kalerkantho


সংসদে মন্ত্রী আনিসুল

জলবায়ু পরিবর্তন ফান্ডে বরাদ্দযোগ্য অর্থ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০১৮ ০০:০০



পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সংসদকে জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে। তবে বর্তমানে এই ফান্ডে বরাদ্দযোগ্য অর্থের স্থিতি নেই।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে এসংক্রান্ত লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য হাজেরা খাতুন। জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে এ পর্যন্ত মোট রাজস্ব বাজেট থেকে তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মেকাবেলায় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টি বোর্ড ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মে মাস পর্যন্ত ৫৬২টি প্রকল্প নিয়েছে। এর মধ্যে ২৫৯টি প্রকল্প ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

জলবায়ু মন্ত্রী জানান, জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিল পরিচালনার জন্য আইনি বিধান অনুযায়ী ১৭ সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং এই বোর্ডকে সহায়তার জন্য ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি সহায়তা কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঝুঁকি নিরূপণের জন্য ‘অ্যাসেসমেন্ট অব সি লেবেল রাইজ অ্যান্ড ভার্নাবিলিটি ইন দ্য কোস্টাল জোন অব বাংলাদেশ থ্রু টেন্ড এনালিসিস’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্প চলমান। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক প্রকল্প ও সহায়তা কার্যকর রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, বন অধিদপ্তরের অধীন ২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। ১৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এর মাধ্যমে ১৮ হাজার ৬৯৭ হেক্টর ব্লক বাগান, দুই হাজার ৭১৭ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান, বিক্রয় ও বিতরণসহ পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ১৩ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বনজদ্রব্য থেকে রাজস্ব আয়ের পরিবর্তে অভিযোজন, প্রমশন ও বনে পর্যটন শিল্প প্রসারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে বনভূমির মোট পরিমাণ প্রায় ২৬ লাখ হেক্টর। এটা দেশের মোট আয়তনের ১৭.৬২ শতাংশ। এর মধ্যে এ যাবদ দুই লাখ ৬৮ হাজার একর সরকারি বনভূমি বেদখলে রয়েছে। তবে বর্তমানে ব্যাপক প্রচার এবং সরকারের তৎপরতার ফলে নতুন করে বনভূমি জবরদখলের সুযোগ নেই। আর জবরদখলকৃত জমি মুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটিও হয়েছে।

সংরক্ষিত আসনের সদস্য বেগম সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশের বনভূমি ২৪ শতাংশে উন্নীত করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

 



মন্তব্য