kalerkantho


জোকস: একজন উকিলকে এই প্রথম পেলাম এখানে...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:৫৫



জোকস: একজন উকিলকে এই প্রথম পেলাম এখানে...

                                                (১)

সিভিতে উল্লেখ করেছেন- কোমর পানিতে, নোংড়া পানিতে সাঁতারে বিশেষ দক্ষতার কথা - কেন? চাকরি তো করবেন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে। তার ওপর কোমর পানিতে-নোংড়া পানিতে সাঁতার! এসব কী! সিভিতে কেউ এত প্যাঁচানো কথা লেখে?

স্যার, আমি আসলে বোঝাতে চেয়েছি- ঢাকায় ঝুম বৃষ্টি হলেও অফিসে পৌঁছাতে অসুবিধা হবে না আমার।

!

সরি, আপনাকে ভুল বোঝার জন্য মাফ করবেন! আপনি আজই জয়েন করুন! আপনার মতো লোকই তো খুঁজছিলাম এতদিন...সাব্বাস! 

                                                (২)

একই দুর্ঘটনায় এক গ্রামের দুই ব্যক্তি মারা গেলেন। একজন এলাকার সুখ্যাত পরহেজগার ব্যক্তি সমীর অপরজন উকিল কাজল। আমলনামা মোতাবেক দুজনই স্বর্গবাসী। ফেরেস্তা এসে দুজনকে নিয়ে গেল যার যার বিশ্রামের স্থান দেখাতে। ধার্মিককে দেওয়া হলো সাধারণ মানের সিঙ্গেল বেডের একটি ঘর যাতে ফ্যান ও লাইট আছে। কিন্তু উকিলকে দেওয়া হলো রীতিমতো ফাইভস্টার হোটেলের অতি আরামদায়ক স্যুইট। ব্যবস্থা দেখে উকিলের সন্দেহ হলো। নিশ্চয়ই কোনো ফজলামো হচ্ছে তার সঙ্গে।

উকিল স্বর্গীয় দূতকে বললেন: মনে হচ্ছে কোথাও ভুল হয়েছে।

এই স্যুইটটা সমীর সাহেবের হওয়ার কথা আর উনাকে যেটা দেওয়া হয়েছে...

ফেরেস্তা: না না! সবই ঠিক আছে। স্বর্গে কোনো ভুল হয় না। এটা আপনারই।

উকিল: আমার হিসেব তো বলছে এই স্পেশাল স্যুইট আমার হতেই পারে না...

ফেরেস্তা: কিন্তু এখানে হয়েছে, মহাশয়। কারণ, আমরা এযাবত পরহেজগার লোক হাজার হাজার পেয়েছি- কিন্তু একজন উকিলকে এই প্রথম পেলাম এখানে...  

                                                (৩)
এক আইনজীবী লটারিতে মহামূল্য একটি মার্সিডিজ পেলেন। গাড়িটি সহকর্মীদের সবাইকে দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দিতে নিজে চালিয়ে কোর্টে যাচ্ছিলেন। এসময় পেছন থেকে দ্রুতগামী একটি ট্রাক এসে ধাক্কা মেরে চলে গেল। ট্রাকটি ড্রাইভিং সিটের পাশের দরজাটি ভেঙে সঙ্গে নিয়ে গেছে। আইনজীবী হায় হায় করে উঠলেন। গাড়ি থামিয়ে দৌড়ে পাশের পুলিশ ফাঁড়িতে গেলেন।

আইনজীবী: এইমাত্র একটি বেপরোয়া ট্রাক আমার গাড়ির দরোজা ভেঙে নিয়ে চলে গেছে। তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিন।

পুলিশ কর্মকর্তা: আপনি তো একজন আইনজীবী, তাই না?

খুবই বিরক্ত হয়ে আইনজীবী: হ্যাঁ। কিন্তু এর সঙ্গে এই মামলার কী সংযোগ!?

পুলিশ কর্মকর্তা: কারণ, একমাত্র আইনজীবীরাই এমন করে থাকে। টাকা আর সম্পত্তি ছাড়া কিছুই বোঝে না।

আইনজীবী: এসব কথার মানে কী?

পুলিশ কর্মকর্তা: আমি বাজী রেখে বলতে পারি যে আপনি এখনো খেয়ালই করেননি যে ট্রাকওয়ালা গাড়ির দরজার সঙ্গে সঙ্গে আপনার একটা হাতও ভেঙে নিয়ে গেছে!

আইনজীবী: ওহ্‌ শিট! আমার সোনার চেনওয়ালা রোলেক্স ঘড়িটাও গেছে দেখছি... 

                                                (৪)
অপরাধীদের কাছে জনপ্রিয় কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে কুখ্যাত এক আইনজীবী গ্রামে বেড়াতে গিয়ে বন্দুক নিয়ে পাখি শিকারে বের হলেন। তার গুলিতে আহত একটি পাখি উড়ে গিয়ে পড়লো পাশের খামারে। তিনি পাখিটিকে তুলে আনতে গেলেন। ওদিকে খামারের মালিক বৃদ্ধ কৃষক আহত পাখিটিকে তুলে ক্ষতস্থান ব্যান্ডেজ করছিলেন।   তিনি আইনজীবীকে আটকালেন।

কৃষক: আপনি আইন ভেঙে পাখি শিকার করছেন!

আইনজীবী: বাজে কথা বলো না! তুমি জানো না আমি কে? আমার শিকার করা পাখিটি নিয়ে যেতে দাও।

কৃষক: এই পাখি আপনি পাবেন না। আর এটা আমার জমি এবং আমার বিনা অনুমতিতে আপনি এখানে ঢুকতে পারেন না।  

আইনজীবী: আমি দেশের শীর্ষ আইনজীবী আর তুমি আমাকে আইন শেখাচ্ছো! লেখাপড়া জানা মানুষজন জানে কতো বড় বড় খুনিকে আমি নিরপরাধ প্রমাণ করেছি আর কতো লোককে খামোখাই জেলের ঘানি টানিয়েছি...

কৃষক: আপনি যেই হোন তাতে কিছু আসে যায় না। তবে আমরা আমাদের গ্রামে এ ধরনের সমস্যার সমাধান স্থানীয় কায়দায় করি।

আইনজীবী: কী সেই কায়দা, বল তাড়াতাড়ি!

কৃষক: যে দুজনের মধ্যে বিবাদ তারা একজন আরেকজনকে তিনটি করে উষ্টা মানে লাথি মারে। এভাবে চলতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের একজন পরাজয় স্বীকার করে নেয়। একে বলে ‘তিন উষ্টা’ পদ্ধতি। একেকজন পর পর তিনটি করে লাথি মারতে থাকে।  

ধূর্ত আইনজীবী খুব দ্রুত হিসাব কষে বুঝলেন এই হাড় জিরজিরে বৃদ্ধ লাথির লড়াইয়ে বেশিক্ষণ টিকবে না তার সঙ্গে। ওদিকে দুজনের চেঁচামেচিতে আশপাশে বেশকিছু দর্শকও জড়ো হয়েছে। আইনজীবী মনে মনে হেসে নিয়ে বললেন: ওকে, তিন উষ্টা পদ্ধতিই সই। আমি রাজি।

কৃষক: তাহলে আমি শুরু করি।

আইনজীবী: সমস্যা নাই, আমি প্রস্তুত।  

আইনজীবী শক্ত হয়ে দাঁড়ালেন কৃষকের সামনে। কৃষক আহত পাখিটিকে পাশের একজনের হাতে দিয়ে ঘুরেই আইনজীবীর উরুসন্ধিতে মারলেন কঠিন এক লাথি। বুড়ো হলেও কঠোর পরিশ্রমী চাষার পাগুলো তো লোহার মতো শক্ত। আইনজীবী চোখেমুখে অন্ধকার দেখলেন।   কোমড় কুঁচকে বসে পড়লেন। ওদিকে কৃষক দ্বিতীয় লাথি চালালো তার পেট আর বুকের মাঝ বরাবর। আইনজীবী দুপুরে যেসব মোগলাই খাবার খেয়েছিলেন তা বেড়িছে আসলো বমি হয়ে। তিনি ফুটবলের মতো কুঁচকে পড়ে রইলেন মাটিতে। এবার কৃষক মারলেন তৃতীয় লাথি তার পশ্চাদ্দেশে। আইনজীবী সোজা দাঁড়িয়ে গেলেন।

তবে জীবনে অনেক কঠিন কেস লড়া পোড়খাওয়া আইনজীবীর মাথা পুরো ঠাণ্ডা রয়েছে। কারণ, তিনি জানেন এই লড়াইয়ে জয় তার অবধারিত। তিনি বুড়োর চেয়ে অনেক কঠিন আঘাত হানতে যাচ্ছেন এবার।

আইনজীবী: ওকে, বুড়ো হারামি কোথাকার! এবার আমার পালা। দাঁড়াও, দেখি এবার তোমার পায়ে কতো শক্তি আছে।

কৃষক: স্যার, আমি হার মানছি। এই নেন, আপনার জেতা পাখিটা নিয়ে যান!

এই জবাবে আইনজীবীর মাথা ঘুরতে লাগলো, বুকেও ব্যথা শুরু হলো। দ্রুতই তিনি জ্ঞান হারালেন।  


মন্তব্য