kalerkantho


রাঙ্গুনিয়ার ‘গরিবের এমপি’ মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাঙ্গুনিয়ার ‘গরিবের এমপি’ মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আর নেই

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউসুফ (৬৯) আর নেই। তিনি খুবই সাধারণ জীবনযাপনের জন্য ‘গরিবের এমপি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। গতকাল রবিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। চিরকুমার এ রাজনীতিক মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অচেতন অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন।

মো. ইউসুফের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে হারিয়েছে।’

২০০১ সালে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রায় বিনা চিকিৎসায় রাঙ্গুনিয়ার ভাইয়ের বাড়িতে শয্যাশায়ী ছিলেন মো. ইউসুফ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এ বছরের ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগদলীয় সাবেক এই সংসদ সদস্যের যথাযথ চিকিৎসার নির্দেশ দেন। এরপর তাঁকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে আসা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মরহুমের ছোট ভাই মোহাম্মদ সেকান্দর সাংবাদিকদের জানান, গতকাল বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মো. ইউসুফের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে স্বজনরা সড়কপথে রওনা দেয় গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার উদ্দেশে। আজ বাদ জোহর রাঙ্গুনিয়া হাই স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।   

বিভিন্ন কারণে সবার কাছে সম্মানিত ও প্রিয় এই রাজনীতিকের মৃত্যুর খবরে বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকে তাঁকে এক নজর দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ছুটে যান। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালামসহ আওয়ামী লীগ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ইউসুফ দুই ভাই, দুই বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। রাঙ্গুনিয়া থানা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি থাকার সময় ১৯৬৯-৭০ সালে রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রসংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। স্বাধীনতার পর শ্রমিক রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর ১৯৭৪-৭৫ মেয়াদে দাউদ-ফোরাত জুট মিলে সিবিএ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাঙ্গুনিয়া থানার সাবেক সভাপতি ইউসুফ জেলা কমিটির সদস্য এবং উত্তর জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যও ছিলেন।

১৯৯১ সালে আটদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে চট্টগ্রাম-৭ আসনে নির্বাচন করেন মো. ইউসুফ। বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন ইউসুফ।


মন্তব্য