kalerkantho


সরকারি চিকিৎসকদের পদোন্নতিতে অনিয়ম

বঞ্চিতরা ক্ষুব্ধ হতাশ চাকরি ছাড়ারও চিন্তা

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



বঞ্চিতরা ক্ষুব্ধ হতাশ চাকরি ছাড়ারও চিন্তা

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মামুন ইবনে আমিন। প্রায় ৩৪ বছর ধরে তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে চাকরি করেছেন।

সাড়ে সাত বছরের বেশি ওই পদে আছেন। মাস দেড়েক পর আগামী ২৩ নভেম্বর চিকিৎসক হিসেবে তাঁর সরকারি চাকরির মেয়াদ শেষ হবে। পরদিন তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাবেন।

ডা. মামুন ইবনে আমিন আশায় ছিলেন অবসরে যাওয়ার আগে হতে যাওয়া ডিপিসিতে (বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি) সিনিয়র কনসালট্যান্ট থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদোন্নতি পাবেন। ইএনটি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য গত বছর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত জ্যেষ্ঠতার তালিকায়ও তিনি প্রথম পাঁচজনের মধ্যে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর পদোন্নতি জোটেনি। যদিও সম্প্র্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ডিপিসির সুপারিশে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, কলেজ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত ইএনটি বিভাগে ১৭ জন চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। এর মধ্যে এক নম্বরে আছেন ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী। পদোন্নতি পাওয়ার আগে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সহকারী অধ্যাপক পদে ছিলেন।

অধিদপ্তরে ওএসডি পদে থাকা সহকারী অধ্যাপক ডা. প্রণব কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে কাজ (সংযুক্ত) করছিলেন। পদোন্নতির পর তাঁকে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে পদায়ন (বদলি) করা হয়েছে।

বিসিএস ক্যাডার (স্বাস্থ্য) হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় সরকারি চিকিৎসকদের একটি কোড নম্বর দেওয়া হয়। জ্যেষ্ঠতায় এগিয়ে থেকেও পদোন্নতিবঞ্চিত সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মামুন ইবনে আমিনের কোড নম্বর ৩১৭৭৯। আর সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়া ডা. প্রণব কুমার চৌধুরীর কোড নম্বর ৩৭৯৪৩। সে হিসাবে ডা. প্রণবের চেয়ে ছয় হাজার ১৬৪ জনের আগে ছিলেন ডা. মামুন। শুধু ডা. প্রণবই নন, ইএনটিতে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া বাকি ১৬ জনও ডা. মামুনের জুনিয়র। সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে এমন চিকিৎসকও আছেন, যাঁর কোড নম্বর এক লাখ ১২ হাজারেরও পরে।  

পদোন্নতিবঞ্চিত হওয়ার ঘটনা আরো আছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের (চমেক) সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. নুর হোসাইন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ৮০ জনের একটি তালিকা করা হয় সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য। এই তালিকায় তিনি ছিলেন ২৪ নম্বরে।  

নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক হতে ন্যূনতম তিন বছরের অভিজ্ঞতা এবং তিনটি পাবলিকেশন থাকতে হয়। জ্যেষ্ঠদেরই আগে পদোন্নতি পাওয়ার কথা।  

জানা যায়, ১৪টি জাতীয় ও তিনটি আন্তর্জাতিক জার্নালে ডা. মো. নুর হোসাইনের পাবলিকেশন (প্রকাশনা) রয়েছে। কিন্তু গত ২৯ আগস্ট পদোন্নতির তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় তাঁর পদোন্নতি হয়নি। যদিও পদোন্নতি পেয়েছেন একই হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ডা. মো. সাইফুল হক, যাঁর জাতীয় জার্নালে তিনটি প্রকাশনা আছে। অভিযোগ উঠেছে ডা. নুর হোসাইনের ১৭টি পাবলিকেশনের মধ্যে মাত্র একটি দেখানো হয়েছে।

ডা. নুর হোসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তালিকায় আমার নাম ২৪ নম্বরে থাকলেও বাদ পড়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক। জুনিয়ররা যদি সিনিয়রদের ডিঙিয়ে আগে পদোন্নতি পেয়ে যায় তাহলে আমরা কী করব। এত কাজ করার পরও মূল্যায়িত হলাম না। খারাপ লাগছে। এটা মন্ত্রণালয় চাইলে রিভিউ করে পদোন্নতির ব্যবস্থা নিতে পারে। ’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পার-১ অধিশাখার গত ২৯ আগস্টের এক প্রজ্ঞাপনে চমেকের সার্জারি বিভাগ থেকে ৩৮ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন যুগ্ম সচিব মইনউদ্দিন আহমেদ। এতে দেখা যায়, পদোন্নতি পাওয়া ডা. সাইফুলের কোড নম্বর ৪৩৮৭৭। তিনি অধিদপ্তরের করা সিনিয়রিটি তালিকায় ৬৪ নম্বর সিরিয়ালে ছিলেন। ওই তালিকায় ৫৬ নম্বরে ছিলেন সার্জারি বিভাগের আরেক সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাসুদ করিম। তিনিও সহযোগী অধ্যাপক হয়েছেন। তাঁর কোড নম্বর ৪৩৭৫৮। অথচ ডা. নুর হোসাইনের কোড নম্বর ৪৩৭৪৮।   

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. আবদুর রব। তিনি পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা। সারা দেশে পদোন্নতি পাওয়া মেডিসিন বিভাগের ৪৪ জনের মধ্যে ৩১ জনই তাঁর জুনিয়র। কিন্তু রবের পদোন্নতি জোটেনি।

ডা. রব বলেন, ‘এবার সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়া ৪৪ জনের মধ্যে ৪৩ জন ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা। অর্থাৎ ওই ৪৩ জন সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। একমাত্র পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে একজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। যাঁরা পদোন্নতি পেয়েছেন এর মধ্যে ৩১ জন আমার জুনিয়র। সহকারী অধ্যাপকের ষষ্ঠ গ্রেড থেকে সরাসরি চতুর্থ গ্রেডে সহযোগী অধ্যাপক হয়ে গেছেন। এটা নিয়ম মানা হয়নি। জ্যেষ্ঠতা না মেনে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। মানলে আমার মতো আরো সিনিয়ররাও পদোন্নতি পেতেন। সহযোগী অধ্যাপক পদে সিনিয়র হলেও পদোন্নতি না পাওয়াটা আমার জন্য দুঃখের বিষয়। ’

হতাশা জানিয়ে ডা. রব বলেন, ‘মেডিসিনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে আরো অনেককে পদোন্নতি দিয়ে সহযোগী অধ্যাপক করা হয়েছে। এমনও হয়েছে যে কলেজে পড়িয়েছেন তাঁরাও সহযোগী অধ্যাপক হয়ে গেছেন। আর শিক্ষকরা এখনো সিনিয়র কনসালট্যান্ট অথবা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে রয়ে গেছেন। পদোন্নতি পাননি। এই পদোন্নতিতে শিক্ষকদের কেউ কেউ পিছিয়ে পড়েছেন। ওই শিক্ষকরা স্নাতকোত্তরে যাঁদের পড়িয়েছেন তাঁরাই এখন পদোন্নতি পেয়ে শিক্ষকদের পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন। ’

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ডা. মোহাম্মদ জলিল ১০ বছর জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদে ছিলেন। ১৪ মাস আগে তিনি সিনিয়র কনসালট্যান্ট হয়েছেন কার্ডিওলজি বিভাগে। সম্প্রতি ৩১ জনের পদোন্নতি হয়েছে এ বিভাগে। ডা. জলিল চাকরিতে সিনিয়র হওয়ায় তিনি চতুর্থ স্কেলে বেতন-ভাতাদি পাচ্ছেন। কিন্তু পদবি (সহযোগী অধ্যাপক) পরিবর্তন হয়নি। সহযোগী অধ্যাপক পদোন্নতি দেওয়া হলে তিনি চতুর্থ গ্রেডেই বেতন-ভাতা আগের মতোই পেতেন। কিন্তু সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পদোন্নতি জোটেনি। এই বিভাগে যাঁদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে ছয়-সাতজন তাঁর সিনিয়র। বাকিরা সবাই তাঁর জুনিয়র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক জানান, জেনারেল হাসপাতালে সিনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত এক চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে সহকারী অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) থাকাকালীন ক্লাসে যাঁদের পড়িয়েছেন তাঁদের কয়েকজন সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ শিক্ষক হিসেবে ওই সিনিয়র কনসালট্যান্টের পদোন্নতি হয়নি। তিনি অষ্টম বিসিএসের কর্মকর্তা। সহযোগী অধ্যাপক পদে যাঁদের পদোন্নতি হয়েছে তাঁদের মধ্যে অনেকে ২০ ও ২২তম বিসিএসের কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক সিনিয়র চিকিৎসক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ ও ওয়ার্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সহযোগী অধ্যাপকের চলতি দায়িত্বে আছেন। আশায় ছিলেন এবার পদোন্নতি পাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পদোন্নতি হয়নি, যদিও ওই বিভাগে তাঁর অনেক জুনিয়রেরও পদোন্নতি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সিনিয়র চিকিৎসক বলেন, ‘২০০৩ সাল থেকে আমি সিনিয়র কলসালট্যান্ট পদে ছিলাম। ২০১০ সালে সহযোগী অধ্যাপকের চলতি দায়িত্বে এখানে আসি। প্রায় ১৫ বছর ধরে আমি একই পদে। ২০১৬ সালে সিনিয়রিটির তালিকায় আমি তিন নম্বরে ছিলাম, কিন্তু পদোন্নতি হয়নি। আর দুই বছর চাকরি আছে। আমার অনেক জুনিয়রও অনেক আগে পদোন্নতি পেয়েছেন। চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার কথা ভাবছি। জুনিয়ররা যদি সিনিয়র হয়ে যান তাহলে আমি কিভাবে চাকরি করব? পদোন্নতি না পেলেও তো একটা আত্মসম্মানবোধ আছে। ’

একই ক্ষোভ চমেক নিউরো মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল আলম খন্দকারের। এবার এই বিভাগ থেকে ১৬ জন চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক হয়েছেন।

ডা. মো. মাহবুবুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সহযোগী অধ্যাপক হওয়া ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জনই আমার জুনিয়র। ২০১১ সালে আমি সহকারী অধ্যাপক হই। জুনিয়ররা সহযোগী অধ্যাপক হয়ে এখন আমার থেকে এগিয়ে গেছেন। ’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদোন্নতিবঞ্চিত চিকিৎসকরা না পারছেন বলতে, না পারছেন সহ্য করতে। সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও পদোন্নতি না পাওয়ায় অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। কেউ কেউ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিচ্ছেন।

সিনিয়র চিকিৎসকদের ডিঙিয়ে জুনিয়রদের পদোন্নতি (সহযোগী অধ্যাপক) বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুর রশিদ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি জানি না। এই বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। ’

একই বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ফয়েজ আহম্মদ বলেন, ‘প্রমোশন পেতে হলে অনেক কন্ডিশন থাকে। যাঁরা সব শর্ত পূরণ করেছেন তাঁদের পদোন্নতি হয়েছে। আমি মনে করি পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো সিনিয়রিটি লঙ্ঘিত হয়নি। পদোন্নতি দেওয়ার কাজ মন্ত্রণালয় এককভাবে করেনি। এটা ডিপিসির মাধ্যমে হয়েছে। এতে অর্থ, জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও ছিলেন। তার পরও সব শর্ত থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি বাদ পড়েন, সে ক্ষেত্রে পরবর্তী ডিপিসিতে তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা  হবে বলে মাননীয় মন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। ’

আবার পদোন্নতিপ্রাপ্তদের পদায়নের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিএমএ ও স্বাচিপ (স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ) নেতা ও তাদের সমর্থিত পদোন্নতিপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের দূরে বদলি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে তাঁদের কাউকে কাউকে রাঙামাটি, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন কলেজে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ও স্বাচিপ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির পর পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু অনিয়ম হয়েছে। এতে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন আমলা জড়িত। তাঁরা এসব অনিয়ম করেছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পদ থাকা সত্ত্বেও আমাদের বিএমএ ও স্বাচিপের কয়েকজন নেতা ও সমর্থককে বদলি করা হয়েছে অন্যত্র। আর যাঁরা ড্যাব (বিএনপি সমর্থিত) ও এনডিএফের (জামায়াত সমর্থিত) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন তাঁদের কাউকে দূরে পদায়ন করা হয়নি। তাঁরাই (ড্যাব ও এনডিএফ) এখন সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। ’

স্বাচিপ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিকিৎসক নেতা আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, পদোন্নতিতে কিছু অনিয়ম হয়েছে। ডিজি (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) অফিস থেকে কারো কারো (চিকিৎসক) তথ্য যথাযথভাবে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। যেমন একজনের ছয়-সাতটি প্রকাশনা আছে। তালিকা পাঠানোর সময় একটি পাঠানো হয়েছে। এতে ওই চিকিৎসকের পদোন্নতি হবে না। যাঁরা এ রকম কাজ করেছে তাদের গাফিলতির কারণে কিছু অনিয়ম হয়েছে।

 

 


মন্তব্য