kalerkantho


অ্যামনেস্টির অভিযোগ

রোহিঙ্গা গ্রাম গুঁড়িয়ে সামরিক স্থাপনা গড়ছে মিয়ানমার

ফিরে যাওয়া আরো কঠিন হবে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা গ্রাম গুঁড়িয়ে সামরিক স্থাপনা গড়ছে মিয়ানমার

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গতকাল সোমবার সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, রাখাইন রাজ্যকে উদ্বেগজনক গতিতে সামরিকীকরণ করা হচ্ছে। কয়েক মাস আগে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে আগুন দিয়ে প্রথমে তাদের এলাকাছাড়া করা হয়। এরপর পরিত্যক্ত সেই গ্রামগুলো বুলডোজার দিয়ে নিশ্চিহ্ন করে মিয়ানমার। এখন সেখানেই সামরিক ঘাঁটি, হেলিপ্যাডসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবেলা বিভাগের পরিচালক তিরানা হাসান বলেন, ‘আমরা রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর নাটকীয় মাত্রায় ভূমি দখল দেখতে পাচ্ছি। যে নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে সেই বাহিনীই এখন সেখানে নতুন ঘাঁটি গড়ে তুলছে।’

তিরানা হাসান বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে এসব ঘটনা রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানজনকভাবে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা আরো দূরে ঠেলে দিচ্ছে। তারা কেবল তাদের বাড়িঘরই হারায়নি, বরং রোহিঙ্গাদের যে বৈষম্যের মাধ্যমে মিয়ানমারছাড়া করা হয়েছে, নতুন অবকাঠামোর মাধ্যমে তার স্থায়ী রূপ দেওয়া হচ্ছে।’

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং উপগ্রহচিত্র বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে যে রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা গ্রামগুলোতে গত জানুয়ারি মাস থেকে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ বেড়েছে। রোহিঙ্গাদের গ্রাম ও বসতির ওপর নতুন নতুন রাস্তা ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া আরো কঠিন হবে।

অ্যামনেস্টির সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে, বিধ্বস্ত রোহিঙ্গা গ্রামগুলো গত জানুয়ারি মাস থেকে বুলডোজার দিয়ে পুরোপুরি মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি আশপাশের গাছপালা ও শাকসবজি ক্ষেতও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পুরনো সেই বাড়ি ও গ্রামের অবস্থান এখন চিহ্নিত করাই দুষ্কর হবে। ভবিষ্যৎ তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতেই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সাক্ষ্য-প্রমাণ ধ্বংস করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিরানা হাসান বলেন, ‘গ্রামগুলো পুরোপুরি বুলডোজার দিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগের। সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন করে তোলার জন্যই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ওই অপরাধগুলোর প্রমাণ মুছে ফেলছে।’ উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে নতুন করে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরুর পর থেকে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে ঢুকেছে। এর আগে থেকেই বাংলাদেশে অবস্থান করছিল মিয়ানমারের তিন থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে এক লাখেরও কম রোহিঙ্গা অবশিষ্ট আছে।


মন্তব্য