনের গয়নায় অনেক সুন্দর সুন্দর ডিজাইন আছে। ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়ও সুন্দর ইমিটেশনের গয়না পাওয়া যায়।’

ঈদ উপলক্ষে সব ধরনের গয়নার দাম বেড়েছে। ইমিটেশনের গয়নার মধ্যে পাথর ও পুঁতি লাগানো গয়নার চাহিদা বেশি। প্রতি সেট পুঁথি বসানো গয়না ২০০ থেকে ২০০০ টাকা বা এর বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আংটি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বা এর বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। টিকলি, গলার মালা, চুরি, বালা, ব্রেসলেট, নূপুর, পায়েল ১০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোমরের বিছা, হাতের বাজু, টায়রা এসবও কিনছেন অনেকে। স্বল্প আয়ের মানুষ ফেরিওয়ালা বা ফুটপাত থেকে গলার চেন, হার, হাতের আংটি, চুরি, পায়েল, ক্লিপ, ব্রেসলেট, কানের দুলসহ সব ধরনের গয়না কিনছে। এসব গয়না ১০ টাকা থেকে ২০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এসব গয়না গুণগতমানের না হলেও দেখতে চটকদার। ঈদ উপলক্ষে এসব গয়নার দামও বাড়তি।

গয়নার পাশাপাশি বাজার চাঙ্গা প্রসাধনসামগ্রীর। এবারে ঈদ বাজারে বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর চাহিদা বেশি। দাম বেশি হলেও গুণগতমানের প্রসাধনী কিনতে অধিকাংশ ক্রেতা বড় বড় শপিং মল বা শোরুমেই ছুটছেন। তবে এসব নামিদামি বিপণিবিতানে যাওয়া যাদের সামর্থ্যের বাইরে তারা ঈদের মতো বিশেষ দিন উদ্যাপনে প্রসাধনীর খোঁজে ছুটছে ছোট্ট  পরিসরের দোকান বা ফুটপাতে। ঈদ বাজেটের শেষ ভাগের টাকায় লিপস্টিক, নেইলপলিশ, আলতা বা পাউডার কিনতে চায়। ব্র্যান্ডের পণ্যের মধ্যে গোল্ডেন রোজ, ম্যাক, লোরিএল, আরটিসিট্র, সেফোরা ডাব, ডাইওর, আরবান ডিকেইসহ বিভিন্ন বিদেশি পণ্যের চাহিদা বেশি। এসব ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর দাম ২০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা বা তার বেশি। ব্র্যান্ডের লিপস্টিক বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। ভালো মানের মেকআপ বক্স যার মধ্যে প্রায় সব কিছু রয়েছে তার দাম ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা বা তার বেশি। উচ্চবিত্তের ক্রেতারা এক দামের দোকান থেকে দরদামের ঝামেলা এড়িয়ে ব্র্যান্ডের প্রসাধনী কিনছে। দামের চেয়ে তারা পছন্দ ও গুণগতমানকে গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি। সীমিত বাজেটের মধ্যে অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণীরা প্রসাধনী কিনছে। তারা দোকানে দোকানে ঘুরে দরদামে সীমিত বাজেটে ভালো মানের প্রসাধনী কেনার চেষ্টা করছে। 

 

 


মন্তব্য