kalerkantho


ঈদ স্পেশাল জোক্‌স: সিন্দুকের রহস্যময় বাক্স!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৮:৫৮



ঈদ স্পেশাল জোক্‌স: সিন্দুকের রহস্যময় বাক্স!

                                                 (১)
বউ ঝিনুককে খুবই সুখে রেখেছেন জামিল- এই সুনাম সর্বত্র। অর্ধ শতাব্দীর সংসার জীবন তাদের। স্ত্রীর শেষ সময় উপস্থিত হলো একদিন। তিনি স্বামীকে কাছে ডেকে বললেন, সিন্দুক থেকে সেই বাক্সটা বের করে আন।

জামিল বাক্স নিয়ে এলেন।

ঝিনুক: এবার খোল এটা।

জামিল বাক্স খুললেন এবং দেখলেন ভেতরে একটা উলের পুতুল আর নগদ ১০ লাখ টাকা। তিনি বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকালেন স্ত্রীর পানে।

ঝিনুক: তোমার-আমার জীবনে কোনো গোপনীয়তা ছিল না, শুধু এই বাক্সটি ছাড়া। এটি আমি সব সময় লুকিয়ে রাখতাম তোমার কাছ থেকে। তুমি অনেক সন্দেহ করতে এটা নিয়ে।

কিন্তু আজ শেষ সময় চলে এসেছে। তাই...

চোখে পানি নিয়ে জামিল বললেন: পরাণ পাখি আমার, জানু আমার, সুইট হার্ট...এখন এসব থাক...

স্ত্রী: না, বলতে দাও। আমার মা বলতেন, সুখী বিবাহিত জীবনের চাবিকাঠি হচ্ছে তর্ক না করা। স্বামীর আচরণে, দুর্ব্যবহারে যদি একান্তই তুমি বাধ্য হও তর্কে যেতে, তবে শেষ পর্যন্ত তা না করে তার কাছ থেকে দূরে সরে যাও। অন্য ঘরে বা বারান্দায় গিয়ে উলের পুতুল বানাও- তাও ভাল। তো আমি তাই করতাম, এই পুতুলটি তারই প্রমাণ... 

জামিল সাহেবের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠে। তিনি খুবই আবেগতাড়িত হন স্ত্রী ঝিনুকের জন্য, পরলোকগত শাশুড়ির জন্যও অনেকদিন পর এক্সট্রা ভক্তি জাগলো মনে। একইসঙ্গে চিক্কন একটি সুখও তার বুকে আনন্দের আবেশ ছড়িয়ে দিল, যাক ঝিনুক মাত্র একটা পুতুল বানিয়েছিল সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের দাম্পত্য জীবনে। তার মানে, দুঃখ তিনি আসলেই খুব কম দিয়েছেন সহধর্মীনিকে- লোকজন মিথ্যা বলে না! স্ত্রীর বিদায়ের চির বিষাদমাখা লগ্নেও এই সাফল্যের আনন্দ তার চোখ ফের ভিজিয়ে দিল।  

তবে পুতুলের সঙ্গে ১০ লাখ টাকার বিষয়টি তো ভাঙলো না ঝিনুক! স্ত্রী তার মনোভাব বুঝতে পেরে বললেন: আর সঙ্গে থাকা ওই ১০ লাখ টাকা তোমার জন্য... সারাজীবন তোমার শখ ছিল একটা গাড়ি কেনার। ওই টাকায় একটা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি হয়ে যাবে মনে হয়...

জামিল: কিন্তু ঝিনুক... এই টাকাগুলো কোথা থেকে... তা তো বললে না!

ঝিনুক: গত পঞ্চাশ বছরে প্রায় প্রতিদিন পুতুল বানিয়েছি আমি। সেগুলো একটা একটা করে বিক্রি করে জমানো টাকা হচ্ছে এগুলো...

জামিল সাহেব দাঁড়ানো অবস্থা থেকে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন...আর...

                                                (২)

লাবণী শেষমেষ পণ্ডিতজীর কাছে যেতে বাধ্য হলো। বরের বিরামহীন নির্যাতন আর সওয়া যাচ্ছে না।

পণ্ডিতজী... বিয়ের পর থেকে স্বামী শুধু ধমকা ধমকি করেই যাচ্ছে, ৫ বছর হয়ে এলো। এখন তো গায়েও হাত দেয়!

কারণ?

কারণ জানতেই তো আপনার কাছে আসছি। আমার বড় বোন, ছোট বোন- তাদেরও বিয়ে হইছে। তাদের স্বামী তো এমন করে না! আমার বান্ধবী রুন্টি, মিলা, শুভা- কারও বরই তো এমন না!

হুম, বুঝতে পারছি...

গুরুজি! এই শনি কাটাতে আমি কী ব্রত পালন করবো- বলে দিন, প্লিজ!

আপাততঃ মৌনব্রত পালন কর, মা! সব এমনিতে ঠিক হয়ে যাবে... 


মন্তব্য