kalerkantho


ইন্দুরকানীতে সরকারি গাছ বিক্রি

ফকিরের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙিয়ে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বালিপাড়া পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন ফকির একের পর এক গাছ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বালিপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব চরবলেশ্বর ছোরের খালের ওপর নির্মিত স্লুইস গেটের দুই পাশে ও কচা নদীসংলগ্ন বেড়িবাঁধের পাশে রেইন্ট্রি, চাম্বল, মেহেগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১৮টি গাছ রয়েছে। তিন মাস আগে এখানে বেড়িবাঁধের রাস্তা নির্মাণ করার সময় দুটি চাম্বল ও মেহেগনি গাছ বিক্রি করা হয়। এর আগে তিনি স্লুইস গেটের উত্তর পাশের রেইন্ট্রি, চাম্বল ও একটি গুলবগাছ বিক্রি করেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির (ডাব্লিউএমসি) অন্য সদস্যদের না জানিয়ে পুরো টাকাই তিনি একা

হজম করেছেন। গাছগুলো বিক্রির সময় স্থানীয়দের প্রশ্নের সম্মুখীন

হলে কখনো পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির ধুয়া তুলে, আবার কখনো মসজিদ-মাদরাসায় দান করার কথা বলে এড়িয়ে গেছেন।

এদিকে ৬ মার্চ স্লুইস গেটের উত্তর পাশ থেকে দুটি চাম্বলগাছ কাটার সময় শ্রমিকরা স্থানীয়দের জানায়, গাছ দুটি পাঁচ হাজার ৫০০ টাকায় চরবলেশ্বর গ্রামের বাবুল নামের এক ব্যক্তি দেলোয়ার হোসেন ফকিরের কাছ থেকে কিনেছেন। যদিও গাছ দুটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা।

এদিকে গোপনে সরকারি গাছ বিক্রির কথা আশপাশে জানাজানি হলে শ্রমিকদের দ্রুত কাটা গাছ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন দেলোয়ার হোসেন ফকির।

এ বিষয়ে ডাব্লিউএমসির সদস্য আব্দুল বারেক হাওলাদার বলেন, ‘আমিও পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য। অথচ আমাদের না জানিয়ে দেলোয়ার হোসেন ফকির গোপনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি গাছ বিক্রি করেছেন। এর আগেও তিনি চরবলেশ্বর ছোরের খালের স্লুইস গেট এলাকা থেকে প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের আরো পাঁচটি সরকারি গাছ বিক্রি করেছেন।’ 

এ ব্যাপারে ৪ নম্বর চরবলেশ্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, ‘গাছ বিক্রির বিষয়ে আমাদের আগে তিনি কিছুই জানাননি।’

বালিপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘এ বিষয়ে তিনি আমাদের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নেননি।’

অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ফকির বলেন, ‘জমি দানকারী কৃষ্ণ ভক্তের হয়ে আমি ওই গাছ বিক্রি করেছি। গাছ বিক্রির টাকা তাঁকে দিয়ে দেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণ ভক্তের স্ত্রী বলেন, ‘স্লুইস গেট করার জন্য আমরাই ওখানে জমি দান করেছি। গাছগুলোর বেশির ভাগই আমাদের রোপণ করা। দেলোয়ার হোসেন ফকির কখনো আমাদের, কখনো কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙিয়ে গাছগুলো বিক্রি করছেন। তিনি আমাদের কোনো টাকা-পয়সাও দেননি।’

পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইদ আহম্মদ বলেন, ‘গাছ বিক্রির ব্যাপারে আমরা তাঁকে কোনো অনুমতি দিইনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙিয়ে সরকারি গাছ বিক্রির প্রমাণ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


মন্তব্য