kalerkantho


লিঙ্গ বৈষম্যমূলক মন্তব্যে বরখাস্ত গুগলের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ আগস্ট, ২০১৭ ১৭:১৫



লিঙ্গ বৈষম্যমূলক মন্তব্যে বরখাস্ত গুগলের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

গুগলের বরখাস্তকৃত কর্মী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জেমস ডামোর

গুগলের নারী কর্মীরা সফলতার দিক দিয়ে জৈবিকভাবেই পুরুষদের থেকে পিছিয়ে- এক অভ্যন্তরীন স্মারকলিপিতে এমন দাবি করেন এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জেমস ডামোর। তার এমন মন্তব্য ভাইরাল হয়ে যায়।

সিলিকন ভ্যালিতে গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গ বৈষম্যের ধারক ও বাহক এমন কর্মীর নমুনা দেখে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমন বৈষম্যমূলক মানসিকতা তুলে ধরার কারণে পরে গুগল তাকে চাকরিচ্যুত করে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানের 'কোড অব কন্ডাক্ট' ভঙ্গের কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।  

তবে ওই কর্মীর চাকরিচ্যুতি বিষয়ে অফিসিয়ালি কিছু জানায়নি বিশ্বের সেরা এই প্রতিষ্ঠান। এদিকে প্রতিষ্ঠানে 'রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযান' অতি জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। তা ছাড়া গুগল তার কর্মীদের স্বাধীন মতামতের কণ্ঠ রোধ করছে কিনা তাও দেখার সময় হয়েছে বলে জোর দাবি উঠেছে। তবে গুগল এএফপি-কে বলেছে, অফিসের কোনো একজন কর্মীর অভ্যন্তরীন বিষয়ে কথা বলতে রাজি নয় তারা।  

কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ইমেইলে সিইও সুন্দর পিচাই জানিয়েছেন, কর্মীদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। এই কর্মীর লেখনিতে যা ছিল তা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে।

কিন্তু কিছু অংশ গুগলের আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে। এখানে আমাদের সহকর্মীদের বড় একটা অংশের মেধা ও যোগ্যতাকে লিঙ্গগতভাবে দুর্বল বলে হেয় করা হয়েছে। এটা আপত্তিকর এবং মোটেও ঠিক নয়।  

পিচাই আরো উল্লেখ করেন যে, গুগলের কোড অব কন্ডাক্ট সব সময় কর্মীদের হয়রানিমূলক, হুমকিমূলক, পক্ষপাতদুষ্ট এবং বেআইনিভাবে বৈষম্যমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার কথা বলে।  

তবে তিনি গুগলের প্রশিক্ষণ, কর্মক্ষেত্রে কর্মআদর্শ এবং অন্যান্য বিষয়ে কর্মীদের সমালোচনার অধিকারকে সমর্থন করেন। এসব বিষয়ে যা আলোচনা করতে চান তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না গ্রহণের নীতিমালা রয়েছে আমাদের।  

বিষয়টি ভাইরাল হওয়র পর পরই তা টুইটারে আলোচনার হট টপিকে পরিণত হয়। ওই কর্মীর বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাতে থাকেন বিক্ষুব্ধ অনেকে। কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য ঘোঁচাতে সিলিকন ভ্যালি যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সেখানে এমন কর্মীর অবস্থান কর্মআদর্শের বিরুদ্ধে যায় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।  

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জেমসের ওই ১০ পাতার স্মারকলিপিতে টেক ইন্ডাস্ট্রিতে নেতৃত্বের স্থানে যেতে নারীদের দুর্বলতার জৈবিক কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এটা প্রথম প্রকাশিত হয় প্রযুক্তি বিষয়ক খবরের সাইট মাদারবোর্ড-এ। ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ার পরই তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।  

লেখক তার স্মারকলিপিতে লিখেছেন যে, পুরুষদের প্রকৃতিগত কর্মতৎপরতাই তাদের উন্নত কম্পিউটার প্রগ্রামার হয়ে ওঠে। কিন্তু নারীদের মধ্যে আইডিয়ার পরিবর্তে আবেগ আর সৌন্দর্যের দিকেই মস্তিষ্ক কাজ করে বেশি। তারা সামাজিক ও শিল্পকর্মেই বেশি পারদর্শী হয়ে উঠবেন।  

এ ধরনের মন্তব্য প্রকাশের পর গুগলের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেনিয়েলে ব্রাউন জানান, এমন দৃষ্টিভঙ্গী আমি বা এ প্রতিষ্ঠান কখনই সমর্থন করি না কিংবা একে উৎসাহিত করি না।  

গুগলের সাম্প্রতিক হিসাবে বলা হয়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের ৬৯ শতাংশ কর্মীই পুরুষ। প্রযুক্তিখাতে এই সংখ্যা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সূত্র : ডন, ডেইলি মেইল  


মন্তব্য