kalerkantho


ঈদ স্পেশাল জোক্‌স: সাকিব বনাম বিশ্ব একাদশ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৭:২৭



ঈদ স্পেশাল জোক্‌স: সাকিব বনাম বিশ্ব একাদশ!

প্রতীকি চিত্র

এটা এমন এক সময়ের গল্প যখন বাংলাদেশ বিশ্বের এক নম্বর সুপার পাওয়ার। দুনিয়ার শেষ যুদ্ধটা লড়ছে বাংলাদেশ বনাম বাদবাকি বিশ্ব একাদশ (শক্তি)।

নামে ‘একাদশ’ বলা হলেও আসলে প্রতি দলে বেঁচে আছে আর মাত্র ৫ জন করে সৈনিক। যুদ্ধে যুদ্ধে দুনিয়ার প্রায় সব মানুষসহ সব ধরনের অত্যাধুনিক গোলা-বারুদ অস্ত্রশস্ত্রও খতম প্রায়।  

তো দুই পক্ষের মোট ১০ যোদ্ধা ১০০ ফিট দূরত্বে মুখোমুখি অবস্থানে। বালির বস্তা দিয়ে বানানো প্রতিরক্ষা দেয়াল দুই বাহিনীর সামনেই। প্রত্যেকের হাতে বাঘ মারতে পচাব্দী গাজীর ব্যবহার করা মডেলের গাদা বন্দুক, কার্তুজও হাতে গোনা কয়েকটি।  

তুমুল উত্তেজনা। কিন্তু কেউ ঝুঁকি নিচ্ছে না- প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় সময় কাটছে। এসময় বাংলাদেশি কমান্ডার সাকিব আল হাসান মাথা তুলে সম্মিলিত বাহিনীর দিকে হাঁক ছাড়লেন: অ্যান্ড্রু, মেরিলিন?

শত্রুপক্ষ থেকে অ্যান্ড্রু আর মেরিলিন নামের যোদ্ধা মাথা তুলে জিজ্ঞেস করলো: ইয়েস, বল কী বলতে চাও!

সাকিব সঙ্গে সঙ্গে গুলি করে দুজনকেই নিকেশ করে দিলেন আর মুখে বললেন: যুদ্ধ করতে এসে এত কথা কীসের!

এমন ধারার কঠিন বাঙালি বুদ্ধি আর কথার খোঁচায় সম্মিলিত বাহিনীর বাকি তিনজন পাথর হয়ে গেল শোকে আর রাগে। এখন কী হবে! ওদের পাঁচজন আর আমাদের তিনজন মাত্র! হাতাহাতি লড়াইয়েও তো পারা যাবে না! তবে সম্মিলিত বাহিনীর অস্ট্রেলীয় কমান্ডার অ্যান্ড্রু স্মিথ বললেন- এখন ভয় পেয়ে লাভ কিছু নেই, ভাইসব।

আগেই আমি এইখানে আইতে মানা করছিলাম! যাহোক, এখন আমরা লড়াই করবো এবং ওদের কৌশলেই ওদের বধ করবো।  

কথাটা বলেই স্মিথ মাথা উঁচিয়ে মধুমাখা কণ্ঠে হাঁক ছাড়লেন- সালাম, বিজলী- কেমন আছ ভাইয়েরা?

কিন্তু বাঙালির মাথায় বেল ভেঙে খাওয়ার দিন তখন শেষ হয়ে গেছে। তাই বুদ্ধি আর কাজেও বাঙালি বিশ্বসেরা। সুতরাং কেউ কোনো জবাব দিল না, মাথাও তুললো না।  

প্রতীকি চিত্র

স্মিথ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে শেষে হতাশ হয়ে বসে পড়লেন। মনে মনে বললেন, নো... নো চান্সেস! দে আর ভেরি ক্লেভার নাউডেইজ!

কিছুক্ষণ পরেই বাঙালি কমান্ডার সাকিব ফের উঠে দাঁড়িয়ে বললেন: সালাম, বিজলিরে কার দরকার?

প্রতিপক্ষের সাড়া পেয়ে স্মিথ স্প্রিংয়ের মতো লাফিয়ে উঠে বললো: আমার, আমার...

গুড়ুম!

‘আমার’ শব্দটিই ছিল স্মিথের শেষ কথা। কারণ, কমান্ডার সাকিব তার বন্দুকের এক গুলিতেই প্রতিপক্ষ কমান্ডারের মাথা উড়িয়ে দিয়েছেন।  

সম্মিলিত বাহিনীতে বাকি রইলো আর মাত্র দুইজন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের নিজেদের মধ্যে মারামারি বেঁধে গেল আত্মসমর্পণ করা না করা নিয়ে। একপর্যায়ে যে আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিল তাকে ‘কাপুরুষ’ বলে বকা দিয়ে গুলি করে মেরে ফেললো আত্মসমর্পণ না করতে চাওয়া ‘বীর যোদ্ধা’।  

তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য সে বুঝেলো; আত্মসমর্পণ ছাড়া গতি নাই। কিছুক্ষণ পর মাথায় হাত তুলে বেড়িয়ে এলো সে বালির বস্তার আড়াল থেকে...এবং বাংলাদেশ যুদ্ধে জিতে গেল!

(২)

ঈদের মার্কেটিং করতে গেছে মন্টুর মা। সাততলা মার্কেটের সব দোকান একবার করে দেখে ওপরে উঠেছেন। এখন আবার নামার পথে সেই দোকানগুলো ফের দেখা শুরু করলেন। কিন্তু পছন্দের জিনিস পাচ্ছেন না। সঙ্গে থাকা মন্টুর বাপ ধৈর্যের বাঁধ আর ধরে রাখতে পারছে না। এ পর্যায়ে একটি শাড়ির দোকানে গেল তারা।  

সেলসম্যান: কেমন শাড়ি চাই ম্যাডাম?

মন্টুর বাপ: ডিজাইন, রঙ, কাজ, সুতা- সব তোমার ইচ্ছামতো দেও, ভাই। কিন্তুক এমন শাড়ি হইতে হইবো যাতে প্রতিবেশী সব ভাবি-আপা জ্বইলা-পুইড়া তড়পাইতে থাকে আগামী রোজার ঈদ পর্যন্ত...

(৩) 
স্ত্রীর পছন্দ নিয়ে কখনো ঠাট্টা-কৌতুক করতে যেও না! মনে রেখ- তুমিও তার পছন্দের বস্তুগুলোর একটি- মন্টুর বাপের ডায়েরি থেকে  
 


মন্তব্য