kalerkantho


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার যাচ্ছেন কাল, সই হবে দুটি এমওইউ

সু চির সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা

ওমর ফারুক   

২২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার যাচ্ছেন কাল, সই হবে দুটি এমওইউ

ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল আগামীকাল সোমবার মিয়ানমার যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে বৈঠক করবেন সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ‘সিকিউরিটি ডায়ালগ’ এবং ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস’ সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্যাতনের মুখে অল্প সময়ের মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাংলাদেশ। দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে আলোচনার সময় প্রধান এজেন্ডা হিসেবে থাকবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান। বাংলাদেশ জোর দাবি জানাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার জন্য। এ ছাড়া সীমান্ত সমস্যা, মাদকসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাঁর সঙ্গে দেখা হলেও রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার আহ্বান জানাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশে কী ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা-ও তুলে ধরা হবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে। বাংলাদেশ যে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে চলতে চায় সে বার্তাও দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমার সরকারের আমন্ত্রণে আগামীকাল দুপুরে একটি বিমানে করে মিয়ানমার যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১২ সদস্যর প্রতিনিধিদল। নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। প্রতিনিধিদলে আছেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, স্বরাষ্ট্রসচিব (জননিরাপত্তা বিভাগ) মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, সচিব (সুরক্ষা সেবা বিভাগ) ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) শামছুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব হারুনুর রশীদ বিশ্বাস, উপসচিব আবু হেনা মোস্তফা জামান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পিআরও শরীফ মাহমুদ অপু।  

সূত্র মতে, প্রতিনিধিদল প্রথমে বিমানযোগে ইয়াঙ্গুনে যাবে। বিকেল ৫টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর পর বিমানযোগে নেপিডো যাবেন প্রতিনিধিরা। রাতে তাঁরা নেপিডোতে অবস্থান করে পরদিন মঙ্গলবার সকালে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। এর পর সেখান থেকে তাঁরা আবার ইয়াঙ্গুন হয়ে ২৫ অক্টোবর দেশে ফিরবেন।

যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়ে আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান মিয়ানমারে যাওয়ার পর এ দুটি সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার কথা রয়েছে। চূড়ান্ত হওয়া সমঝোতা স্মারকের মধ্যে একটির নাম ‘সিকিউরিটি ডায়ালগ’। অন্যটি ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস। ’ সূত্র মতে, গত ৩ অক্টোবর মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী ঢাকায় এসে বৈঠক করার সময় এসব সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুই দেশের নিরাপত্তা বিষয়ে ‘সিকিউরিটি ডায়ালগ’ নামের এমওইউ করার জন্য দুই দেশের সরকার বছরখানেক আগে সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর বাংলাদেশের তরফ থেকে একটি খসড়া করে মিয়ানমার সরকারের কাছে পাঠানো হয়। মিয়ানমার সরকার কিছু বিষয়ে সংশোধনী দিয়ে খসড়াটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠায়। বাংলাদেশ ওই স্মারকে আরো কিছু বিষয় পরিমার্জন করে সেটি পাঠায় মিয়ানমারের কাছে। এভাবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পর মাস তিনেক আগে সেটি চূড়ান্ত করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীপর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ভারতের সঙ্গে এ ধরনের সমঝোতা রয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিয়মিত বৈঠক হয়ে থাকে। এ বৈঠকটি কখনো বাংলাদেশে হয় কখনো ভারতে হয়। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস (বিএলও) স্থাপনের জন্য আরেকটি সমঝোতা স্মারকের খসড়াও চূড়ান্ত হয়ে আছে। এই স্মারকটি সই হওয়ার পর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় লিয়াজোঁ অফিস করা হবে। সীমান্তে কোনো পরিস্থিতির তৈরি হলে দুই দেশের কর্মকর্তারা এই লিয়াজোঁ অফিসে বৈঠক করে সমাধানে পৌঁছাবেন। এ ছাড়া লিয়াজোঁ অফিসের মাধ্যমে সীমান্তের অনেক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

 


মন্তব্য