kalerkantho


জলাবদ্ধতা, কাদা ধুলায় নাকাল

আহমেদ উল হক রানা পাবনা   

২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



জলাবদ্ধতা, কাদা ধুলায় নাকাল

পাবনা পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির। কিন্তু পৌরবাসী নিত্য নাকাল হচ্ছে ধুলা, কাদা আর পানিতে।

এমন দুর্ভোগে এক রকম অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে তারা। শুষ্ক মৌসুমে শহরবাসীর সঙ্গী অস্বাভাবিক ধুলা। আর সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানি ডিঙিয়ে চলতে হয় তাদের। বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থা চলে আসছে। এ নিয়ে লেখালেখি, চিঠি চালাচালি কম হয়নি। এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরে জলাবদ্ধতা আর ধুলার অত্যাচার বেড়েছে পাল্লা দিয়ে।

চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে পাবনা পৌরবাসী জলাবদ্ধতার কাছে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় জিম্মি হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টির ফলে পাবনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দোকান, বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে।

বাধ্য হয়ে সড়কের মাঝে সৃষ্টি হওয়া বড় গর্তে বাঁশ গেড়ে সতর্ক চিহ্ন দিতে হয়েছে এলাকাবাসীকে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাবনা পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে মহল্লা রয়েছে ৪২টি। এসব মহল্লাসহ পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভার নালা রয়েছে ১৯১ কিলোমিটার। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের এসব নালার মুখ ইছামতী নদীর সঙ্গে যুক্ত। দখল, দূষণ আর নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পৌরসভার নালা দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হয়ে এখন আর ইছামতীতে পড়ে না। নদীর তলদেশ ভরাটের পাশাপাশি পৌরসভার নালাগুলোও ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে পৌরসভার সব সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়।

পাবনা পৌরসভার প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোড, শহরের প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক আওরঙ্গজেব রোড, শহর থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত আতাইকুলা রোড, বড় বাজার, দিলালপুর, কফিল উদ্দিন পাড়া, শান্তিনগর, বেলতলা সড়ক, শালগাড়িয়া, শিবরামপুর, রাঘবপুরসহ প্রায় সব মহল্লার মানুষ বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় অতিষ্ঠ।

দিলালপুর মহল্লার বাসিন্দা ওয়াহিদুর রহমান জানান, ‘অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে আকাশে মেঘ দেখলেই আমরা শঙ্কিত হয়ে পড়ি। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো মহল্লা ডুবে যায়। রাস্তায় জমে থাকা নোংরা পানি ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে। একবার রাস্তায় পানি জমলে তা নামতে সময় লাগছে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা। বৃষ্টি হলে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে কেউ বের হন না। ’

শালগাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম রহমান বলেন, আগে তাঁদের মহল্লায় কিছু বড় পুকুর ছিল। এ ছাড়া মহল্লার পেছনে বিশাল বিল এলাকায় পানি গড়াত। বর্তমানে পুকুরগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছে। বিল এলাকাটিও ভরাট করে বাড়ি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন মেরামত না করায় রাস্তা ও নালা ভেঙে গেছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও শালগাড়িয়া বিল এলাকায় এখনো পানি জমে জলাবদ্ধতায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী সাজিদ সুজন বলেন, ‘বর্ষার মৌসুম এলেই আমাদের চরম সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক আওরঙ্গজেব রোডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় ক্রেতারা আসে না। ফলে আমাদের বেচাকেনাও কম হয়। নিউ মার্কেটের সামনের রাস্তাটি পিচঢালা পথ না মাটির রাস্তা বোঝা মুশকিল। ’

নিউ মার্কেট কসমেটিক ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ সরকার জানান, ‘নিউ মার্কেটের সামনের রাস্তায় হাঁটুপানি থাকলে, আমরা ক্রেতা পাব কোথায়। আমাদের কথা কেউ ভাবছেন না। এই জলাবদ্ধতার কারণে গেল ঈদেও ভালো ব্যবসা হয়নি। ’ ক্ষোভের সঙ্গে তিনি জানান, বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি খানাখন্দে ভরা সড়কগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে অসহনীয় ধুলার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য করা দায় হয়ে পড়ে।

পাবনা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তাবিবুর রহমানের কাছ থেকে জানা গেল, পৌর এলাকায় মোট নালা রয়েছে ১৯১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩০ কিলোমিটার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সড়কের পাশে এসব নালার সর্বশেষ সংস্কার ও মেরামতকাজ করা হয় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে। তিনি আরো জানান, চলতি বছরে অন্য বছরগুলোর তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় দেশের অন্য স্থানগুলোর মতো পাবনায়ও একটু বেশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। বিভিন্ন সড়ক ও নালা মেরামত, সংস্কার এবং নতুন নতুন নালা তৈরির জন্য দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থার কাছে ইতিমধ্যেই প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অর্থপ্রাপ্তিসাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব নালা মেরামত ও সংস্কার করা হবে।

জলাবদ্ধতা ও ধুলায় দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে পাবনা পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সারা দেশের মতো পাবনায়ও ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ার কারণেই এমনটি হয়েছে। তার পরেও আমি প্রত্যেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের বলেছি, পানিপ্রবাহের জায়গা এবং ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখতে, যেন পানি দ্রুত বের হয়ে যায়। ’ তিনি জানান, আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে পৌরবাসী যাতে ধুলায় কষ্ট না পায় সে জন্য ভেঙে যাওয়া রাস্তা সংস্কার ও মেরামতের জন্য বিভিন্ন স্থানে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য