kalerkantho


মাইগ্রেন রোধে অ্যান্টিবডি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মাইগ্রেন রোধে অ্যান্টিবডি

হয়তো অনেকেই ভুগছে মাইগ্রেনের সমস্যায়। এই মাইগ্রেন শুধু সামান্য মাথা ব্যথা নয়, এই ব্যথা খুবই তীব্র এবং সহজে ছাড়তেও চায় না। এ বিষয়ে সুখবর দিয়েছে ব্রিটেনের কিংস কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা মাইগ্রেনের একটি চিকিৎসা উদ্ভাবন করেছেন। এর ফলে যারা বহুদিন ধরে এই যন্ত্রণায় ভুগছে তারা হয়তো মুক্তি পেতে পারে।

দুটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় মাইগ্রেনের এই চিকিৎসায় বড় রকমের সাফল্য পাওয়ারও দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলেছেন, একটি পরীক্ষায় মাইগ্রেন ৫০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। শুধু মাইগ্রেন প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে করা চিকিৎসা এটিই প্রথম। গবেষকরা বলছেন, এ সময় মস্তিষ্কে বিভিন্ন কেমিক্যালের কার্যক্রম পরিবর্তনের জন্য অ্যান্টিবডি ব্যবহার করা হয়। তবে তাঁরা বলছেন, এই চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদি কী প্রভাব, তা জানতে আরো গবেষণার প্রয়োজন।

গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের একটি রাসায়নিক পদার্থ, যা সিজিআরপি নামে পরিচিত, সেটি এই মাইগ্রেনের জন্য দায়ী।

এই কেমিক্যালকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করতে কাজ করছে ওষুধ কম্পানিগুলো। এখন কিংস কলেজ হাসপাতালে এ রকম দুটি অ্যান্টিবডির ওপর পরীক্ষা চালানো হলো।

একটি অ্যান্টিবডি এপিসডিক মাইগ্রেন আছে এ রকম প্রায় এক হাজার মানুষের শরীরে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। পরীক্ষার আগে তাদের মাইগ্রেন ছিল মাসে গড়ে প্রায় আট দিন। তাদের শরীরে এই অ্যান্টিবডির ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর দেখা গেছে মাইগ্রেনে ভোগার দিন অর্ধেক কমে গেছে। আরেকটি অ্যান্টিবডি ক্রনিক মাইগ্রেনে ভুগছে এ রকম এক হাজার এক শরও বেশি রোগীর শরীরে ব্যবহার করা হয়। দেখা যায়, তাদের ৪১ শতাংশের মাইগ্রেনে ভোগা দিনের সংখ্যা অর্ধেক কমে গেছে।

গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন যিনি, সেই প্রফেসর পিটার গোডসবাই বলেছেন, এটি একটি বড় ঘটনা, কারণ এ থেকে মাইগ্রেন ও এর চিকিৎসা সম্পর্কে আরো ভালো করে জানা যাচ্ছে। এতে মাইগ্রেনের সময় ও তীব্রতা দুটিই কমে গেছে। তিনি জানান, চিকিৎসার পর ৫ শতাংশ মানুষ এই যন্ত্রণা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেয়েছে।

তবে অনেকেই বলছে, এসব অ্যান্টিবডি ব্যবহারের অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। সে কারণে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুবই জরুরি। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য