kalerkantho


উদ্যোক্তা

‘ইনফোসিসের মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখি’

শরিফ রনি   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



‘ইনফোসিসের মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখি’

রইসুল কবির, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্রেইন স্টেশন ২৩

ছাত্রজীবনে টিউশনি করে আয় করতেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির কিছুদিন পর চিন্তা করলেন টিউশনি নয়, চাকরি করবেন। কারণ, প্রগ্রামিংয়ের কাজ করতে তাঁর ভালো লাগত। যদিও টিউশনিতে টাকা অনেক বেশি ছিল। বুয়েটের চতুর্থ বছরে গিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন। তিনি ফ্ল্যাশে প্রগ্রামিং করতে পারতেন। বেশি মানুষ এটা পারত না, তাই অনেক কাজ পেতেন। ভাবতে শুরু করেন যদি একটা কম্পানি দেওয়া যায়। ২০০৬ সালে শুরু করে এক যুগ পর এভাবেই জানান সফটওয়্যার কম্পানি ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা রইসুল কবির। বর্তমানে স্বপ্ন দেখেন ব্রেইন স্টেশন ২৩কে ভারতের ইনফোসিসেস মতো বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার। যেখানে ৫৬ হাজারের মতো কর্মী কাজ করে।

তিনি বলেন, আমার মা-বাবা দুজনেই স্কুলশিক্ষক। খুব প্রাচুর্য যেমন দেখিনি, খুব অভাবও দেখিনি। তাই অনেক টাকার প্রতি আকর্ষণ ছিল না। আবার দারিদ্র্যের ভয়ও ছিল না। চিন্তা করলাম ঝুঁকিটা নিই। যদি ব্যর্থ হই, ফ্রিল্যান্সিং করে চালিয়ে দেব। শুরু করে দিলাম ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর কাজ। আমার পার্টনাররা খুবই ভালো। তাঁদের অসাধারণ দিকনির্দেশনা আর উৎসাহে আমি এগিয়ে গেলাম। খুবই ভালো কিছু সহকারী পেলাম, তাঁদের অসাধারণ সাহায্যের ফলে আরো সহজ হয়ে গেল পথচলা। সত্যি কথা বলতে কি, আমি খুবই ভাগ্যবান ছিলাম। তাই এখানে আসতে পেরেছি।

তিনি জানান, এখন ব্রেইন স্টেশন ২৩ দেশের শীর্ষ ১০টি কম্পানির একটি। ১৭০ জন প্রকৌশলীর পাশাপাশি মোট ১০০ জন মানুষ এখানে কাজ করেন। সেরা আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বেসিসের (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস) পুরস্কার পেয়েছে ব্রেইন স্টেশন ২৩। ২০১২ সালে এইচএসবিসি ব্যাংকের এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স পুরস্কার পেয়েছি আমরা। ব্রেইন স্টেশনের প্রবৃদ্ধি ৩০ শতাংশ বলে জানান তিনি।

নিজের সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি তেমন একটা মেধাবী ছিলাম না। কিন্তু আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল পড়ার। শুরু থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল বড় কম্পানি করা, যেখানে অনেক মানুষ কাজ করবে। যখনই কিছু লাভ করেছি, আরো মানুষ নিয়েছি, প্রতিষ্ঠানকে আরো বড় করার চেষ্টা করেছি। যখনই কোনো ভালো মেধাবী প্রগ্রামার পেয়েছি, নিয়ে নিয়েছি, কাজ না থাকলেও নিয়েছি।

প্রতিষ্ঠান করতে গিয়ে আর কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০০৭ সালে এমবিএ পড়া শুরু করলাম। নিজে প্রকৌশলী ছিলাম, ব্যবসা পরিচালনা করার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই ব্যবসার মৌলিক বিষয়গুলো শেখার চেষ্টা করলাম। তারপর পিএমপি, জেডসিই, সিএসএমের মতো আরো কিছু বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে সার্টিফিকেট নিলাম, যাতে ব্যাবহারিক জ্ঞানের পাশাপাশি দরকারি পুঁথিগত জ্ঞানও থাকে। বিশেষ করে আমি যেহেতু কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার না, এই জ্ঞানগুলো আরো বেশি দরকার ছিল।

প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতায় তিনি বলেন, আমরা আমাদের কর্মীদের খুব বিশ্বাস করি এবং সব কাজে সততা বজায় রাখি। আমরা গ্রাহকদেরও বিশ্বাস করি এবং তাঁদের সঙ্গে কর্মীদের সরাসরি কাজ করার সুযোগ দিই। এভাবে নানা কাজের ভেতর দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি।



মন্তব্য