kalerkantho


চলমান শৈত্যপ্রবাহ

বাড়ছে রোগীর সংখ্যা,শ্রমিক ছিন্নমূলের কষ্ট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাড়ছে রোগীর সংখ্যা,শ্রমিক ছিন্নমূলের কষ্ট

চলমান শৈত্যপ্রবাহে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। গতকাল শুক্রবারও বিভিন্ন জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে অংসখ্য রোগী। এর মধ্যে শিশুর ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেশি। অব্যাহত কনকনে শীত ও উত্তরের হাওয়ায় আরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষ। বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিনমজুর-ছিন্নমূলদের দুর্ভোগ বেশি। তারা কাজে নামতে না পেয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে।

আজ শনিবার সারা দেশ আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক এবং শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল বদলগাছীতে ৬ দশমকি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে  পারে।

রাঙামাটি, সীতাকুণ্ড, হাতিয়া, চাঁদপুর, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

এদিকে গতকাল ঘন কুয়াশার কারণে নৌ-সড়ক-আকাশ পথে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ঘনকুয়াশায় গতকাল ভোররাত থেকে টানা সাত ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ ছিল। ফলে দুই পারে আটকা পড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ সহস্রাধিক গাড়ি। মহাসড়কগুলোতে কুয়াশার মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করেছে। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

নীলফামারীতে শীতে আরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষ। গতকাল সকালে জেলায় তাপমাত্রা ছিল সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস। শহরের শাহীপাড়ার জয়তুন নেছা (৬৫) নামে এক গৃহকর্মী  বলেন, ‘এইলা জারোত (শীত) কাম করা কঠিন হইচে বাহে।’  শ্রমজীবী হাওয়া বিবি (৬২) বলেন, ‘আগুনের পাশোত বসি থাকিও জার যাছে না। মানষির বাড়িত কাম করিম কেমনে।’

রিকশাচালক মিজানুর রহমান (৪৫) বলেন, ‘মোর কোন উপায় নাই, রিকশা ধরি রাস্তাত আসিনু। সারা দিন ঘুরি বেড়ে এক শ টাকাও কামাই হয় নাই।’ শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে কথা হয় রিকশাচালক শরিফুল ইসলামের সঙ্গে (৩২)। তিনি বলেন, ‘শহরোত মানষি নাই, হামার কামাইও নাই।’

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ঘনকুয়াশায় গতকাল ভোররাত থেকে টানা সাত ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ ছিল। এ সময় মাঝনদীতে চারটি ফেরি আটকা পড়ে। ফলে দুই পারে পারাপারের অপেক্ষায় থাকে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ সহস্রাধিক গাড়ি। ঘাট থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কুয়াশা কমে গেলে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পুনরায় ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়।

রাজবাড়ীর আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. নবী হোসেন খান জানান, যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৌলতদিয়া ঘাটগামী অপচনশীল পণ্যবাহী ৫০-৬০টি ট্রাক গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ওই ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে।

তীব্র শীতে রাজবাড়ীতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। গতকাল রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া-ফরিদপুর সড়কে কুয়াশায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। ট্রাকচালক আব্দুল আলিম বলেন, ‘জীবিকার জন্য তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে ট্রাক নিয়ে বের হতে হয়েছে।’

ফেরিওয়ালা কহিনুর মিয়া ও শাহিনুর মোল্লা বলেন, ‘ফেরি করে পণ্য বিক্রি না করলে খাব কী। কুষ্টিয়া থেকে ট্রেনে রাজবাড়ী রেলস্টেশনে এসেছি। এসব মুখরোচক খাবার শিশুরা বেশি খায়। কিন্তু আজ শিশুদের দেখাই পাইনি।’

শীতে নওগাঁর জনজীবন আরো স্থবির। এর মধ্যে শ্রমজীবী, কর্মজীবী মানুষ রয়েছে বেশি বিপাকে। গতকাল সকালে নওগাঁয় সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় কাজ না থাকায় হাতগুটিয়ে বসে ছিলেন নিম্ন আয়ের মানুষ। আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে চাষিরা। ঘন কুয়াশার কারণে বেশির ভাগ এলাকায় বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। গতকাল সকালে চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ছিল ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 


মন্তব্য