kalerkantho


উদ্যোক্তা

‘ক্ষুদ্র জমা আর খুচরা বিক্রিই মূলধন’

শরিফ রনি   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



‘ক্ষুদ্র জমা আর খুচরা বিক্রিই মূলধন’

শায়লা সুলতানা মিলি, ডিরেক্টর ও ডিজাইনার, চরকা

শিল্পের প্রতি বরাবরই টান মিলির। তাঁর উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পটি শুনলে এটা বেশ স্পষ্ট বোঝা যায়। নিত্যনতুন ডিজাইন নিয়ে ভাবতে ভাবতে এক যুগ সময় কাটিয়ে দিলেন ফ্যাশন জগতে। এই পথচলায় ক্রেতার প্রশংসা আর কিছু সম্মাননা পুরস্কারও পেয়ে গেলেন।

পুরো নাম শায়লা সুলতানা মিলি। তিনি ফ্যাশন হাউস চরকার ডিরেক্টর ও ডিজাইনার। বলছিলেন স্টুডেন্ট লাইফ থেকেই তিনি পোশাকের ডিজাইন করতেন। পরিচিতজনরা ওগুলো দেখে প্রশংসাও করত। অন্যদিন ঈদ ম্যাগাজিনের একটা ফ্যাশন প্রতিযোগিতায় তাঁর করা একটা শাড়ির ডিজাইন পুরস্কারও পেয়ে গেল। এই স্বীকৃতিটুকু ক্রমেই তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। সিদ্ধান্ত নেন ফ্যাশন হাউস খুলবেন। আর চাকরির পেছনে না ছুটে একেই পেশা হিসেবে বেছে নেবেন।

পেছনের দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, আমি হোম ইকোনমিক্স কলেজে অ্যাপ্লাইড আর্ট নিয়ে পড়াশোনা করেছি। এ জন্য ফ্যাশন ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা আছে। এর সঙ্গে গ্রাফিক ডিজাইনটাও শিখে নেই। ২০০৫ সালে এসে মনে হলো একটা শোরুম খুলে ব্যবসায় নামব। জাবেদ কামাল নামে এক সিনিয়র ভাইকে পার্টনার করে শুরু করি। ধানমণ্ডির সাত মসজিদ রোডে আনাম-র্যাংগস প্লাজায় আমাদের প্রথম শোরুম। এরপর ২০০৭ সালে অরচার্ড পয়েন্টে আরেকটি। আমরা শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার ডিজাইন করি। তা ছাড়া হোম টেক্সটাইল যেমন—পর্দা, বেড কাভারও করি। শুরুতে মূলধন কিভাবে জোগাড় হলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বলা যায় নিজের ক্ষুদ্র জমা আর খুচরা বিক্রয়ই মূলধন। ছাত্রাবস্থায়ই আমার বিয়ে হয়ে যায়। সংসার জীবনে ব্যবসার শুরুতে আমার হাজবেন্ড মনিরুল আহসান আমাকে কিছু সাপোর্ট দেন। আর পার্টনার কিছু দেন। এভাবে আস্তে আস্তে শুরু করি। ড্রেস তৈরির জন্য একটা কারখানাও তৈরি করি। সে সময় বুটিকের বেশ চাহিদা ছিল। ফলে দ্রুত আমাদের প্রতিষ্ঠান সাফল্য পায়। আর এখন ইন্ডিয়া, পাকিস্তানি ড্রেস এত বেশি ঢুকে গেছে। ক্রেতারা গুণগত মান না দেখেই সেগুলোর দিকে ঝুঁকছে। তারা অনলাইনেও ড্রেস বিক্রি করছে। এটা আমাদের জন্য ব্যাবসায়িক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কিন্তু আমরা যে ফ্যাব্রিক ব্যবহার করি সেটা আরামদায়ক এবং গুণগত মানসম্পন্ন। এগুলো তাঁতির কাছ থেকে করানো হয়। তবে দেশের বাইরে তাদের পোশাকের চাহিদা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কানাডা, আমেরিকায় আমাদের তৈরি পোশাক পাঠাচ্ছি। ফিডব্যাক ভালো।’ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অনেক সুযোগ তৈরি হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, এখন সহজে প্রশিক্ষণ এবং ব্যাংক লোন পাওয়া যাচ্ছে। আমি উইম্যান চেম্বারের সদস্য। আমি স্কলারশিপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবসা এবং বিপণন সম্পর্কে পড়াশোনা করেছি। আমি বলতে পারি, কেউ নারী উদ্যোক্তা হতে চাইলে নিজের আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করে দিতে পারেন। ধৈর্য ধরে কাজ করলে তিনি সফল হবেন। নিজের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি বিডাব্লিউসিসিআই এবং ইবিএল সেরা উদ্যোক্তার সম্মান পেয়েছি। আমি বুটিক শপের পাশাপাশি ওয়েডিং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান খুলেছি আর এর সঙ্গে আছে ক্যাটারিং।’

 


মন্তব্য