kalerkantho


শরীয়তপুর-গোপালগঞ্জে দুই ঘটনা

চোখ তুলে হত্যা ও দাহ্য পদার্থ ঢেলে চোখ নষ্ট

শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চোখ তুলে হত্যা ও দাহ্য পদার্থ ঢেলে চোখ নষ্ট

শরীয়তপুরের সদর উপজেলার পূর্ব চরোসোন্দি গ্রামে ডাকাত সন্দেহে দেলোয়ার হোসেন খান (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও চোখ উপড়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী। আর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে আবু বক্কর শেখ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে চোর অভিহিত করে দাহ্য পদার্থ ঢেলে দুই চোখের দৃষ্টি নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

শরীয়তপুরে নিহত ব্যক্তি ডামুড্যা উপজেলার দশমনতারা গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেন খানের ছেলে। গতকাল শনিবার ভোররাতে সদর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার উপপরিদর্শক গুলজার আলম বলেন, ‘সদর উপজেলার পূর্ব চরোসোন্দি গ্রামে ডাকাতি হচ্ছে খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে ওই গ্রামে যাই। গ্রামের একটি বাগানে রক্তাক্ত এক ব্যক্তির দেহ পড়ে থাকতে দেখি। বাগানটি গ্রামবাসী ঘিরে রেখেছিল। তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হয়। সকালের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।’ গুলজার আলম বলেন, ‘ওই ব্যক্তির দুটি চোখ উৎপাটন করা ছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে গুরুতর আহত আবু বক্কর শেখ উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের ছোট খারকান্দি গ্রামের আব্দুর রহমান শেখের ছেলে। শুক্রবার রাতে তাঁকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সকালে ব্র্যাকের এসিড সারভাইভার সোসাইটির উদ্যোগে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আবু বক্কর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে প্রতিপক্ষ তারা মিয়ার ছেলে নয়ন শেখ পাশের বাড়ি ফজর আলী শেখের বাড়িতে চোর এসেছে বলে আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জুলু ভুইয়া মেম্বারের উপস্থিতিতে নয়ন শেখ, তারা শেখ, আলম মিয়া, ফজর আলীসহ কয়েকজন আমাকেই চোর বলে মারপিট করে এবং মুখে এসিড ঢেলে দিয়ে সারা রাত ওই বাড়িতে আটকে রাখে। এদের সঙ্গে আমার জমিসংক্রান্ত ঝামেলা থাকায় তারা এই প্রতিশোধ নিয়েছে।’

আবু বক্করের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, ‘শুক্রবার সকালের দিকে জুলু মেম্বারসহ এলাকার মাতবররা আমার স্বামীকে বাড়িতে নিয়ে আসে। গ্রামের বাইরে চিকিৎসা না নিতে বলে ভয়ভীতি দেখায়। তারা  গ্রাম্য একজন চিকিৎসক এনে কিছু ওষুধপথ্যও দিয়ে যায়। অবস্থা খারাপ হওয়ায় শুক্রবার বিকেলে স্বামীকে কাশিয়ানী থানায় নিয়ে যাই। পুলিশের পরামর্শে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা গোপালগঞ্জ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার স্বামী চোর নয়, তাকে ফাঁসানো হয়েছে।’

এ ব্যাপারে তারা শেখের স্ত্রী সাবিনা বেগম বলেন, ‘আবু বক্কর এলাকায় একজন চোর হিসেবে পরিচিত। আমার ছোট দেবর নূরু শেখ বাড়ি থাকে না, এই সুযোগে সে চুরি করতে আসে। ধরা পড়লে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে আহত হয়েছে।’ 

মেম্বার জুলু ভুইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে আমাকে গ্রামের আহাদ মিয়া নামে একজন ফোন করে বলেন, তারা শেখের বাড়িতে চোর ধরা পড়েছে। আমি গিয়ে দেখি ওর হাত-পা বাঁধা। তার আগে ওকে মারপিট করা হয়েছে বলে শুনেছি।’

ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির কাশিয়ানী উপজেলার ফিল্ড অর্গানাইজার মিলন কুমার বলেন, আবু বক্কর শেখকে ঢাকার মিরপুরের সিআরপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ফারুক আহম্মেদ বলেছেন, ধারণা করা হচ্ছে, আবু বক্করের মুখে দাহ্য জাতীয় তরল কোনো পদার্থ ঢেলে দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁর মুখ কালো বর্ণ ধারণ করেছে এবং চোখ দুটি নষ্ট হয়ে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

কাশিয়ানী থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান বলেন, গ্রামের লোকজন তাঁকে জানিয়েছেন, আবু বক্কর চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েন। এ সময় উত্তেজিত জনতা মারপিট করেছে। এ ব্যাপারে কেউ এখনো কোনো অভিযোগ করেনি, অভিযোগ করলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য